উচ্চমাধ্যমিকের পর অনেকেই সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। বিভিন্ন বিষয়ে খুঁটিনাটি জানার জন্য আলাদা করে পড়াশোনাও করতে হয় তাঁদের। কেউ অনলাইনে ক্লাস করে সেই বিষয়গুলি নিয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। কেউ আবার আলাদা করে কোচিং ক্লাসে ভর্তি হন। তবে, যাঁরা শুরু থেকে পড়াশোনা করতে চাইছেন, তাঁরা একাদশ কিংবা দ্বাদশ শ্রেণি থেকেই কিছু বাছাই করা বিষয় নিয়ে পড়তে পারেন।
স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি), জয়েন্ট এন্ট্রানস্, নিট-এর মতো বেশিরভাগ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যে সব বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, সেগুলি নিয়ে একাদশ কিংবা দ্বাদশ শ্রেণি থেকেই পড়াশোনার সুযোগ থাকে।
এ ক্ষেত্রে জেনে নেওয়া দরকার, বেশির ভাগ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোন কোন বিষয়গুলি নিয়ে পড়তে হয়?
১। গণিত
স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি), রেল, নিট, জয়েন্ট এন্ট্রান্স-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় গণিতের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পাটিগণিতের শতকরা হার নির্ধারণ, সুদ-আসল, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত, সময়, গতি, দূরত্বের মতো বিভাগের অঙ্ক করতে হয়। স্কুলস্তরে এই বিভাগের বিভিন্ন অঙ্ক পড়ুয়াদের শেখানো হয়ে থাকে।
তবে, ওই সব পরীক্ষায় পাটিগণিতের সঙ্গে বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি-র বেশ কিছু বিষয় নিয়েও প্রশ্ন থাকে। সে ক্ষেত্রে তা নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ স্কুলস্তরেই পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
২। সাধারণ জ্ঞান
যে কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের সব ঘটনা, ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি, খেলা, বিনোদন সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করা প্রয়োজন। এর জন্য নিয়মিত খবরের কাগজ পড়ার পাশাপাশি, ইতিহাস, ভূগোল সংক্রান্ত বিষয়গুলি পাঠ্যবই থেকে পড়ে নেওয়া যেতে পারে।
৩। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। বাক্যগঠন, কর্তৃবাচ্য-ভাববাচ্য, উক্তি পরিবর্তন, সমার্থক শব্দ, বিপরীতার্থক শব্দের মতো একাধিক বিষয় তাতে থাকে। একাদশ এবং দ্বাদশে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকায় এই বিষয়গুলি সহজেই শিখে নেওয়া যেতে পারে।
উল্লিখিত বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশোনার সঙ্গেই নিয়মিত চর্চা করতে পারলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে খানিকটা হলেও এগিয়ে থাকা যাবে। সে ক্ষেত্রে পড়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর পুরনো প্রশ্নের উত্তর লেখার অভ্যাসও করা যেতে পারে। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারবেন পড়ুয়ারা।