নির্বাচনে জিততে রাজনৈতিক দলগুলি নানা ‘কৌশল’ অবলম্বন করে, জানা কথা। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে তেমনই এক পরিচিত কৌশল, ‘শত্রুতা’। অক্টোবরে ভোট ইজ়রায়েলে, সে দিকে চোখ রেখে নেতানিয়াহু দেশের নতুন প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করছেন তুরস্ককে। কিছু দিন আগে ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমান উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দাহার বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানে। ইজ়রায়েলি আধিকারিকদের মতে, সেখানে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলা হচ্ছিল। একে বড়সড় এক ‘হুমকি’ হিসেবে নেয় তেল আভিভ। তুরস্ককে শত্রু প্রতিপন্ন করার পিছনে মূলত দু’টি কারণ— এক, নেতানিয়াহুর ঘরের দুর্নীতি মামলার বিতর্ক এবং সরকারের ব্যর্থতা থেকে জনগণের মনোযোগ সরিয়ে নিজেকে ‘ইজ়রায়েলের রক্ষাকর্তা’ হিসেবে প্রমাণ করা, আর দুই, তুরস্কের কড়া ইজ়রায়েল-বিরোধী অবস্থান কাজে লাগিয়ে ভোটারদের মনে নিরাপত্তার ভয় তৈরি করা, তাতে দক্ষিণপন্থী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী ভোটব্যাঙ্ক একত্রিত হবে। সাম্প্রতিক জনমতে নেতানিয়াহু ও তাঁর দল পিছিয়ে রয়েছে। তাঁর এই কৌশল কাজ করবে কি না, সময়ই বলবে।
বিবাদী: তেল আভিভে বিলবোর্ডে ‘বিরোধী’ ভিড়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছবিও। ছবি: রয়টার্স।
কাজে আসবে সোনা
উত্তর আমেরিকা থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সোনা লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক (ডিএনবি)। কয়েক মাসের জটিল প্রক্রিয়ায় আমেরিকা ও কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা সরানো হয়। সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে এই মূল্যবান ধাতুর লেনদেন সহজ করতেই বর্তমানে সোনা রাখা হয়েছে ব্যাঙ্ক অব ইংল্যান্ডের হেফাজতে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে ডিএনবি-র স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলেও, এক দিকে আমেরিকার সঙ্গে কানাডার শুল্ক যুদ্ধ, অন্য দিকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির জেরেই এমন সিদ্ধান্ত— মনে করা হচ্ছে।
বিয়ে করুন ব্যাঙ্কে
চিনে কমছে বিয়ে। কমছে জন্মহার, কাজের মানুষও। ফলে, বিয়ে নথিভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রশাসন নথিভুক্তিকরণ কেন্দ্র বসাচ্ছে বিচিত্র সব জায়গায়। যেমন, শানডং প্রদেশে দম্পতিরা বিয়ে আইনি নথিভুক্ত করতে পারবেন প্রসূতি ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতালেও। বিয়েও হল, একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিয়ের আগের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সন্তানধারণ সংক্রান্ত পরামর্শও পাওয়া হল! ব্যাঙ্কেও মিলছে আইনি বিয়ের পরিষেবা, নৈশ ক্লাবেও বসছে বিয়ের দফতর। সেখানে এসে বিয়ে করলে ইলেকট্রনিক মিউজ়িক ফেস্টিভ্যালের পাস মিলবে বিনামূল্যে। বিমানবন্দরেও হচ্ছে বিয়ে নথিভুক্তির বন্দোবস্ত, প্লেনের ওঠানামা দেখতে দেখতে! মেট্রো স্টেশনে, ঐতিহাসিক ধর্মস্থানেও হচ্ছে আইনি বিয়ের ব্যবস্থা। টিপ্পনীতে সমাজমাধ্যম তোলপাড়। অনেকে বলছেন, বিয়ে-পরবর্তী জীবন সহজ করুক প্রশাসন, নয়তো বিবাহবিচ্ছেদের পরিষেবা এভারেস্টের চুড়োয় উঠিয়েও কিছু হবে না।
নকল মামদানি?
অবিকল নিউ ইয়র্কের মেয়র জ়োহরান মামদানি-র মতো দেখতে কে— এমনই এক প্রতিযোগিতা হল ওয়াশিংটন স্কোয়্যার পার্কের কাছে। প্রতিযোগী ন’জন। অনেকেরই মামদানির মতো গোঁফ-দাড়ি, কেউ কেউ তাঁর অনুকরণে পোশাকও পরেছিলেন। এক জন আবার পুরনো র্যাপ ভিডিয়োয় মামদানির সাজের অনুকরণে আদুড় গায়ে এপ্রন পরেছিলেন। শেষাবধি জিতলেন অ্যামাডেয়ো ফুসকা, পুরস্কার পেলেন ১০০ ডলার। মামদানি মেয়র পদে প্রচার চালানোর সময়ও এমন প্রতিযোগিতা হয়েছিল ব্রুকলিনে। রাজনীতিবিদকে নিয়ে এমন আয়োজন নিছক বিনোদন নয়, তরুণদের মধ্যে মামদানি কতখানি জনপ্রিয়, তার প্রমাণও।
জনপ্রিয়: জ়োহরান মামদানি।
দেশের মাটি
আগেকার যুগে লোকে মাটির নীচে পুঁতে রাখত ঘড়াভর্তি মোহর। সুইৎজ়ারল্যান্ডে সম্প্রতি দেখা গেল, লোকে মাটির নীচে পুঁতছে অন্তর্বাস! আসলে এ এক বিজ্ঞান-প্রকল্প। জ়ুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় ও এক কৃষি-গবেষণা সংস্থা বুঝতে চাইছিল মাটির চরিত্র, নাগরিক-স্বেচ্ছাসেবীদের তাই বলা হয়েছিল দু’হাজার সুতির অন্তর্বাস মাটিতে পুঁততে, সঙ্গে ১২ হাজার টি-ব্যাগও। দেশের প্রায় এক হাজার জায়গায় করা হল পরীক্ষা, মাটির ধরন অনুযায়ী জিনিসগুলির পচনের গতির ভিন্নতা পরীক্ষা করা হল। বাগানের মাটি, লনের মাটি, কৃষিজমি-তৃণভূমির মাটি— কোনটার কেমন উর্বরতা, মাটির গভীরে জৈবিক কার্যকলাপ কেমন, তার হদিস মিলল। লোকে মুখ টিপে হাসেনি, নাকে হাত দেয়নি, তফাত এখানেই।