নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্রফাঁস কাণ্ডের মাত্র তিন মাসের মাথায় ফের প্রশ্নের মুখে দেশের অন্যতম প্রধান পরীক্ষক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এটিএ)। গত জুনে আয়োজিত ইউজিসি নেট ২০২৬ পরীক্ষার ইংরেজি, বাণিজ্য এবং সমাজবিদ্যা বিষয়ের প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুল এবং পুরনো প্রশ্ন হুবহু তুলে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষাগুলি বাতিল করে ফের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনটিএ।
সূত্রের খবর, বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, দু’একটি সাধারণ বানান ভুল নয়, প্রশ্নপত্রে একাধিক ত্রুটির অভিযোগ জমা পড়ছিল।
কী কী ভুল ধরা পড়েছে প্রশ্নপত্রে?
সমাজবিদ্যার— একাধিক সমাজবিজ্ঞানীর নামের বানান ভুল ছাপানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। যেমন ‘রিটজ়ার’-এর জায়গায় লেখা হয়েছিল ‘পুটজ়ার’, ‘ঘুরিয়ে’-র বদলে ‘ঘুনিয়ে’, ‘পারসন্স’-এর জায়গায় ‘পারসো’ এবং ‘নাসবাউম’-এর বদলে লেখা হয় ‘নাসবট’। এ ছাড়াও পরীক্ষার আগেই একটি ১০০ পৃষ্ঠার হাতে লেখা পিডিএফ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে, যার সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের ৯০টিরও বেশি প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায় বলেই জানা গিয়েছে।
ইংরেজি— ২০২৪ ও ২০২৫-এর আগের নেট পরীক্ষাগুলির একাধিক প্রশ্ন বিকল্পের ক্রম-সহ ফের ছাপা হয়েছে বলে অভিযোগ। শেক্সপিয়রের নাটক, ঋষি অরবিন্দের ‘দ্য লাইফ ডিভাইন’ বা ‘কান্থাপুরা’র মতো সাহিত্য থেকে একাধিক প্রশ্ন কোনও রকম পরিবর্তন ছাড়াই দেওয়া হয়েছে প্রশ্নপত্রে।
বাণিজ্য— টিডিএস সংক্রান্ত নিয়মাবলি, মার্জিন অফ সেফটি, মডিগ্লিয়ানি-মিলার তত্ত্ব এবং সার্ভিস মার্কেটিংয়ের উপর বেশ কিছু জটিল প্রশ্ন পূর্ববর্তী বছরের থেকে সরাসরি আগের কোনও বারের প্রশ্ন থেকে দেওয়া হয়েছিল বলেই অভিযোগ।
পরীক্ষার্থীদের থেকে একের পর এক অভিযোগ পাওয়ার পর এনটিএ একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির রিপোর্টে জানানো হয়, প্রশ্নপত্রগুলিতে তথ্যের ভুল, ব্যাকরণগত ত্রুটি, ভুল অনুবাদ এবং আগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে বহু প্রশ্নই হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষা সুনিশ্চিত করতেই এই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করার সুপারিশ করে কমিটি। এর পর প্রকাশ করা হয় নতুন করে তিনটি পরীক্ষার দিনক্ষণ।
পুনঃপরীক্ষার সময়সূচি:
পরীক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত কোনও টাকা না নিয়েই আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
ইংরেজি: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা)।
বাণিজ্য: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (দুপুর ৩টে থেকে বিকেল ৬টা)।
সমাজবিদ্যা: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা)।
চলতি বছর ২২ জুন থেকে ৩০ জুনের মধ্যে মোট ৮৭টি বিষয়ে সিবিটি পদ্ধতিতে প্রথম পর্বের ইউজিসি-নেট পরীক্ষা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ফলপ্রকাশের আগে সম্ভাব্য উত্তর সঙ্কেত প্রকাশ করা হয়, যাতে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের উত্তর মিলিয়ে আনুমানিক নম্বর হিসাব করতে পারেন এবং প্রয়োজনে কোনও উত্তরের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে পারেন।
ইতিমধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি-তে ভর্তির বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ, অনেক প্রার্থীই আবেদন করতে পারেননি। সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজস্থানের এক পরীক্ষার্থী ইউজিসি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন, ‘‘আপনারা কি ইউজিসি নেট-এর ফলাফলের কথা ভুলে গিয়েছেন? পরীক্ষা শেষ হওয়ার দেড় মাস পর এখনও আনসার কি পর্যন্ত এল না!’’
আরও পড়ুন:
-
ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট-সহ আরও দু’টি পরীক্ষার প্রস্তুতিপাঠ দেবে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, চার মাসের প্রশিক্ষণ
-
কেন আবেগে ভেসে কেনাকাটা করে ফেলা হয়? উত্তর দিচ্ছে ‘বিহেভিওরাল ইকোনমিক্স’, পেশাজীবনে কী ভাবে সাহায্য করবে এই বিষয়?
-
প্রকাশিত হল সিএসআইআর ইউজিসি নেট-এর সম্ভাব্য উত্তর সঙ্কেত, প্রতিটি ভুল প্রশ্নে আপত্তি জানাতে খরচ ২০০ টাকা
এসএফআই-এর তরফেও এনটিএ-র এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে দ্রুত উত্তর সঙ্কেত ও ফল প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছিল। যদিও ৮৭টি বিষয় থেকে তিনটি বিষয় বাদ দিয়ে সম্ভাব্য উত্তর সঙ্কেত প্রকাশ করা হয়েছে গত ১৬ অগস্ট।
উল্লেখ্য, ইউজিসি-নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সম্প্রতি তোলপাড় হয়েছে গোটা দেশ। ছাত্রবিক্ষোভের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। প্রশ্নের মুখে পড়ে পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করতে উদ্যোগী হয়েছে পরীক্ষা পরিচালন সংস্থা। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদর দফতর, আঞ্চলিক কার্যালয়-সহ বিভিন্ন জায়গায় ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পেশাদার সংস্থার কাঁধে দায়িত্ব দিতে চাইছে এনটিএ। সেই কারণে তারা সাড়ে সাত কোটি টাকার একটি দরপত্র আহ্বান করেছে। যদিও এত কিছুর পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না।