Advertisement
E-Paper

যাদবপুর কাণ্ড: উপাচার্যের ডাকা বৈঠক থেকে বেরিয়ে গেল এবিভিপি, চার দফা দাবি না মানলে ঘেরাওয়ের ডাক বামেদের

তদন্ত কমিটি পুনর্গঠনের দাবিও তুলেছেন বাম ছাত্রেরা। সেখানে ছাত্র প্রতিনিধি রাখার দাবিও উঠেছে। এ ছাড়াও আরও দু’টি দাবি রয়েছে তাঁদের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ অগস্ট ২০২৬ ১৯:৩২
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।

বুধবার গভীর রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত হামলার পর কাটতে চলেছে প্রায় পাঁচ দিন। এখনও শান্ত নয় পরিস্থিতি। ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরাতে আগেই সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের কথা জানিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিকেলে সেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষকদের একাংশ এবং বাম সমর্থক ছাত্র সংগঠনের সদস্য ও এবিভিপি-র ছাত্র-সদস্যেরা যোগ দিয়েছিলেন ওই বৈঠকে। তবে শেষপর্যন্ত দক্ষিণপন্থীরা বৈঠকে থাকেননি। বৈঠকে বার বার উঠে আসছে গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউয়ের প্রসঙ্গ। বাম সমর্থক ছাত্র সংগঠনের দাবি, স্টুডেন্ট গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল সেল-এর চেয়ারম্যানপদ থেকে সরতে হবে বুদ্ধদেবকে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কোনও পদে রাখা যাবে না। এমনকি তদন্ত চলাকালীন তিনি কোনও ক্লাসও নিতে পারবেন না।

সোমবার সন্ধ্যায় নিখিল দাস বলেন, “৩টে থেকে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৩টে ৪৭ পর্যন্ত বৈঠক শুরু হয়নি। তাই আমরা উপাচার্যকে ই-মেল করে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছি।” তাঁর দাবি, ওই বৈঠকে সব বিভাগ থেকে ছাত্র প্রতিনিধি থাকার কথা ছিল। কিন্তু দেখা যায় বামেরাই সংখ্যায় অধিক। তাই বৈঠক বয়কট করে এবিভিপি। একই সঙ্গে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যায় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘও।

তদন্ত কমিটি পুনর্গঠনের দাবিও তুলেছেন বাম ছাত্রেরা। সেখানে ছাত্র প্রতিনিধি রাখার দাবিও উঠেছে। এ ছাড়াও আরও দু’টি দাবি রয়েছে তাঁদের। তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী এষণা সেন বলেন, “যদি চারটি দাবি না মানা হয়, তা হলে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার-সহ শিক্ষকদের একাংশ যাঁরা বৈঠকে রয়েছেন, তাঁদের ঘেরাও করা হবে।”

বামেদের চারটি দাবি

১। স্টুডেন্ট গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল সেল চেয়ারম্যানপদ থেকে বুদ্ধদেব সাউকে সরাতে হবে।

২। বুদ্ধদেব সাউ গণিতের অধ্যাপক, তদন্ত চলাকালীন কোনওরকম ক্লাস নিতে পারবেন না তিনি।

৩। তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। সেখানে ছাত্র প্রতিনিধি রাখতে হবে।

৪। বুধবার গভীর রাতের ঘটনায় শিক্ষক, পড়ুয়া-সহ যাঁদের নজরদারি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, তাঁদের সকলকে সাসপেন্ড করতে হবে।

অন্য দিকে, সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ‘বাংলার সচেতন নাগরিক ও প্রবুদ্ধ সমাজ’ বিক্ষোভ মিছিল করে। সমাজের আহ্বায়ক নারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ‍্যালয়কে দেশবিরোধী, ভারতীয়ত্ব বিরোধী এবং ভারতের অখণ্ডতা বিরোধী কার্যকলাপের আখড়া বানিয়ে রেখেছে যে ব্যবস্থা, আমরা তা ভাঙার জন্য নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছি।” তিনি দাবি করেন, যাদবপুরে সক্রিয় এই চক্রের মধ্যে অতিবামপন্থী পডুয়া থেকে শিক্ষক, অধ‍্যাপক, কর্মচারী সকলেই রয়েছেন। ওই জমায়েতে যোগ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) পূর্ব ভারত ক্ষেত্রের সহ-প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ‍্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ।

এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে যাদবপুর থানা অভিযান করা হবে।’’ পাশাপাশি তিনি আরও জানান, রাজেশ্বর সিংহকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। এবিভিপিকে যাঁরা মেরেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মিছিলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে সরানোর কথাও উঠেছে। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের যাদবপুর ইউনিটের সম্পাদক ভাস্কর সরদার বলেন, “যদি পরিস্থিতি সামলাতে না পারেন, তা হলে উপাচার্যের সরে যাওয়া উচিত।” শুধু উপাচার্যই নয়, পদত্যাগের দাবি উঠেছে রেজিস্ট্রার, সহ উপাচার্যের বিরুদ্ধেও। এবিভিপি-র যাদবপুর ইউনিটের সভাপতি নিখিল দাস বলেছেন, ‘‘রেজিস্টারের অপসারণ আমরা দাবি করছি। আর নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে উপাচার্য এবং সহ-উপাচার্যেরও সরে যাওয়া উচিত বলেই আমাদের মনে হয়।’’

JU ABVP SFI

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy