সবে দু’ বছর পার হয়েছিল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিটেক পড়ার। স্নাতক ডিগ্রি পেতে আরও বছর দু’য়েক দেরি। তবে ডিগ্রি হাতে আসার আগেই হাতে এল চাকরি। তা-ও আবার ছোটখাটো চাকরি নয়। যে চাকরি করে এখনই বছরে ৩৫ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারবেন এক ছাত্র। মাস গেলে স্টাইপেন্ড হিসাবে আয় করবেন ৯০ হাজার টাকা।
নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রের নাম মহম্মদ শামুন। যে সংস্থায় তিনি ওই চাকরি পেয়েছেন, সেই সংস্থা হল আন্তর্জাতিক পেমেন্ট টেকনোলজির নেটওয়ার্ক সংস্থা ভিসা ইনকর্পোরেশন। বিটেক-এর পড়াশোনা করতে করতেই ভিসা-এ শিক্ষানবিশী করতে গিয়েছিলেন শামুন। তার কাজ দেখে সংস্থার তরফে প্রি প্লেসমেন্ট অফার হিসাবে শামুনকে ওই চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এই ধরনের প্রস্তাব মূলত দেওয়া হয় শিক্ষানবীশদেরই। যাঁরা এখনও স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেননি। এই ধরনের চাকরির প্রস্তাবে সাধারাণত স্নাতকের ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার পরে সংস্থায় পূর্ণ মেয়াদের চাকরিও দেওয়া হয়। আর এই গোটা প্রক্রিয়াটি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লেসমেন্ট সেলের মাধ্যমে।
এ ক্ষেত্রেও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লেসমেন্ট সেলের মাধ্যমেই ওই ছাত্র শিক্ষানবিশীর সুযোগ পেয়েছিলেন ভিসা ইনকর্পোরেশনে। প্লেসমেন্ট সেলে নাম লিখিয়েছিলেন শামুন। সেইখান থেকেই সুযোগ পান ভিসা-এ গিয়ে শিক্ষানবিশী করার। তবে বাকিটা তারই ভাল কাজের ফসল বলে জানিয়েছেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য ১৯৭৮ সাল থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হচ্ছে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে ২০০০ সাল থেকে। আটটি সেমেস্টারের এই কোর্সে প্রোগ্রামিং, কম্পিউটার সিস্টেম, সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কিং, ডেটা অ্যানালিসিস, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর পাশাপাশি মেশিন লার্নিংও শেখানো হয়।