‘উদাসীনতার বলি’ (১৭-৮) শীর্ষক সম্পাদকীয়টির শেষ বাক্য দিয়ে শুরু করলাম আমার এই চিঠি। “শিশুর মাথায় হেলমেট পরানো ফ্যাশন নয়, বিলাসিতাও নয়— এটি তার বেঁচে থাকার অধিকার।” খুবই মূল্যবান কথা। প্রত্যেক মা-বাবার কাছে, পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে বাড়ির শিশুটি পরম আদরের ধন। তবু লিখতে বাধ্য হচ্ছি, শিশুর এই বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়ার পিছনে দায়ী এক শ্রেণির অভিভাবকেরই চরম উদাসীনতা। বি টি রোডের সাম্প্রতিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। লরির ধাক্কায় মোটরবাইক থেকে ছিটকে পড়ে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে চিরতরে জীবনদীপ নিবে গেল দুই স্কুলপড়ুয়া ভাই-বোনের।
সংবাদে প্রকাশ, ভাই-বোনের মাথায় কোনও হেলমেটই ছিল না। হ্যাঁ, হেলমেট পরলেও যে এ রকম দুর্ঘটনা প্রাণঘাতী হবে না, তা বলা যায় না। তবে, হেলমেট পরলে মাথাটি তো রক্ষা পেতে পারে, চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে, দুর্ঘটনাগ্রস্তের জীবনও রক্ষা পেতে পারে। তাই হেলমেট না পরার ব্যাপারে কোনও অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের হাত থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি উপভোগ করার মধ্যে কোনও বীরত্ব নেই। বরং আছে ভবিষ্যতে নিজে বিপদে পড়ার পথ তৈরি করে রাখা। বড়রা তো বটেই, অনেক অপ্রাপ্তবয়স্কও রাস্তায় যে ভাবে দুরন্ত গতিতে মোটরবাইক চালিয়ে যায়, তা খুবই ভয়ঙ্কর। কারণ শুধু নিজের নয়, বেপরোয়া গতিতে মোটরবাইক চালানোর জন্য তারা পথচারীদের প্রাণ সংশয়েরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বড়দের দায়িত্ব হল, এ ব্যাপারে সচেতন থাকা আর প্রাপ্তবয়স্ক না হলে ছেলেমেয়েদের মোটরবাইক-সহ অন্য কোনও যানবাহন চালাতে না দেওয়া।
মনে রাখতে হবে, দুর্ঘটনা কখনও কে ছোট আর কে বড়, তা বিচার করে ঘটে না। ঘটলে উভয়েই বিপদে পড়ে। কেউ প্রাণে বাঁচে, কেউ বাঁচে না। তাই শুধু বড়রা মাথায় হেলমেট পরলেই হবে না, ছোটদের মাথাতেও তাদের উপযুক্ত মানের, নির্দিষ্ট আকারের হেলমেট পরাতে হবে। এর সঙ্গে আইনের প্রশ্ন যদি ওঠে, তা হলে আসে আইনরক্ষকদের কথাও। আইন মেনে চলতে বাধ্য করা, না মানলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করার প্রধান দায়িত্ব অবশ্যই আইনরক্ষকদের। তাঁরা বহু ক্ষেত্রে এই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন না, ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনার দায় কিছুটা তাঁদের উপরেও বর্তায়। তাই, কোনও অজুহাত নয়। নিজেদের তো বটেই, পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার দায়িত্বও সর্বাগ্রে আমাদেরই। তাই তাদের বাঁচিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টাটিও আমাদেরই করতে হবে।
সত্যকিঙ্কর প্রতিহার, দেশড়া, বাঁকুড়া
ঢিলেমি অব্যাহত
সাম্প্রতিক কালে লরির ধাক্কায় মোটরবাইক থেকে ছিটকে পড়ে বিটি রোডে দুই স্কুলপড়ুয়া ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদকীয় ‘উদাসীনতার বলি’ খুবই প্রাসঙ্গিক। দুর্ঘটনার সময় দুই খুদের মাথাতেই হেলমেট না থাকা এই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে যেমন উল্লেখ করা যেতে পারে, তেমনই কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশের রাস্তায় অনুপস্থিত থাকা বা নজরদারির অভাবও সমান দায়ী। তবে শুধুমাত্র কলকাতা শহরে নয়, এই অনিয়মের অভিযোগ রাজ্য জুড়েই। রাজ্যে পালাবদলের পর তিন মাসের মধ্যেই সমস্ত বেআইনি কার্যকলাপ সংশোধন হয়ে যাবে, এ কথা অতি বড় সমালোচকও বলবেন না। কিন্তু বর্তমানে বেআইনি নির্মাণ বা হকার উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা যে ভাবে চোখে পড়ছে, তার সামান্য অংশও আমরা দেখতে পাইনি পথ নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন সুরক্ষাজনিত ক্ষেত্রে। শিশুদের দুর্ঘটনার কবলে পড়ার জন্য সিংহভাগ অভিভাবকের চরম উদাসীনতার কথা সম্পাদকীয়তে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী দিনে প্রত্যেকেরই তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এ ছাড়াও এই সতর্কতা প্রসঙ্গে আরও বলা যেতে পারে, দিনের পর দিন নাবালক ও নাবালিকাদের রাস্তাঘাটে দ্বিচক্রযান চালানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার জন্য অভিভাবকদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই প্রধানত দায়ী। গত মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় প্রায় প্রতি দিনই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে পরীক্ষার্থীদের বাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়ার সংবাদ শোনা গেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েক জন পরীক্ষার্থী যেমন গুরুতর আহত হয়েছেন, তেমনই মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে দেখা গিয়েছে। প্রশাসনকে হেলমেটবিহীন, লাইসেন্সবিহীন এবং ছোট ছেলেমেয়েদের বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরোনোর এই প্রবণতা রুখতে কড়া নজরদারি যেমন চালাতে হবে, তেমনই নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তো বটেই, অভিভাবকদেরও জরিমানা সমেত কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের। সেটি সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম কর্তব্য।
অশোক দাশ, রিষড়া, হুগলি
নজরদারি চাই
১৯ অগস্টের রাতে কলকাতার হোটেলে আগুনে পুড়ে ন’জনের মৃত্যুর দু’দিন আগে তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ন’জনের মৃত্যু মনে করাল গত বছরের এপ্রিলে বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টির এক হোটেলে আগুনে ঝলসে ১৪ জনের মৃত্যু ও অনেকের আহত হওয়ার ঘটনাটি। সরকারি দফতরের মন্ত্রী-সহ আধিকারিকদের উপর যে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে, তাঁরা সেই কাজটুকু ঠিকঠাক করলে মনে হয় এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এমন অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনা জনমনে বার বার প্রশ্ন তোলে, প্রশাসনিক কড়াকড়ি কি তবে শুধু কথাতেই আটকে?
প্রশ্ন জাগে, কলকাতার যে ছোটখাটো হোটেলগুলি গড়ে উঠেছে ধর্মতলা চত্বর, নিউ মার্কেট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, এলিয়ট রোড অঞ্চলে— সেগুলি কি আদৌ কোনও সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে? সব হোটেলের উপর স্থানীয় থানার একটা নজরদারি থাকার কথা। দমকল, পুলিশ, পুরসভা সমন্বয় রেখে কাজ করলে অনেক ভুলত্রুটি যেমন ধরা পড়ে, তেমনই আটকানো যায় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনাও। এক-একটি পাঁচতলা-ছ’তলা বাড়িতে প্রবেশ-বেরোনোর পথ তিন-চার ফুটের হলে তার অনুমোদন কে দেয়? আর ওই সব বাড়ি বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহৃত হলে তার বিদ্যুৎ সংযোগই বা কী ভাবে মেলে? একটি সংযোগ থেকে বেআইনি ভাবে যদি আরও পঞ্চাশটা সাব-সংযোগে আলো, পাখা, এসি, ফ্রিজ, গিজ়ার চলতে থাকে, তবে তাতে ওভারলোডের কারণে যে কোনও সময় আগুন লাগার সম্ভাবনা থেকে যায়।
শোনা যায়, বহু সরকারি দফতরেই কর্মী-সংখ্যা অপ্রতুল। নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে গেলে বা সময়মতো শূন্য পদে লোক না নিয়োজিত হলে কাজের মধ্যে ফাঁক তৈরি হবেই। প্রশাসনের নিজেদের দফতরগুলির দিকে তাকিয়ে দেখা দরকার প্রয়োজনীয় কর্মী-সংখ্যা সব দফতরে ঠিকঠাক আছে কি না। প্রয়োজনে নিয়োগ করতে হবে। সেই সঙ্গে কোন এলাকায় কত হোটেল-রেস্তরাঁ, গেস্ট হাউস খুলেছে, কতগুলি ঘর আছে সংশ্লিষ্ট হোটেলে বা গেস্টহাউসে, তাদের ঢোকা-বেরোনোর রাস্তা প্রশস্ত কি না, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন— এ সব রিপোর্ট স্থানীয় দমকল অফিস, পুলিশ বা পুরসভাকে জোগাড় করতে হবে। জতুগৃহ হয়ে থাকা শহরটির ঠিকমতো নজরদারি প্রয়োজন, তবেই এমন দুর্ঘটনা আটকানো যাবে।
সৌম্যেন্দ্র নাথ জানা, কলকাতা-১৫৪
টিকিটের সমস্যা
ইদানীং ট্রেনে আসন সংরক্ষণ করতে গিয়ে বহু মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে সঠিক সময়ে টিকিট কাটতে গিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিঙ্ক-সহ অন্যান্য সমস্যা হচ্ছে, যার ফলে যাত্রীরা তাঁদের চাহিদামতো গন্তব্যের সংরক্ষিত টিকিট পাচ্ছেন না। যাত্রীস্বার্থে রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সব সমস্যার সমাধান করুক।
তাপস দাস, সিঙ্গুর, হুগলি