‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ (২৩-৬) শীর্ষক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে কিছু কথা। রাজ্যের নবনির্বাচিত সরকার গত মাসেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য বাজেট পেশ করেছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রথম বাজেটে বলা যেতে পারে যে, অনেকটাই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে। এবং পরিবেশ সচেতন মানুষরা খুশি হবেন বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষায় বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ দেখে। এ বার প্রয়োজন বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ করা।
বাজেটে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়প্রবণ একটি রাজ্য, যেখানে ঝড়ের কারণে প্রায় প্রতি বছর উপকূলবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হয়। তাই রাজ্য সরকার ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লাইমেট রেজ়িলিয়েন্স ফান্ড’ এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লাইমেট ফাইনান্স ফেসিলিটি’ গঠন করবে। এই উদ্যোগগুলি পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি আমাদের রাজ্যের সুবিস্তৃত উপকূলবর্তী অঞ্চলকে ঘন ঘন সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে বাঁচাতে এবং ব-দ্বীপের ভঙ্গুর অর্থনীতির সংরক্ষণে সাহায্য করবে। তা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য রাজ্যের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে আয় বাড়ানোর উপায় বার করবে এবং ‘স্টেট অ্যাকশন প্ল্যান অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ রূপায়িত করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানে সাহায্য করবে। এই ঘোষিত উদ্যোগগুলির সফল রূপায়ণের জন্য প্রাথমিক ভাবে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা বলা হয়েছে, যা পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের আশান্বিত করে।
সেই সঙ্গে সুন্দরবনে নষ্ট হয়ে যাওয়া ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃজনের জন্য বাজেটে এই অর্থবর্ষে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল তৈরির জন্য স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে, যা যথেষ্ট ইতিবাচক পদক্ষেপ। কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত অতীতে বার বারই সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর প্রবল ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
তবে সুন্দরবন ব্যতীত উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের ধস ও হড়পা বানের জন্যেও বিগত বছরগুলিতে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাই নষ্ট হওয়া বনাঞ্চল পুনরায় সৃষ্টি করে উত্তরবঙ্গের পরিবেশ সংরক্ষণেও আশু উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আশা, আগামী দিনে দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলির নাব্যতা রক্ষাতেও সরকার নজর দেবে। সেই সঙ্গে তামিলনাড়ু রাজ্যের অনুসরণে পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ গৃহীত হবে।
কৌশিক চিনা, মুন্সিরহাট, হাওড়া
ভাতামুখী নয়
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থনে প্রথম বারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি সরকার। এই সরকারকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আশা-প্রত্যাশা তুঙ্গে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট গত মাসেই পেশ করা হল। বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি, সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি, এবং আরও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের কথা ঘোষিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এই পদক্ষেপগুলি সাধারণ মানুষের কাছে আশার বার্তা এনেছে।
একটি বাজেটের প্রকৃত মূল্যায়ন শুধুমাত্র অর্থ বরাদ্দের অঙ্ক দেখে বিচার করা যাবে না, কারণ বাস্তবে কতটা এই বাজেট-ঘোষণাগুলি কার্যকর হয়, সেটাই দেখার বিষয়। পূর্ববর্তী সরকারের এই ধরনের বহু ঘোষণা বাজেটের মধ্যে থাকত, যার বেশ কিছু কখনওই কার্যকর হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে কর্মসংস্থানের বিষয়টি খুবই জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করার পরেও উপযুক্ত চাকরির অভাবে ভুগছেন। অনেকে বাধ্য হয়েই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। এর ফলে এক দিকে যেমন মেধার বহির্গমন ঘটছে, অন্য দিকে পরিবার ও সমাজের উপরও তার প্রভাব পড়ছে। তাই বর্তমানে কর্মসংস্থান করা শুধু একটি অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক প্রয়োজনও বটে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যদি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের ব্যবস্থা শুরু করা যায় এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায়, তা হলে রাজ্যের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এই বাজেটে সরকার বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার ফলে অনেকেই আলো দেখছেন বলেমনে হয়।
অন্য দিকে, সরকার কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে বর্তমান বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষত, কৃষকদের প্রয়োজনীয় উচ্চ ফলনশীল বীজ সরবরাহ করা, উৎপাদিত ফসলকে যথাযথ বাজারজাত করা, কৃষকদের ফসলের সঠিক সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা প্রভৃতির কথা বলে আশার আলো দেখিয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গ্রামের কৃষি সমবায়গুলিকে যে ভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, তাতে এই সমবায়গুলিকে পুনরায় শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হলে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা খুবই জরুরি।
আশা করা যায়, বর্তমান রাজ্য সরকার তাদের বাজেট প্রস্তাবগুলি যথাযথ ভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত করবে এবং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পিছিয়ে পড়া রাজ্যের কৃষি ও শিল্প অর্থনীতিকে আবার চাঙ্গা করে তুলবে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াবে। শুধুমাত্র সাময়িক ভাতা প্রদান করে সরকার যেন নিজেদের দায়িত্ব ঝেড়ে না ফেলে দেয়।
সৌম্যদীপ সিংহ, হরিপাল, হুগলি
যোগ্যতা মেনে
‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে এই চিঠি। রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট। বাজেটে কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ জোর দেওয়ায় তরুণরা আশান্বিত হবেন। রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা এক ধাক্কায় ২০% বৃদ্ধির ফলে কর্মীদের দীর্ঘ দিনের চাহিদা পূরণ হল। মিড-ডে মিলে পড়ুয়াপিছু ১০ টাকা বরাদ্দ করায় কিছুটা ভাল খাবার দেওয়া সম্ভব হবে। যদিও এই টাকাতেও তা পুরোপুরি সম্ভব নয়। প্যারাটিচার, আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন ৫০০০ টাকা বৃদ্ধি হল। সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন বেড়েছে ২০০০ টাকা। কিন্তু এখানে প্রশ্ন, সিভিক ও ভিলেজ পুলিশের নিয়োগ কি কোনও পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা বিচার করে হয়েছিল? অধিকাংশ নিয়োগ হয়েছে আগের সরকারের আমলে। সিভিক ও ভিলেজ পুলিশের অনেকের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের সময়েই নানা অভিযোগ আছে। নতুন সরকার কি কোনও যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষার মাধ্যমে এই সব ক্ষেত্রে ঝাড়াইবাছাই করে, পুনরায় নিয়োগ দিতে পারে না?
অতীশচন্দ্র ভাওয়াল, কোন্নগর, হুগলি
ভাতা বৃদ্ধি
ভোট প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মিল রেখেই রাজ্য-বাজেট পেশ হল। নজিরবিহীন এই পূর্ণাঙ্গ বাজেটের সর্বক্ষেত্রেই কল্পতরু রাজ্যের বিজেপি সরকার। কিন্তু একটি ক্ষেত্রে সরকার আর একটু উদার হতে পারত। যেমন, বয়স্ক ভাতা। ছিল মাসিক এক হাজার টাকা। বেড়ে হল দেড় হাজার টাকা। বর্তমান সমাজে বেশির ভাগ পরিবারেই বয়স্করা অবহেলিত। অনেকেই ভরা পরিবারে থাকেন না। সমাজে সহায়-সম্বলহীন বয়স্ক ব্যক্তির সংখ্যাও প্রচুর। তাঁদের মধ্যে অনেককেই নিয়মিত ভাবে বেশ চড়া মূল্যের কিছু ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। এক দিকে দৈনন্দিন খাবার জোগাড় করা; অন্য দিকে চড়া দামের ওষুধ কেনা— এই দুই খরচ জোগাড় করতে প্রাণান্তকর অবস্থা দাঁড়ায় বেশির ভাগ প্রবীণদেরই। তাই বয়স্ক ভাতা মাসে তিন হাজার বা তার বেশি হলে অনেকটাই উপকারে লাগত। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী কি বিষয়টি একটু ভেবে দেখবেন?
অসীমকুমার মিত্র, আমতা, হাওড়া