Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: যত জোরে, তত ভক্তি?

একটা নেশনের পরিচয় বহন করে সহিষ্ণুতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতান্ত্রিকতা। এখন এই শব্দগুলো বাক্সবন্দি।

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০০:০০

একটা নেশনের পরিচয় বহন করে সহিষ্ণুতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতান্ত্রিকতা। এখন এই শব্দগুলো বাক্সবন্দি। গত আট মাস ধরে ভোর চারটে থেকে সকাল ছ’টা/সাতটা পর্যন্ত এবং বিকেল পাঁচটা থেকে প্রায় সাতটা পর্যন্ত যে হারে জোরে আমাদের গ্রামে মাইক বাজানো চলছে তা সত্যিই অস্বস্তিকর, বিরক্তিকর। মুক্ত চিন্তার অবকাশটুকু কেড়ে নিচ্ছে বলাই শ্রেয়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি তো হচ্ছেই। এর কারণ অনুসন্ধানে জেনেছি, ডিজিটাল কীর্তন হচ্ছে। ‘নামলীলাগুনাদীনং উচ্চৈঃভাষা তু কীর্তনম’ এখানে আদৌ নেই, আছে পৌরাণিক কোনও কাহিনির তারস্বরে মাইকে চিৎকার। কীর্তন ব্যাপারটা এখন যে সাউন্ড-নির্ভর। যত জোরে বাজবে তত অপার ভক্তি। এ ভাবে শুনে (আদতে কেউই শোনে না, বোঝেও না, অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে) স্বর্গলাভ হলে মন্দ হত না, সবাই উতরে যেতাম অনায়াসে। কিন্তু অনবরত এ রকম ধর্মীয় সুড়সুড়ি কার ভাল লাগে? প্রতিবাদ করলে শুনতে হয়েছে, ‘‘তোরা যখন দিনে পাঁচ বার চিৎকার করছিস!’’ উচ্চশিক্ষার চৌকাঠ ডিঙিয়েছে এ রকম মানুষ আমাদের গ্রামে কম। তাদের অনেকেই আবার এই ধর্মযজ্ঞে শামিল। আর শুভবুদ্ধিসম্পন্ন যাঁরা আছেন, এ নিয়ে মন্তব্য করে ঝামেলা পাকাতে চান না। ধর্মীয় বিধানে কী আছে কী নেই এ সব জানা গ্রামের অধিকাংশের পক্ষেই দূর অস্ত্। তাঁরা স্কুলের গণ্ডি ডিঙোননি। সাধারণ স্বল্পশিক্ষিত গোবেচারা মানুষের মাথায় ধর্মীয় রোখ চাপাতে পারলে রাজনৈতিক সুবিধা আছে বইকি!

গাফ্ফার আনসারী, মাকড়কা, পুরুলিয়া

খোল নয়, বুলেট
‘খাতা কিনতে গুলির খোল’ (২৪-৮) শীর্ষক খবর এবং ‘রোজগার: কুড়িয়ে পাওয়া গুলির খোল’ ক্যাপশন দেওয়া ছবি প্রসঙ্গে জানাই, ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে সেগুলি ‘গুলির খোল’ নয়, ‘বুলেট’। এবং স্থানীয় কিশোররা যা সংগ্রহ করে বিক্রি করে বলে খবরে বলা হয়েছে, সেই বস্তুও ‘গুলির খোল’ নয়, ‘বুলেট’। দু’একটি কথা বললে বিষয়টি বোঝা যাবে। রাইফেলের কার্তুজের দু’টি অংশ: ১) খোল— এটি পাতলা ধাতুর পাত দিয়ে তৈরি বেলনাকার (Cylindrical) অংশ, যার ভিতরটি ফাঁপা। এই ফাঁপা অংশে বারুদ ভরা থাকে। খোলের এক প্রান্তে বসানো থাকে বুলেট, বিপরীত প্রান্ত থাকে বন্ধ। বন্ধ প্রান্তের কেন্দ্রস্থলে থাকে প্রাইমার ক্যাপ। ২) বুলেট— এক দিক সূচাল নিরেট বেলনাকার ধাতব অংশ, যা খোলের এক দিকে চেপে বসানো থাকে। এই বুলেট রাইফেলের নল দিয়ে বেরিয়ে লক্ষ্যে আঘাত করে। ট্রিগার টিপলে আগ্নেয়াস্ত্রের ফায়ারিং পিন কার্তুজের প্রাইমারে আঘাত করে, প্রাইমার জ্বলে উঠে খোলের মধ্যে থাকা বারুদে আগুন লাগায়, বারুদ পুড়ে তৈরি হয় প্রচণ্ড উচ্চচাপের গ্যাস যা বার হওয়ার রাস্তা খোঁজে, সেই গ্যাস খোল থেকে আর কোনও দিকে বার হতে না পেরে খোলের মুখে সামান্য চেপে বসানো বুলেটটিকে বিপুল গতিতে ঠেলে আগ্নেয়াস্ত্রের নলের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্যের দিকে ধাবমান করে নলের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে যায়। খালি খোলটি আগ্নেয়াস্ত্রের ভিতরেই থেকে যায়, যা বিভিন্ন উপায়ে দ্রুত বার করে ফেলা হয়, যাতে আর একটি নতুন কার্তুজ আগ্নেয়াস্ত্রে ঢোকানো যায়।
সরকারি নির্দেশ অনুসারে, সমস্ত সশস্ত্র বাহিনীকে গুলি ছোড়ার অনুশীলনের শেষে খালি খোলগুলি জমা দিতে হয়। প্রতিটি সৈন্যের ক্ষেত্রে অনুশীলনের শুরুতে ইসু হওয়া কার্তুজের সংখ্যা এবং অনুশীলনের শেষে খালি খোলের সংখ্যা সরকারি খাতায় এক হতেই হবে। কার্তুজের খালি খোল কখনই ফায়ারিং রেঞ্জে ফেলে আসা যায় না। কাজেই কোন অসামরিক মানুষ তা সংগ্রহ করতেও পারেন না।
রাইফেলের নল থেকে বেরিয়ে বুলেট নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা কাগজের টার্গেট ফুটো করে, টার্গেটের পিছনে থাকা মাটি, বালি, পাথর বা বাফার ওয়ালে বিদ্ধ হয়ে বিকৃত আকারে পড়ে থাকে। বাহিনীর কাছে এগুলির আর কোনও গুরুত্ব নেই। নিরেট মিশ্র ধাতু ও সিসার তৈরি এই বুলেটগুলি খুঁড়ে বার করে ওজনদরে বিক্রি করলে কিছু টাকা পাওয়া যায়।
অমিতাভ কারকুন
কলকাতা-৩২

সমবায় ব্যাঙ্ক
আগে সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে স্থানীয় ভাবে কর্মচারী নিয়োগ করা হত। এর ফলে আমানতকারী, ঋণগ্রহীতা— এঁদের সঙ্গে ব্যাঙ্কের কর্মচারীদের একটা সুসম্পর্ক গড়ে উঠত। গড়ে উঠত সমবায় সমিতিগুলির পরিচালকমণ্ডলী এবং সমিতিগুলির কর্মচারীদের সঙ্গে ব্যাঙ্কের কর্মচারীদের একটা দুর্নীতিমুক্ত ঘরোয়া পরিবেশ। এর ফলে ব্যাঙ্কের প্রভূত উন্নতি হত।
এখন কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে জেলা সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, এক জেলার কর্মী অন্য জেলার সমবায় ব্যাঙ্কে চাকরি পাচ্ছেন। এতে চাকরিরত কর্মী এবং সমবায় ব্যাঙ্ক— উভয় ক্ষেত্রেই অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। সমবায় ব্যাঙ্কগুলি মূলত জেলাভিত্তিক। একটি জেলার সমবায় ব্যাঙ্কের সঙ্গে অন্য জেলার সমবায় ব্যাঙ্কের কোনও সম্পর্ক নেই। সুতরাং কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যদি নিয়োগপদ্ধতি জেলাভিত্তিক হয়, অসুবিধা কোথায়? সেই জেলার অধিবাসী সেই জেলার সমবায় ব্যাঙ্কে চাকরি করবেন। প্রতিটি জেলায় দক্ষ এবং যোগ্য প্রার্থীর তো অভাব নেই। এতে ব্যাঙ্কের পরিষেবার মান উন্নত হবে।
শিবশঙ্কর বক্সী
সেক্রেটারি, বাঁকুড়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক লিমিটেড
রিটায়ার্ড এমপ্লয়িজ় ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন

নাগরিক
আমি এক জন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। রাজ্য সরকারের নিয়মিত পেনশনভোগী। আমার আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড আছে। আমি নিয়মিত ভোট দিই। কিছু দিন আগে পিএসকে-এর অফিসে পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করি। সেখানে এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা হল। আমি পূর্ব পাকিস্তান (অধুনা বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম থেকে ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান বোর্ড থেকে স্কুল ফাইনাল পাশ করে ভারতে আসি। তার পর এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে পিইউ, বি এসসি, এম এসসি, বিএড পাশ করে স্কুলে শিক্ষকতার কাজ শুরু করি। পরে যথা নিয়মে অবসর নিই এবং পেনশন পাই। পিএসকে-এর অফিস থেকে আমাকে বলা হয় ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নিয়ে আসতে হবে, না হলে পাসপোর্ট হবে না। অত দিন যাবৎ ভারতে বসবাস করে এবং পেনশনভোগী হওয়া সত্ত্বেও আমি ভারতীয় নাগরিক হইনি এটাই আমাকে বিস্মিত করেছে।
রীতা লালা
কলকাতা-৮১

তারাও করুক
রাজ্যের সরকারি বিভিন্ন পলিটেকনিকে ৫৯৮ জন লেকচারার নেবে রাজ্য সরকার। প্রার্থী বাছাই করবে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন। যার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি নম্বর ২৪/২০১৮, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে প্রথম শ্রেণির স্নাতক বা সমতুল্য। কিন্তু যে সমস্ত ছেলেমেয়ে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে এই যোগ্যতা অর্জন করেছে, তাদের নিয়োগ করার কথা বলা হয়নি বা সুযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ রাজ্যের কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এখনও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো চলেছে। তাই মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন, প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বি টেক, এম টেক করা ছেলেমেয়েরাও যেন উক্ত পদে আবেদন করতে পারে।
রণেন রায়
সুরেন্দ্রনাথ পল্লি, মালদহ

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

Religion Loudsoeaker Devotional Program

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy