কে যে কখন কী কারণে নেট দুনিয়ায় ‘ভাইরাল’ হয়ে যান, কেউ জানে না। মোদী সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কানাডা ও আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন। আমেরিকায় তিনি শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিউ ইয়র্কে পেন স্টেশনে পৌঁছতে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রা। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে নিজের ট্রলিব্যাগ নিয়ে হাঁটছিলেন। মন্ত্রী নিজের ট্রলিব্যাগ নিজেই টানছেন, দেখে অভিভূত নেট দুনিয়া। কেউ বলছেন, নির্মলা খুবই ‘ডাউন টু আর্থ’। কেউ বলছেন, উনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন বলেই নিজের কাজ নিজে করতে জানেন। আর কেউ বলছেন, মন্ত্রিসভার রদবদল হলেও নির্মলার হাতেই অর্থ মন্ত্রক থাকবে।
আত্মনির্ভর: আমেরিকায় নির্মলার ট্রলি টানার এই ছবিই ভাইরাল। পাশে বিনয় কোয়াত্রা।
ধর্নার ফাঁকে রোল
যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সময় পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত হয়েছিলেন সাহিব লোচাব। সাহিব ও তাঁর মাকে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করার জন্য ধর্নায় বসেছিলেন রাহুল গান্ধী। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা— সাত ঘণ্টা ধর্না চলল। সকলেরই খিদে পেয়ে গিয়েছিল। রাহুল তাঁর প্রিয় খান মার্কেটের রেস্তরাঁ থেকে রোল আনালেন। সঙ্গে ডায়েট কোক। শুধু নিজের জন্য নয়। সাহিব, তাঁর মা ও বাকি বিক্ষোভকারীদের জন্যও। জলপানের বিরতির পর ফের বিক্ষোভ শুরু হল। সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে রাজি হওয়ায় কংগ্রেসের নেতারা বিজয়ের ডঙ্কা বাজিয়ে বাড়ি ফিরলেন।
টিকিট চেয়ো না
বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি পদে তেজস্বী সূর্যের স্থানে দায়িত্ব নিয়েছেন বিজেপি সাংসদ হেমাঙ্গ জোশী। সদর দফতরে বিদায়ী বক্তব্যে তেজস্বী বলেন, “আমাকে এক যুব মোর্চা কর্মী গীতা দিয়েছিলেন। তিনি গীতা পড়েছেন কি না— প্রশ্নের জবাবে কর্মী বলেন, গীতার সারাংশ হল, কাজ করে যাও। ফলের কথা ভেবো না। যুব মোর্চায় তাই শেখানো হয়। সারা বছর কাজ করে যাই। যখন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বাসনা জানাই, বলা হয়, কাজ করে যাও, টিকিট চেয়ো না। এটাই তো গীতার সার কথা।” হাসিতে ফেটে পড়েন কর্মীরা।
আমেরিকান বন্ধু
বন্ধুত্বের ‘দায়’ সামলাতে বিপাকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং গয়ালকে উল্লেখ করেছেন তাঁর প্রিয় মন্ত্রী হিসাবে। বলেছেন, “আমার সঙ্গে দেখা করতে না পারলে পীযূষ গয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেবেন। তিনি সব ব্যবস্থা করে দেবেন। উনি আমার প্রিয় বন্ধু।” গয়াল ঠাট্টার ছলে বলেছেন, “আপনার বন্ধু সম্ভাষণে বেজায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছি। এমন সব মন্তব্য করলে আমার অফিসের অর্ধেক লোক আমাকে আমেরিকার ভিসার জন্য ধরবেন!”
তন্নিষ্ঠ: পরীক্ষা দিচ্ছেন চন্নী।
চন্নী কোথায়
তেষট্টি বছর বয়সে নতুন করে এমএ পরীক্ষায় বসলেন চরণজিৎ সিংহ চন্নী। পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, বর্তমানে কংগ্রেস সাংসদ চন্নীর সঙ্গে পঞ্জাবের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিংয়ের এখন সাপে-নেউলে সম্পর্ক। চন্নী কংগ্রেসের কর্মসূচি থেকে দূরত্ব রেখে নিজের মতো চলছেন। গত মাসের শেষে দিল্লিতে কংগ্রেস কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে চন্নী গরহাজির থাকায় হইচই শুরু হয়ে যায়, তিনি কি দল ছাড়ছেন? শেষে দেখা যায়, চন্নী পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিয়ে এমএ পরীক্ষায় বসেছেন। তাই আগেভাগেই কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে ছুটি নিয়েছেন। চন্নীর বক্তব্য, শারীরিক কারণে তিনি বেশ কিছু দিন ঘরবন্দি ছিলেন। তখনই পড়াশোনা শুরু করেন। চন্নী আইন পাশ করেছেন। এমবিএ করেছেন। আবার কংগ্রেসের উপরে গবেষণা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচ ডি করেছেন। এ বার পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে এমএ-র লক্ষ্য।
এলাহি খাবার
বিজেপি সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে চা, মিষ্টি আর পনির পকোড়া বা ‘সমোসা’ থাকে সাংবাদিকদের জন্য। বুধবার নিতিন নবীনের সঙ্গে প্রথম বার সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে অবাক সকলে। চিরাচরিত পকোড়ার জায়গায় দোসা, ধোকলা, স্যান্ডউইচ। নিতিন বিহারের প্রতিনিধিত্ব করেন বলে ছিল লিট্টি-চোখাও। বিজেপি নেতারা বলছেন, সভাপতি হিসাবে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন। তাই এই ‘খাতিরদারি’।