গত জুলাই মাসে আমার পুত্র পুণেতে শতবর্ষ পার করা একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেয়। প্রথম মাসের বেতন দেশের অন্যতম বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে নিজের সেভিংস অ্যাকাউন্টে গত ২৮ জুলাই জমা হওয়ার মিনিট কয়েকের মধ্যে অ্যাকাউন্টটি লক হয়ে যায়। তার পর থেকে দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এখনও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। ব্যাঙ্কের কসবা শাখা, আঞ্চলিক সদর দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই পদক্ষেপটি নাকি নিরাপত্তাজনিত কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পটনা সার্ভার থেকে করেছে। অতএব অ্যাকাউন্ট আনলক করতে হলে ‘এনহ্যান্সড ডিউ ডিলিজেন্স’ (ইডিডি) প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পটনা শাখায় আবেদন পাঠাতে হবে।
বোঝা গেল, সেটা যে ঠিক কী ভাবে সম্পন্ন হবে, ব্যাঙ্কের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে খুব একটা পরিষ্কার নয়। প্রায় প্রত্যেক দিন পুণেতে স্থানীয় ইয়েরওয়াড়া শাখায় গিয়ে পুত্র তাড়া দিলেও কর্মপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক ভাবে উপস্থিত হয়ে খোঁজখবর নিতেই পুণের স্থানীয় শাখার আধিকারিকদের দশ দিন লেগে যায়। তাঁদের রিপোর্ট কলকাতা শাখায় আসার কয়েক দিনের মধ্যে এখানকার আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার পরেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। কেউই সঠিক ভাবে বলতে পারছেন না, কবে অ্যাকাউন্টের লক খুলবে। সদ্য কলেজ থেকে পাশ করে প্রথম চাকরির প্রথম বেতন পাওয়ার আনন্দ কেন ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে এই রকম ভাবে অধরা থেকে যাবে?
প্রশ্ন জাগে, এই ধরনের বিভ্রাট কি আগামী দিনের অশনিসঙ্কেত? আমরা কি তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলার জন্য এখনও যথেষ্ট ভাবে তৈরি নই?
আনন্দ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা-৭৮
সংযমী হোক
‘কর্তব্যরত পুলিশের মোবাইল ও হেডফোন ব্যবহারে রাশ লালবাজারের’ (২০-৭) শীর্ষক সংবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ এবং দায়িত্বশীল পুলিশি কর্তব্যের খাতিরে কাজের সময়ে পুলিশকর্মীদের মোবাইল আর হেডফোনের ব্যবহারে সংযত হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয়ে লালবাজারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রায়ই চোখে পড়ে কতিপয় পুলিশকর্মীকে কর্তব্যরত অবস্থায় সিগারেটে সুখটান দিতে। এটি ভীষণ দৃষ্টিকটু এবং সমাজের কাছে খারাপ বার্তা বহন করে। এ ক্ষেত্রেও পুলিশকর্মীদের সংযত থাকা জরুরি।
অরুণ রতন, কলকাতা-৮
পরিষেবা নেই
ভারতের সব রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের নিজস্ব ‘সিনিয়র সিটিজ়েন সার্টিফিকেট’ অনলাইনে পাওয়া যায় ‘ন্যাশনাল পোর্টাল অব ইন্ডিয়া’ থেকে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে এই সুবিধা নেই। এর মাধ্যমে বয়স্ক নাগরিকেরা ব্যাঙ্ক, এলআইসি, পোস্ট অফিস এবং চিকিৎসা বিষয়ে অনেক রকমের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, বাংলার মানুষও যেন এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
দিলীপ বৈদ্য, কোন্নগর, হুগলি
কর্তব্যপরায়ণ
মিজ়োরাম ভ্রমণ ফেরত সাইরাং স্টেশন থেকে সাইরাং এক্সপ্রেসে চড়ে কলকাতামুখী পথে বৈরবি স্টেশনের আগে কিংবা পরে অপরিচিত এক স্টেশনের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রকৃতির শোভা ক্যামেরা বন্দি করতে ব্যস্ত ছিলাম। স্টেশনের নিচু প্ল্যাটফর্মে চোখ পড়তেই দেখলাম অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মধ্যে একনিষ্ঠ ভাবে কর্মরত এক মহিলা রেলকর্মীকে। তাঁর চোখে, মুখে, শরীরের ভাষায় কোনও অস্বস্তি এবং অসুবিধা চোখে পড়ল না। শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এ রকম হাজার হাজার কর্মী দেশের বহু দুর্গম অঞ্চলে কর্তব্যপরায়ণতার এমন ছবি এঁকে চলেছেন। সরকারি ভাবে এঁদের স্বীকৃতি পাওয়া এবং পুরস্কৃত করা বিশেষ প্রয়োজন।
পার্থপ্রতিম ধর, কল্যাণী, নদিয়া
যানজট
গত মে মাসে দার্জিলিং ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। মনোমুগ্ধকর পাহাড়, সবুজ চা বাগান এবং নানা দর্শনীয় স্থানের আকর্ষণে প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। আমরা যখন যাই, তখনও পর্যটকের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। তবে এই ভ্রমণের সবচেয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় দার্জিলিঙের তীব্র যানজটে। পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও রাস্তার উন্নয়ন ও নিয়মিত সংস্কারের কাজ যথেষ্ট হচ্ছে না। ফলে প্রতি দিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
মূলত পর্যটকবাহী গাড়িগুলির যত্রতত্র পার্কিং এবং সুস্থ ট্র্যাফিক ব্যবস্থার অভাবই এই যানজটের অন্যতম কারণ। তাই পর্যটকদের স্বার্থে দার্জিলিঙে প্রতি দিনের যানজট সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ করা জরুরি। পাশাপাশি রাস্তার উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাস্তার ধারে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের প্রতিও বিশেষ নজর দিতে হবে। আশা করি, রাজ্যের নতুন সরকার দার্জিলিংকে আরও পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর করে গড়ে তুলতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অপূর্বলাল নস্কর, ভান্ডারদহ, হাওড়া
শব্দদানব
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের কাছে বৃদ্ধি পেয়েছে মোটর বাইকের চাহিদা। সহজ কিস্তিতে বাজার থেকে মিলছে দু’চাকার নামী সংস্থার বাহন। বেশিরভাগ সময় এই বাইকগুলিকে দোকানে নিয়ে গিয়ে পরিচর্যার সময় সাইলেন্সার পাইপের ভিতরে থাকা জালটি ফাটিয়ে দেন। অনেকে আবার টাকা খরচ করে ফ্রি ফ্লো সাইলেন্সার লাগান। ফলস্বরূপ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠা ছাড়া উপায় থাকে না সাধারণ পথচলতি মানুষের। দিন দিন এ ঘটনা বেড়ে চলেছে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায়। পথচলতি মানুষের অভিযোগ, বেলা বাড়তেই বেড়ে যায় সেই সকল মোটর বাইকের উৎপাত। বড় রাস্তার পাশাপাশি ছোট রাস্তাগুলিতেও কান ফাটা শব্দে চলা দায় হয়। তা ছাড়া, বাড়ির মধ্যে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদেরও কান ও হৃৎপিণ্ডের উপর প্রভাব ফেলে এই শব্দ।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ডানলপ, সোদপুর, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ট্র্যাফিক আইন ভাঙলে তার ব্যবস্থা করে পুলিশ। তবে এলাকার রাস্তাগুলিতে বাড়তে থাকা বাইকের দানবীয় আওয়াজ রুখবে কে?
ইতিমধ্যে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে সড়ক নিরাপত্তা কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব। তিনি সকলকে অতিরিক্ত গতি এড়িয়ে চলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানো, সিটবেল্ট ও হেলমেট ব্যবহার এবং ট্র্যাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাই অতিষ্ঠ করা শব্দদূষণ থেকে রেহাই পেতে সাধারণ মানুষের দাবি, বাজারে বিক্রি হওয়া মডিফায়েড সাইলেন্সার বাজেয়াপ্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করুক পুলিশ-প্রশাসন।
পল্লব হাজরা, কলকাতা-১০৮
টিকিট নেই
উৎসবের সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া সাম্প্রতিক কালে প্রবল সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উৎসবে মানুষ শুধুমাত্র বেড়াতে যান না, অনেকে বাড়ি ফেরেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে অন্যত্র যান। কিন্তু, এই সময়ে টিকিটের হাহাকার তুঙ্গে ওঠে। বুকিং শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই টিকিট ফুরিয়ে যায়। মনে হয় না এটা স্বাভাবিক ঘটনা। এর উপযুক্ত তদন্ত প্রয়োজন।
মিঠু রায়, কলকাতা-৫৭