E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ভোরের পাঠ

তীব্র গরমে শিশুদের অসুস্থ হয়ে পড়ার পরিস্থিতি দেখা দিলে ছুটি বৃদ্ধির প্রয়োজন, অবশ্যই। কিন্তু সেই ছুটি কোনও ভাবেই পঠনপাঠনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না। যদি গ্রীষ্মের ছুটিকে দীর্ঘতর করতেই হয়, তবে অন্য ছুটি কমিয়ে তা পূরণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ০৬:৩৪

বদলেছে স্কুলের সময়। এক দিকে প্রবল গরম, অন্য দিকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর ছুটির পূর্ব-অভিজ্ঞতা। উভয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্যের আশু প্রয়োজন ছিল। আপাতত তার সন্ধান মিলেছে। এই বছরও গরমের ছুটির নির্ধারিত সময়সীমা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তার পর নির্দিষ্ট দিনেই খুলেছে স্কুল। তবে গরম কমেনি। গ্রামের দিকে, যেখানে স্কুলগুলিতে পরিকাঠামোগত খামতি যথেষ্ট, সেখানে প্রবল উত্তাপে কষ্ট পাচ্ছিল শিশুরা। অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সুতরাং, সময় পরিবর্তন করে সকালে স্কুল করার কথা জানিয়েছিল শিক্ষা দফতর। একই সঙ্গে জানিয়েছিল যাতে পঠনপাঠনের সময়সীমা না কমে। সেই নির্দেশিকাই এই গোটা মাসের জন্য বহাল রয়েছে। তাতে সাড়াও মিলেছে যথেষ্ট। দেখা গিয়েছে, সকালে স্কুল হওয়ায় পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

তীব্র গরমে শিশুদের অসুস্থ হয়ে পড়ার পরিস্থিতি দেখা দিলে ছুটি বৃদ্ধির প্রয়োজন, অবশ্যই। কিন্তু সেই ছুটি কোনও ভাবেই পঠনপাঠনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না। যদি গ্রীষ্মের ছুটিকে দীর্ঘতর করতেই হয়, তবে অন্য ছুটি কমিয়ে তা পূরণের ব্যবস্থা করা জরুরি। এই সহজ কথাটি পূর্বতন সরকার বোঝেনি। উল্টে প্রতি বছর অনাবশ্যক ছুটির তালিকা বেড়েছে। দীর্ঘ ছুটিতে পঠনপাঠনের ক্ষতি উদ্বেগের। একে অধিকাংশ স্কুলেই ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত যথাযথ নয়। তদুপরি, শিক্ষকদের নানাবিধ সরকারি কাজে যুক্ত থাকতে হয় বলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রায়শই ব্যাহত হয়। ছুটি সেই সমস্যাকেই জটিলতর করে। পৃথক গৃহশিক্ষক রেখে শ্রেণি-শিক্ষার খামতিকে পূরণ করার সুযোগ সমস্ত শিশু পায় না। তাদের অনেকেই প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। ফলে পরিবারের সাহায্যও সর্বদা মেলে না। এতে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। অন্য বিষয়টি পুষ্টিসংক্রান্ত। দরিদ্র পরিবারের শিশুর কাছে মিড-ডে মিলের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। দীর্ঘ ছুটিতে তা থেকেও শিশু বঞ্চিত হয়। ছুটিতে অভিভাবকের হাতে শুকনো খাবার তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও রান্না করা গরম খাবারের বিকল্প তা হতে পারে না। অভাবের স‌ংসারে চাল-আলু-ছোলা যথাযথ পরিমাণে শিশুর পাত অবধিও পৌঁছতে পারে কি?

তবে, সকালে স্কুল বসার পরিস্থিতি সব স্কুলের ক্ষেত্রে সমান সুবিধাজনক নয়। দূরত্বের কারণে সকালের স্কুলে উপস্থিত হওয়া শিক্ষক ও ছাত্রদের একাংশের কাছে অসুবিধার। আগামী দিনে এ সব ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা আনা যায় কি না, ভাবতে হবে। একতরফা সরকারি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়। বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে পরিকাঠামোর উন্নতির প্রতিও সচেতন দৃষ্টি দেওয়া আবশ্যক। শিক্ষার্থীদের একাংশ সুন্দর পরিবেশে, মাথায় ছাদ, পাখা, পানীয় জলের সুবিধা পাবে, আর অন্য অংশটি তীব্র গরমে পাখাহীন, ফুটো ছাদ, জীর্ণ দেওয়াল আর জলের আকালকে সঙ্গী করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে— এই তীব্র বৈষম্যে ইতি টানতে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হোক। উদ্যোগী হোক নানাবিধ সরকারি কাজে বিদ্যালয় ভবনগুলির যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধেও। গরমের ছুটির পরেও অনেক স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। শিক্ষার প্রকৃত উন্নতি করতে হলে সব দিক দিয়েই তা করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র ছুটি কমিয়ে দীর্ঘ ক্ষতি পূরণ করা যাবে না।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Students Education system

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy