আলেকজ়ান্দার ভুচিচ-এর দলকে হারিয়ে সার্বিয়ার ক্ষমতায় আসছে ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত নতুন রাজনৈতিক শক্তি। নির্বাচনে জয়ের পরই তাদের নেতারা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের পদত্যাগ দাবি করেছেন। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আরটিএস-এর প্রধানও সরে দাঁড়িয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রেলস্টেশনের ছাউনি ভেঙে ১৬ জনের মৃত্যুর পর দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, এই পালাবদল তারই পরিণতি। নতুন নেতৃত্বের আশঙ্কা, ক্ষমতা হস্তান্তরের অপেক্ষায় থাকলে অনিয়মের প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। নবনির্বাচিত সাংসদ আর ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা কেবল প্রশাসনের শীর্ষে কয়েকটি মুখ বদলাতে চাইছেন না; তাঁদের বক্তব্য, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যম যদি শাসক দলের স্বার্থে কাজ করে, তবে নির্বাচনে সরকার বদলালেই সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে না। তার জন্য আলাদা ভাবে চেষ্টা করতে হয়। নতুন সরকারের সামনে প্রথম কাজ প্রতিষ্ঠানগুলির উপর নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
জয়োল্লাস: বেলগ্রেডে পার্লামেন্ট ভবনে ছাত্র নেতা-সমর্থকেরা। ছবি: রয়টার্স।
তথ্য ফাঁস
আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি (ডিএইচএস)-এর একচল্লিশ হাজারেরও বেশি কর্মীর নাম, যোগাযোগের নম্বর ও কর্মস্থলের ঠিকানা ফাঁস হয়ে গেল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বিরোধী অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মীরাও। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে গোপন নানান অভিযানের বিবরণ, সেই সব অভিযানে যুক্ত আধিকারিকদের নামও। তথ্য ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীটির বক্তব্য, আধিকারিকদের পরিচয় গোপন রাখার আড়ালে তাঁদের কাজকর্মও সব সময় আড়ালে থেকে যায়। তাই তাঁদের সম্বন্ধে সব তথ্য জনসমক্ষে আনা হল এ বার।
বন নেই, তাই গ্রামে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো গড়তে ফিনল্যান্ডের প্রায় ৫৩০ হেক্টর বন কেটে ফেলেছে গুগল। হিসাব অনুযায়ী, দুই জায়গায় কাটা পড়েছে প্রায় চার লক্ষ গাছ। এ দিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জঙ্গল কেটে ফেলায় বন্য জন্তুরা পালানোয় গ্রামে নেকড়ের আনাগোনা বেড়েছে। গুগল জানিয়েছে, তারা ১৩০ হেক্টর জমিতে নতুন গাছ লাগাবে। কিন্তু শুধু মুহোসেই কাটা হয়েছে ৩৩০ হেক্টর বন। ফিনল্যান্ডে ১,৩০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করে তথ্যকেন্দ্র বাড়াতে চায় সংস্থাটি। ডিজিটাল বিপ্লবের সাফল্যের আড়ালে যে বিপুল পরিবেশগত মূল্য দিতে হচ্ছে, ফিনল্যান্ডের ঘটনা তা মনে করিয়ে দিল।
স্বীকারোক্তি: রাজা চার্লস। ছবি: রয়টার্স।
অতীতের অন্ধকার
ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে সফরে গিয়ে দাসপ্রথার ‘গভীর যন্ত্রণা ও অবিচার’-এর কথা স্বীকার করলেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। বাহামাসে দাঁড়িয়ে তিনি জানালেন, আসন্ন কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। ক্যারিবীয় দেশগুলি অবশ্য শুধু স্বীকৃতি নয়, দাসপ্রথার জন্য ব্রিটেনের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও ক্ষতিপূরণ চাইছে। পঞ্চদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপীয় বণিকরা অন্তত ১ কোটি ২৫ লক্ষ আফ্রিকানকে দাস করে বিক্রি করেছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষকে এনেছিল ব্রিটেন। ১৮৩৪ সালে দাসপ্রথা তুলে নেওয়ার সময় ব্রিটিশ সরকার দাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল, দাসদের নয়। ব্রিটিশ সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা বা ক্ষতিপূরণে রাজি নয়। অতীতের অন্যায় স্বীকার করা আর তার দায় মেনে নেওয়া যে এক কথা নয়, এই বিতর্কে সেটাই স্পষ্ট।
বার্ধক্যের দেশ
চিনে এই প্রথম শিশুদের তুলনায় প্রবীণদের অনুপাত বেশি হল। দেশে এখন ২২ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি প্রবীণ, শিশু প্রায় ২১ কোটি ৩০ লক্ষ। দীর্ঘায়ু বাড়ছে, জন্মহার কমছে। এক সন্তান নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের সঙ্গে যোগ হয়েছে শহুরে জীবনের খরচ, বদলে যাওয়া সামাজিক ভূমিকা। পরিবারের ভিতরেও বদলাচ্ছে নির্ভরতার সমীকরণ: যে প্রজন্ম একদা সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব নিয়েছিল, এখন তাদেরই ভার পরের প্রজন্মের কাঁধে। এই বদল শুধু পেনশন বা স্বাস্থ্যখাতে চাপ বাড়াবে না, বদলে দেবে পরিবার, সমাজের ভবিষ্যৎ কাঠামোও।