E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সম্পাদক সমীপেষু: বিপন্ন পতঙ্গ

আসলে কীটপতঙ্গের কাছে বর্ষা হল উৎসবের ঋতু। সেই বিচিত্র বর্ণ ও শব্দমুখর উৎসবে কি ক্রমশ ভাটার টান পরিলক্ষিত হচ্ছে? পরিবেশপ্রেমী হিসাবে এই প্রশ্ন চিন্তাতুর করে তোলে আমাদের। নগরায়ণ ও শিল্পায়নে কমছে বনজঙ্গল, জলাভূমি।

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩২

অমরকুমার নায়কের ‘পতঙ্গ-পুরাণ’ (রবিবাসরীয়, ২০-৯) পাঠ করে মন ভরে গেল। উপেক্ষিত পতঙ্গদের বিচিত্র জীবনশৈলীর অনেক অজানা তথ্য প্রবন্ধটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে, বর্ষায় পতঙ্গকুলের অধিকতর প্রাণবন্ত ও কর্মমুখর উপস্থিতির ছবি লেখক এঁকেছেন। অজস্র প্রজাতির কীটপতঙ্গের সক্রিয় উপস্থিতি বর্ষার প্রক‌তিকে মুখর করে তোলে। তাদের রং আর বিচিত্র কলতান বর্ষার প্রকৃতিকে অনন্য মাত্রা দেয়। একটানা ঝিঁঝির ডাক ছাড়া গ্রামবাংলায় বর্ষার রাত কল্পনা করা যায় না। কবি জন কিটস যথার্থই লিখেছেন— “দ্য পোয়েট্রি অব আর্থ ইজ় নেভার ডেড।”

আসলে কীটপতঙ্গের কাছে বর্ষা হল উৎসবের ঋতু। সেই বিচিত্র বর্ণ ও শব্দমুখর উৎসবে কি ক্রমশ ভাটার টান পরিলক্ষিত হচ্ছে? পরিবেশপ্রেমী হিসাবে এই প্রশ্ন চিন্তাতুর করে তোলে আমাদের। নগরায়ণ ও শিল্পায়নে কমছে বনজঙ্গল, জলাভূমি। এ হল উন্নয়ন তথা সভ্যতার বাধ্যবাধকতা। কিন্তু সেখানেই কি আমরা থামছি? কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত কীটনাশকের অবাঞ্ছিত প্রয়োগ ঘটছে। পতঙ্গ সাম্রাজ্যের অসংখ্য প্রজাতির অস্তিত্ব তাতে বিপন্ন। দূষণের যথেচ্ছাচারকে নিয়ন্ত্রণ না করলে একটা সময় আসবে, যখন ফুল হাসবে, কিন্তু রেণুবাহক পতঙ্গের অভাবে তার ফলরূপে পরিণতি প্রাপ্তি ঘটবে না। ইদানীং ঘাস ও আগাছা মারতে এক ধরনের বিষ স্প্রে করা হচ্ছে। তাতে কয়েক দিনের মধ্যে ঘাস ও আগাছা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে মারা পড়ছে অসংখ্য কীটপতঙ্গ, পরাগমিলন ঘটিয়ে যারা প্রকৃতিকে সুফলা শস্যশ্যামলা রাখে। কোদাল দিয়ে আগাছা বা ঘাস পরিষ্কার করলে তাতে পতঙ্গকুলের এতটা সর্বনাশ হত না। পতঙ্গকুলের সর্বনাশ মানে পরোক্ষে মানুষেরও সর্বনাশ। নিজেদের সর্বনাশ রোধ করতে আমরা সতর্ক হব কবে?

প্রদীপ রঞ্জন রীত, আমতা, হাওড়া

হাতি উদ্ধার

প্রথম পৃষ্ঠা জুড়ে তিনটি ছবি-সহ ‘হাতি-ছানাকে উদ্ধার মৎস্যজীবীদের’ (২২-৯) শীর্ষক প্রতিবেদনটি মন ভাল করে দিল। যুদ্ধ-হিংসা-ঘৃণা-বর্বরতায় মত্ত এই নিষ্ঠুর সময়ে সমাজের তথাকথিত প্রান্তিক শ্রেণির পাঁচ মৎস্যজীবী তিস্তা নদীতে ভেসে যাওয়া হস্তিশাবককে উদ্ধার করে যে মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় এমন সচেতন প্রয়াস এখন ভীষণ জরুরি। হাতি খাবার জন্য এবং পায়ে মাড়িয়ে যত গাছ ধ্বংস করে, তার কয়েক গুণ বেশি নতুন চারাগাছ সৃজনে সাহায্য করে মলত্যাগের মাধ্যমে ফলের বীজ ছড়িয়ে। অর্থাৎ, হাতি জঙ্গলের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এই প্রসঙ্গে স্মরণে আসে ২০২০ সালে কেরলে এক গর্ভবতী হাতিকে অতি বীভৎস ভাবে হত্যা করার ঘটনাটির কথা। এক বুনো হাতিকে আনারসের মধ্যে বাজি বা বিস্ফোরক ভরে কে বা কারা খাইয়ে ছিল। বিস্ফোরক ভর্তি আনারসটি হাতির মুখে ফেটে যায়। যন্ত্রণাকাতর হাতিটি একটি জলাশয়ের মধ্যে মারা গিয়েছিল। এই ঘটনা ছিল আসলে একটি নৃশংস পরিকল্পিত হত্যা। সেই ভয়ঙ্কর সংবাদ পড়ে ও জেনে সেই সময় পরিবেশকর্মী-সহ সকল বিবেকবান মানুষ ধিক্কার জানিয়েছিলেন।

এই নৃশংসতার বিপরীতে বিপদকে তুচ্ছ করে প্রবল স্রোতের মধ্যে তিস্তা নদীতে নৌকার সাহায্যে যে ভাবে হাতির ছানাটিকে মৎস্যজীবীরা উদ্ধার করেছেন, সেই ঘটনার বিবরণ পড়ে ও ছবি দেখে বলাই যায়— এখনও প্রাণ আছে, আশাও আছে।

কৌশিক চিনা, মুন্সিরহাট, হাওড়া

শিক্ষার মান

‘সর্বজনীন শিক্ষার প্রশ্ন’ (২৫-৯) শীর্ষক অচিন চক্রবর্তীর লেখাটিতে শিক্ষা বিস্তারের একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সর্বজনীনতার বিষয়েও কিছু মন্তব্য করা হয়েছে। বিষয়টি কোনও সময়েই অনালোচিত ছিল না। শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকারের মর্যাদা দেওয়া, আলাদা ধারা তৈরি করা— এ সব নিয়ে বহু চর্চা হয়েছে। কিন্তু যে সময়ে সংবিধান ছিল না, সেই সময় বিদ্যাসাগর মহাশয় বেশ খানিকটা একক প্রচেষ্টায় শিক্ষাকে সর্বজনীন করে তোলার চেষ্টা করেছিলেন।

সেই সময়ে, এমনকি এই সময়েও শিক্ষাকে সর্বজনীন করার পথে বেশ কিছু বাধা ছিল এবং আছে। এই বাধা মূলত দু’টি। প্রথমত, সামাজিক শ্রেণিগত ভেদাভেদজনিত সমস্যা। এই সমস্যা আজ অনেকটাই কমেছে। দ্বিতীয়ত, প্রথাগত শিক্ষার যথার্থতা ও উপযোগিতা মধ্যবিত্তকে বোঝানোর ব্যর্থতা। এই বিষয়টি আজও ক্রিয়াশীল। আজকের সময়ে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজ়াল্ট বেরোনোর পর নানা সমীক্ষায় উঠে আসে কলেজের ছাত্র ভর্তির আসন ফাঁকা। কিছু অঞ্চলে বা কিছু ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের পর বা তার আগেই ছেলেমেয়েরা বৃত্তিমূলক কোর্সে ভর্তি হতে চাইছে। যেন কোনও রকমে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়ে গেলেই হল। প্রথাগত শিক্ষাকে আজ অনেকেই গুরুত্ব দেয় না। শুধুমাত্র মিড-ডে মিল খাইয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছেলেমেয়েকে স্কুলে আটকে রাখলেই যে সমাজে সর্বজনীন শিক্ষার সুফল দেখা দেবে— এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে এ বার বেরোতে হবে। সর্বজনীন শিক্ষার পরিসংখ্যানের স্বার্থে এ-হেন কাজ অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। সর্বজনীন শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিকাঠামো এবং প্রকল্প যেমন জরুরি, তেমনই আরও বেশি জরুরি হল শিক্ষার মান। ছেলেমেয়েরা যাতে ভবিষ্যতে বলতে পারে, স্কুলে অনেক কিছু শিখেছি, যা আমাদের জীবনে কাজে লেগেছে। দুঃখের বিষয়, কারও সে দিকে নজর নেই।

শঙ্খ অধিকারী, সাবড়াকোন, বাঁকুড়া

আলোকিত

হুগলি জেলার চাঁপদানি পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকার বহু রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে আলো নেই। ফলে সন্ধ্যার পর অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তায় যাতায়াতে যথেষ্ট অসুবিধা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। সামনেই দীপাবলি এবং তার কিছু দিন পরেই চন্দননগর-ভদ্রেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজো। এই আনন্দ ও উৎসবের মরসুমে শহরের প্রতিটি রাস্তা আলোকিত ও নিরাপদ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, অবিলম্বে চাঁপদানি পুরসভার বিভিন্ন রাস্তার সমস্ত ল্যাম্পপোস্টে প্রয়োজনীয় আলো লাগানোর পাশাপাশি অচল আলোগুলিও দ্রুত মেরামত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হোক। আলো শুধু অন্ধকার দূর করে না— আলো মানুষের মনে নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতিও জাগায়। আসন্ন উৎসবের আনন্দ যেন প্রতিটি মানুষের কাছে নিরাপদ, সুন্দর ও আলোকিত হয়ে পৌঁছায়— এই প্রত্যাশাই রইল।

সিদ্ধার্থ দত্তচৌধুরী, ভদ্রেশ্বর, হুগলি

বাসে ওঠার ঝক্কি

দুর্গাপুর সিটি সেন্টার থেকে মুচিপাড়া হয়ে সরকারি ও বেসরকারি যে বাসগুলি সিউড়ি, বর্ধমান, কৃষ্ণনগর, কলকাতা, বহরমপুর, মালদহ, শিলিগুড়ি ইত্যাদি গন্তব্যে যায়, যাত্রী তোলার জন্য সেগুলি মুচিপাড়ায় বড় রাস্তার পাশে এসে দাঁড়ায় কিংবা মুচিপাড়ায় পৌঁছানোর আগেই বাঁ দিকের রাস্তা দিয়ে নেমে মুচিপাড়ার নির্ধারিত বাস স্টপেজের সামনে এসে দাঁড়ায়। আগে থেকে যাত্রীদের বোধগম্য হয় না যে বাস ঠিক কোথায় এসে দাঁড়াবে। নির্ধারিত বাস স্টপেজ চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ যদি দেখা যায় বাস বড় রাস্তার ধারে এসে গিয়েছে, সার্ভিস রোডের দু’দিক থেকে আসা যানবাহন সামলে পড়িমরি করে ছুটে যেতে হয় এবং খানাখন্দ পার করে উঁচু পাইপলাইন পেরোনোর ঝক্কি সামলে বাসে উঠতে হয় রীতিমতো লড়াই করে।

সৌরভ দত্ত, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Butterfly Monsoon Season insects

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy