‘বড় বদল আসবে ২৮-এর স্কুলপাঠ্যে’ (৫-৮) শীর্ষক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে কিছু কথা। পৃথিবীতে কোনও ভাষাই সম্পূর্ণ ভাবে মৌলিক নয়। ঐতিহাসিক কারণেই প্রায় প্রতিটি প্রচলিত ভাষায় অপর ভাষার সংমিশ্রণ ঘটে। যেমন, ‘ঘেরাও’ বাংলা শব্দ হলেও ইংরেজিতেও ব্যবহৃত হয় এবং অক্সফোর্ড-এর অভিধানেও শব্দটি রয়েছে।
হাজার বছরের বিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাও বর্তমান রূপ পেয়েছে। অসংখ্য বিদেশি শব্দ বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাতে ভাষার মর্যাদাহানি হয়েছে বলে মনে হয় না। বাংলা অভিধানেও অসংখ্য বিদেশি শব্দ স্থান পেয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষ ভাবে আলোচিত ‘নাস্তা’ ফারসি শব্দ হলেও সকালের খাবার বোঝাতে বাংলায় এই শব্দটি দীর্ঘ দিন ধরেই প্রচলিত আছে।
কোনও ধর্মগোষ্ঠীর মানুষেরই নির্দিষ্ট ভাষা থাকে না। বিদ্বান হিন্দুরাও একদা আরবি ও ফারসি ভাষা চর্চা করতেন। আবার সংস্কৃত ভাষায় সুপণ্ডিত মুসলমানও বিরল নন। পড়ুয়ারা যদি ‘জলখাবার’-এর পাশাপাশি ‘ব্রেকফাস্ট’ এবং ‘নাস্তা’ শব্দ দু’টি একই সঙ্গে শেখে, তাতে তার শিক্ষার বিস্তারই ঘটবে। আজকের দিনে ভাষার তথাকথিত মৌলিকত্ব বা বিশুদ্ধতা বজায় রেখে পাঠ্যবই নির্মাণ সম্ভবও নয়, কাম্যও নয়। শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্যই তো হল সমস্ত রকম সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে উদার আকাশে ডানা মেলা।
তবে বাংলা শব্দের রকমফের খুঁজতে ঢাকা যাওয়ার দরকার নেই। কারণ এই রাজ্যেই সর্বত্র একই রকম বাংলা শব্দের প্রচলন নেই। বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার বাংলা আর তরাই-ডুয়ার্সের বাংলায় তফাত সহজেই নজরে পড়ে। শিশুপাঠ্যে কেবল কলকাত্তাইয়া ভাষার আধিপত্য থাকলেই তা সব পড়ুয়ার আপন ভাষা হয়ে ওঠে না। যশপাল কমিটির সুপারিশেও পাঠ্যবইয়ের ভাষাকে শিশুর নিজস্ব জীবন, অভিজ্ঞতা ও কথ্য ভাষার কাছাকাছি রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরিচিত, ঘরোয়া শব্দ দিয়ে শিশুপাঠ্য তৈরি হলে শিশুর শিক্ষা সহজতর হয়। নতুন প্রশাসনের কাছে এই রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রচলিত মুখের ভাষার শব্দ ব্যবহার করে প্রয়োজনের ভিত্তিতে অঞ্চলভেদে আলাদা পাঠ্যবই তৈরির কথা ভাবার আবেদন রইল।
কৌশিক চিনা, মুন্সিরহাট, হাওড়া
আধিপত্য-শঙ্কা
জহর সরকারের লেখা প্রবন্ধ ‘সংখ্যা নয়, আধিপত্যের প্রশ্ন’ (৫-৮) খুব ভাল লাগল। হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুত্বের আধিপত্য আরও শক্তিশালী হওয়ার যে আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি ও আধা-সরকারি ক্ষেত্রে হিন্দির ব্যবহার ও প্রাধান্য নিয়েও দেশের বহুভাষিক চরিত্রের কথা মনে রাখা দরকার।
বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল হলে দেশ ও রাজ্যে গণতন্ত্রের পক্ষে তা কখনওই ভাল নয়। সংসদে শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠস্বর যেমন প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন রাজনৈতিক মতের বহুত্ব। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করাই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়; ক্ষমতার উপর কার্যকর নজরদারি এবং ভিন্নমতের মর্যাদাও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
অন্য দিকে, দেশে একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে উদ্বেগ, লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং সম্পদের অসম বণ্টনের মতো সমস্যাও সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক জগতের মানুষের স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও নানা সময়ে চাপের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক শক্তিকেই দিতে হবে। এবং, এ সবের ফলাফলে শাসক দলের পায়ের তলার মাটি আলগা হবে কি না— সময়ই বলবে।
স্বপন আদিত্য কুমার বিশ্বাস, অশোকনগর, উত্তর ২৪ পরগনা
প্রতিবাদের পাশে
‘লেখকের দাবি’ (২৬-৭) সম্পাদকীয় প্রবন্ধটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্রালাপের প্রসঙ্গটি আজকের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। পথের দাবী তৎকালীন পরাধীন ভারতে স্বদেশিদের ব্রিটিশ-বিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং রোষের কারণ হয়েছিল। শরৎচন্দ্র চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠে আসুক। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতিবাদীর পাশে সহনাগরিকদের দাঁড়ানোর প্রশ্নটি আজও প্রাসঙ্গিক। যে কোনও যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখা, গান, নাটক বা অন্য কোনও মাধ্যমে প্রতিবাদের স্বর উঠলে সেই প্রতিবাদের পাশে থাকা দরকার। না হলে অন্যায়কারীর স্বৈরাচারকেই সমর্থন করা হয়।
তপতী গোস্বামী, মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর
ভরসা থাকুক
সুমন কল্যাণ মৌলিকের ‘বার্ধক্যের জরুরি রক্ষাকবচ’ (৩০-৭) প্রবন্ধে স্পর্শকাতর বিষয়টি বিস্তৃত ভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রশাসন ও সমাজ এ বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করলে, তা কিছুটা হলেও সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে। তবে সব সময় সুবিধা সবার কাছে সমান ভাবে পৌঁছয় না।
মধ্যবয়সি এক জন মহিলা হিসাবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলি— আজকের দিনে বাবা-মায়ের দায়িত্ব ছেলে ও মেয়ে, উভয়েরই সমান। অধিকাংশ পরিবারেই বাবা-মা ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সকল সন্তানের জন্য নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেন। তাই একাধিক ভাই-বোন থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বাবা-মায়ের বার্ধক্যের দিনগুলি অর্থ, মনোযোগ, স্নেহ ভালবাসা ও সময় দিয়ে সহজ ও সহনীয় করে তোলা উচিত। আবার, আজকের প্রজন্মে অনেকেই বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। জীবিকার প্রয়োজনে তাঁদের অনেককেই অন্য শহর বা দেশে থাকতে হয়। সবার পক্ষে বাবা-মাকে সর্বদা নিজের কাছে রাখা সম্ভব নয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দূরে থেকেও তাঁদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা সম্ভব।
আজকের দিনে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ বার্ধক্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন না বা অসুস্থ হয়ে পড়েন না। অনেকেরই নিজেদের জীবনযাপনের পর্যাপ্ত সামর্থ্য থাকে। সে ক্ষেত্রে তাঁরা প্রয়োজনমতো সাহায্য নিয়ে নিজের বাসস্থানেই থাকতে পারেন। তবে সন্তানদের সহযোগিতা ও নিয়মিত খোঁজখবর অবশ্যই থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বয়স্ক মানুষ একা থাকছেন বলে তাঁদের অসহায় বলে না দেখে, মনোবল বাড়িয়ে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগানো প্রয়োজন। তাতে তাঁদের জীবন আরও সহজ ও স্বাভাবিক হতে পারে।
অনেক সময় পারস্পরিক সমঝোতার অভাবে বাবা-মা এবং তাঁদের প্রাণপ্রিয় সন্তান— উভয়েরই মানসিক টানাপড়েন চরমে পৌঁছয়। তাই আজকের যুগের দাবি মেনে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত। বাবা-মায়ের পাশে থাকা শুধু কর্তব্য নয়, তাঁদের বার্ধক্যকে মর্যাদাপূর্ণ করে তোলাও সন্তানের দায়িত্ব।
আইভি লাহিড়ী, কলকাতা-৩০
ফেরার ট্রেন
বর্তমানে বনগাঁ থেকে মাঝেরহাটগামী একাধিক লোকাল ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু মাঝেরহাট থেকে বনগাঁয় ফেরার জন্য সরাসরি কোনও ট্রেন নেই। ফলে বনগাঁ ও সংলগ্ন এলাকার নিত্যযাত্রীদের চরম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তাই মাঝেরহাট-হাবড়া লোকাল ট্রেনটি বনগাঁ জংশন পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি।
অভিজিৎ ঘোষ, গাইঘাটা, উত্তর ২৪ পরগনা