E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সম্পাদক সমীপেষু: গুদামে পড়াশোনা

আজকের যুগে এমন ঘটনা যেমন দুশ্চিন্তার, তেমনই দুর্ভাগ্যজনক। কী করে একটি গুদাম ঘরের মধ্যে নার্সিং কলেজ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা বোধগম্য নয়। বর্ণনা পড়ে বোঝাই যাচ্ছে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে উপযুক্ত পরিকাঠামোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৮

দেবাশিস দাশের ‘গুদাম থেকে নার্সিং কলেজ! ভূগর্ভে বদ্ধ হলঘরে পড়াশোনা’ (১০-৮) শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাওড়া জেলায় একটি ভবনের বেসমেন্টে একটি নার্সিং কলেজ চলছে, যেখানে আলো-বাতাস প্রায় ঢোকে না বললেই চলে। ফলে ওই পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে ও ক্লাস করতে শিক্ষার্থীদের খুবই কষ্ট হয়। ছাত্রীদের জন্য কোনও শৌচাগার নেই। ফলে, তাঁদের হাসপাতালের অন্য একটি ভবনে যেতে হয়, যা শুধু অস্বাভাবিকই নয়, যন্ত্রণাদায়কও। এটি আগে একটি গুদাম ঘর ছিল। দুঃখের বিষয়, এক-দু’বছর নয়, পাঁচ বছর ধরে চলছে কেন্দ্রটি। শুধু তা-ই নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি।

আজকের যুগে এমন ঘটনা যেমন দুশ্চিন্তার, তেমনই দুর্ভাগ্যজনক। কী করে একটি গুদাম ঘরের মধ্যে নার্সিং কলেজ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা বোধগম্য নয়। বর্ণনা পড়ে বোঝাই যাচ্ছে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে উপযুক্ত পরিকাঠামোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ থাকার উপযুক্ত তো নয়ই, বরং এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকলে বা কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটলে ছাত্রছাত্রীদের প্রাণসংশয় হওয়ার আশঙ্কাই প্রবল। প্রথমে দক্ষিণ হাওড়ার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নার্সিং কলেজটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থের সমস্যার কারণে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হয়নি।

এই অব্যবস্থা এক প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনই। এই ব্যবস্থা যে-ই করে থাকুক, তাকে পড়ুয়াদের প্রাণ নিয়ে এ ভাবে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কে দিয়েছে? প্রশাসনের উচিত ভবনটির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা। সেই সঙ্গে অবিলম্বে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কলেজটি স্থানান্তরিত করা হোক, যাতে পড়ুয়ারা নিশ্চিন্তে তাদের পড়াশোনা চালাতে পারে।

পঙ্কজ সেনগুপ্ত, কোন্নগর, হুগলি

গাফিলতি

সম্প্রতি আমি একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হই। ভর্তির সময়ই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে স্বাস্থ্যবিমার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিই। হাসপাতাল সেই নথি বিমা সংস্থার কাছে পাঠায় ভর্তির পরের দিন। এর পরে বিমা সংস্থার পক্ষ থেকে কিছু জিজ্ঞাস্য পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার উত্তর দেয় দু’দিন পরে, ডিসচার্জ সামারি-সহ।

এর পরে রাত পর্যন্ত ‘ক্যাশলেস অ্যাপ্রুভাল’-এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কিন্তু তখনও অনুমোদন না আসায় বাধ্য হয়ে পকেট থেকে অর্থ দিয়ে হাসপাতালের বিল মেটাতে হয়। অথচ, পরের দিন বিকেলের মধ্যেই বিমা সংস্থার ‘ক্যাশলেস’-এর অনুমোদন চলে আসে।

প্রশ্ন হল, বিমা সংস্থার জিজ্ঞাসার উত্তর যদি হাসপাতাল সময়মতো দিত, তা হলে এক জন অসুস্থকে কি এত ক্ষণ অপেক্ষা করতে হত এবং শেষ পর্যন্ত নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে হাসপাতাল ছাড়তে হত? আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ওই বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যবিমা থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রশাসনিক বিলম্ব একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসার সময় এক জন রোগী ও তাঁর পরিবারকে এমন অপ্রয়োজনীয় মানসিক ও আর্থিক হয়রানির মুখে পড়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবেন।

রানা ঘোষ দস্তিদার, কলকাতা-১৪৯

উপদ্রব

হাওড়া স্টেশনে ভবঘুরেদের উৎপাত ভীষণ বেড়েছে। যাত্রী প্রতীক্ষার জায়গাগুলিতে নানা ধরনের ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের অবাঞ্ছিত উপস্থিতি কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তিকর মনে হয়। আজকাল নানা রকম চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজ দেখিয়ে পয়সা চাওয়াও সাধারণ বিষয় হয়ে গিয়েছে। যাত্রীদের বসার জায়গায় এঁরা শুয়ে থাকেন বলে অসুস্থ, প্রবীণদের অসুবিধায় পড়তে হয়, তা ছাড়া জামাকাপড় শুকোতে দেন, নোংরাও করে রাখেন।

একই সঙ্গে বেড়েছে পথকুকুরের উপদ্রবও। প্রত্যেকটি প্ল্যাটফর্মে এদের দাপাদাপি, মারামারিতে সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। যে কোনও সময়ে যে কেউ কামড় খেতে পারেন। প্রশ্ন হল, স্টেশন চত্বরে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও এমন উপদ্রবগুলি প্রশ্রয় পায় কী ভাবে? স্টেশনে যদি অবাধে যে কেউ ঢুকে পড়ে, তা হলে যাত্রী নিরাপত্তাই বা কোথায়? এ ভাবে তো নাশকতামূলক কাণ্ডও ঘটতে পারে। এমন উপদ্রব অবিলম্বে বন্ধ হোক।

অরিত্র মুখোপাধ্যায়, শ্রীরামপুর, হুগলি

টাইমার চাই

কলকাতার ব্যস্ততম বি টি রোডে ডানলপ থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ট্র্যাফিক সিগন্যাল আছে। এই অত্যন্ত ব্যস্ত রাস্তাটিতে দিবারাত্র হাজার হাজার গাড়ি নিত্য যাতায়াত করে। অনেকগুলি স্কুল-কলেজ থাকার কারণে প্রচুর ছাত্রছাত্রীকে রাস্তাটি পার হতে হয়। সিগন্যালগুলির মধ্যে অধিকাংশেই টাইমার দেওয়া না থাকায় হঠাৎ করে সিগন্যাল চালু হলে ছাত্রছাত্রী এবং প্রবীণদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। সিগন্যালগুলিতে টাইমার দেওয়া থাকলে রাস্তা পার হওয়ার সময় ঝুঁকি কম হয়।

রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, কেন্দুয়াডিহি, বাঁকুড়া

বাস পরিষেবা

বর্তমানে সন্তোষপুর থেকে হাওড়া, উল্টোডাঙা ও এয়ারপোর্ট যাওয়ার কোনও সরাসরি বাস পরিষেবা নেই। এখানকার অধিবাসীদের উপরোক্ত জায়গায় যাওয়ার জন্য যাদবপুর ও বাইপাসে যেতে হয় ও অটোর ভাড়া গুনতে হয়। অথচ, পাঁচ-ছ’বছর আগেও এই রকম ছিল না। সি৩, সি২, ৩৭এ, ২০৬— এয়ারপোর্ট, হাওড়া, ধর্মতলা, বিবাদী বাগ হয়ে সল্ট লেক রুটে যথেষ্ট বাস পরিষেবা ছিল। কোনও অজ্ঞাত কারণে এই সব পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেল। পরিবহণ দফতরের কাছে আবেদন, যাত্রী সুবিধার্থে এই রুটগুলিতে পুনরায় বাস চালু করা হোক।

শ্যামল চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা-৭৫

নতুন বালতি

গোবরডাঙা পুরসভার অন্তর্গত ১৫ নম্বর ওয়র্ডের বাসিন্দা। আগের সরকারের আমলে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য‌ পুরসভার তরফে প্রতিটি বাড়িতে দুটো করে বালতি দেওয়া হয়েছিল। এর জন্য প্রত্যেক মাসে পুরসভার মহিলা কর্মীরা কুড়ি টাকা করে সংগ্রহ করে নিয়ে যান। তবে, দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহারের কারণে বালতিগুলি এ বার ভেঙেচুরে যাচ্ছে। অথচ, পুরসভার তরফ থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করার মাসুল হিসেবে প্রত্যেক বাড়ি থেকে কুড়ি টাকা করে সংগ্রহ করা হলেও নতুন বালতি দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পুরসভায় কর্মরত যে সমস্ত অস্থায়ী মহিলা কর্মী বর্জ্য সংগ্রহের মাসুলস্বরূপ কুড়ি টাকা নেওয়ার জন্য বাড়িতে আসেন, তাঁদের বালতির সমস্যার কথা বলা হলেও তাঁরা বিষয়টি গ্রাহ্য করতে চান না। এমতাবস্থায়, পুরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, অবিলম্বে প্রত্যেক বাড়িতে বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করার জন্য নতুন বালতি দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হোক।

সৈকত কর্মকার, গোবরডাঙা, উত্তর ২৪ পরগনা

অপরিচ্ছন্ন

নতুন এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন তৈরি করার জন্য সরকারি বাস ছাড়ার জায়গাটি বর্তমানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এটা এখন হয়েছে গ্রিন মেট্রো স্টেশনের দক্ষিণ দিকে। নতুন তৈরি হওয়া জায়গাটি খুবই অপরিচ্ছন্ন, চার দিকে প্লাস্টিক, নোংরা, চতুর্দিকে জল জমে থাকে। মনে হয় কেউ দেখার নেই। জায়গাটি পরিষ্কার করার দায়িত্বে কি কেউ নেই? প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

প্রদীপকুমার দাস, কলকাতা-৩০

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Nursing College safety check educational institution Howrah

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy