E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সম্পাদক সমীপেষু: রাজনীতির রণকৌশল?

সাম্প্রতিক সময়ে লোকসভা ও রাজ্যসভা— উভয় কক্ষেই এনডিএ তার সংখ্যাগত অবস্থান আরও জোরদার করেছে। সম্ভবত কোনও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী আনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৫৬

জহর সরকারের ‘সংখ্যা নয়, আধিপত্যের প্রশ্ন’ (৫-৮) শীর্ষক প্রবন্ধ সম্পর্কে কিছু কথা। সংসদের দুই কক্ষেই প্রশাসক যে ভাবে নানা রাজনৈতিক কৌশলে নিজেদের সংখ্যাগত শক্তি বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাতে মনে হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনীর পথে হাঁটার প্রস্তুতি চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে লোকসভা ও রাজ্যসভা— উভয় কক্ষেই এনডিএ তার সংখ্যাগত অবস্থান আরও জোরদার করেছে। সম্ভবত কোনও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী আনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

খুব শিগগিরই সংসদে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ-সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে পদক্ষেপ করা হতে পারে। এই ধরনের সাংবিধানিক সংশোধনী পাশ করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা— উভয় কক্ষেই মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা হিসাবেই শাসকের এত তৎপরতা, এমন ধারণা অনেকের মধ্যে তৈরি হয়েছে।

বিরোধীদের আশঙ্কা, আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া এক বার সম্পন্ন হলে সংসদে হিন্দি বলয়ের প্রভাব বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সরকার গঠনে শাসকের সুবিধা হবে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। সংবিধান সংশোধন করে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র করার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, সেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। তা ছাড়া, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে যদি হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যেও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে অন্য দল ক্ষমতায় এলেও সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পুনরায় সংবিধান সংশোধন করে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ফিরিয়ে আনা সহজ না-ও হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলা শাসকের ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এর অর্থ কি এই রকম যে, তারা দীর্ঘমেয়াদি এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আগামী বছরগুলিতেও ক্ষমতায় থাকার প্রত্যাশা করছে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণের চেষ্টা করছে? এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ-সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনীর মতো পদক্ষেপগুলিও কি সেই দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশলেরই অংশ?

অজয় ভট্টাচার্য, বনগাঁ, উত্তর ২৪ পরগনা

দখল-নীতি?

জহর সরকারের ‘সংখ্যা নয়, আধিপত্যের প্রশ্ন’ শীর্ষক অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী প্রবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে ভাবে দলবদল, রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তন এবং সাংসদ-বিধায়কদের দল পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দল পরিবর্তন করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছেন। এর ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশিত জনমতের প্রতিফলন কতটা অক্ষুণ্ণ থাকছে, সেই প্রশ্নও স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে।

হঠাৎ করেই ‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল’-এর গল্পের মতো রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দুতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলে ফিরে আসে কয়েক মাস আগের স্মৃতি। রাজ্য জুড়ে তখন চলেছে এসআইআর-সংক্রান্ত কাজ। ২০০২ সালের ভোটার তালিকা সংশোধনের তথ্য ও নথি নিয়ে অনেক সাধারণ মানুষকে জ়েরক্সের দোকান, স্কুলের অফিস, সাইবার ক্যাফেতে ভিড় করতে দেখা গিয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করতে বহু মানুষকে উদ্বেগ ও হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়েছে। প্রশ্ন ওঠে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই কি এ-হেন তৎপরতা? তার সঙ্গেই কি যুক্ত এই দলবদলের হিড়িক?

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, সংসদের আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তত তীব্র হতে পারে। ডিলিমিটেশন হলে বিভিন্ন রাজ্যের লোকসভা আসনের সংখ্যায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে তুলনামূলক ভাবে বেশি জনসংখ্যার রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়তে পারে— এই আশঙ্কা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রকাশ পেয়েছে। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে এক দিকে যেমন কেন্দ্রীয় স্তরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্য দিকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ঘন ঘন দলবদলও গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করছে। যে ভাবে জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক আনুগত্য বদলে যাচ্ছে, তা দেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়া গণতন্ত্রের সংজ্ঞার সঙ্গে কিছুতেই মেলাতে পারছি না।

রাজা বাগচী, গুপ্তিপাড়া, হুগলি

স্বস্তিদায়ক নয়

‘সংখ্যা নয়, আধিপত্যের প্রশ্ন’ প্রবন্ধে জহর সরকার এ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি নিরীক্ষণ মেলে ধরেছেন। নির্বাচনের ফলের পর রাজনৈতিক দলবদল এবং এক দল থেকে অন্য দলে যাওয়ার যে অস্বাভাবিক প্রবণতা দেখা যায়, তা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ভোটারকে, বিশেষ করে যাঁরা কোনও দলের বিরোধিতায় অন্য দলকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের হতবাক করে। এ ধরনের পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে স্বস্তিদায়ক নয়।

কোনও দল যদি বিরোধী আসনে বসার মতো যথেষ্ট আসন পায়, তা হলে অনায়াসে তার বিরোধী আসনে বসার কথা। কিন্তু, বিগত শাসক দলের মতো আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে দুর্বল কোনও রাজনৈতিক দলকে সেই হিসাবের মধ্যে রাখা মুশকিল। তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। গণতন্ত্রে বিরোধীদের মূল্যবান অস্তিত্ব যদি পদে পদে বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা গণতন্ত্রের পক্ষে কখনওই স্বাস্থ্যকর নয়।

পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়েও ভাবা প্রয়োজন। আগামী দিনে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে হিন্দিভাষী ও তুলনামূলক ভাবে বেশি জনসংখ্যার রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনই নির্দিষ্ট করে বলা বোধ হয় তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। কারণ রাজনীতির গতিধারা আগে থেকে ব‌োঝা মুশকিল।

দিলীপকুমার সেনগুপ্ত, বিরাটি, উত্তর ২৪ পরগনা

চলুক লড়াই

ক্ষমতার দম্ভে শাসকের ভাষায় জ্ঞান থাকে না, শালীনতাও থাকে না। তারই বিশ্লেষণ অগ্নি রায়ের ‘সারা শহর উথালপাথাল’ (২৬-৭) প্রবন্ধে।

কেন্দ্রের শাসকরা দীর্ঘ দিন ধরেই ক্ষমতায় রয়েছেন। এই সময়ে শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রশ্নটি কিন্তু মেটেনি। লেখক যথার্থই বলেছেন, গিগ কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্থায়ী কাজ করেন। রয়েছেন অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক। মূল্যবৃদ্ধিও চাপ বাড়িয়েছে। পয়সা যার, শিক্ষা-স্বাস্থ্য তার— এই অবস্থায় তরুণদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ অত্যন্ত স্বাভাবিক। তাঁদের প্রতিবাদে শামিল হওয়া তো সবারই উচিত। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হয়ে যাঁরা মন্ত্রী, সাংসদ বা বিধায়ক হন, তাঁদের মধ্যে ক’জন মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা লোকসভা বা বিধানসভায় বলেন?

লড়াইয়ের সাফল্য তো এখানেই— জনচাপের মুখে শাসককে পিছু হটতে হয়েছে। মনে করানো ভাল, কৃষক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এমনই ঘটেছিল।

শংকর কর্মকার, হালিশহর, উত্তর ২৪ পরগনা

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Indian Parliament Lok Sabha Rajya Sabha indian politics

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy