স্কুলে ক্লাস করানোর পরে অথবা সপ্তাহের শেষে অর্থাৎ ছুটির দিনে জনগণনার কাজ করতে পারবেন শিক্ষকেরা। সোমবার স্কুলশিক্ষা দফতর থেকে রাজ্যের সব প্রাথমিক জেলাস্কুল পরিদর্শকের কাছে এই বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। এর পরেই একাংশের শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁদের দাবি, জনগণনার কাজ ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করাই নিয়ম। কিন্তু তা না করে স্কুল ছুটির পরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনগণনার কাজ করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। তবে বিজেপি শিক্ষক সেলের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে সব শিক্ষকের দফতরের এই পদক্ষেপ সমর্থন করা প্রয়োজন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, জনগণনার কাজে কোনও কোনও স্কুলের ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষককে যুক্ত করা হয়েছে। কোনও কোনও স্কুলে প্রধানশিক্ষক ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষককেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি, কাজে যোগ না দিলে শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে স্কুলের পঠনপাঠন।
গত সপ্তাহেই বিকাশ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকার ভাবছে। যদি কম সংখ্যক শিক্ষককে এই কাজে যুক্ত করা যায়, তা হলে কোন পথে এগোবে জনগণনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু সোমবারের এই নির্দেশের পরে ফের দফতরের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ। এ দিন দফতরের তরফে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পঠনপাঠনের যাতে কোনও ভাবেই ক্ষতি না হয়, তাই স্কুলের ক্লাস করার পরে অথবা ছুটির দিনে শিক্ষকেরা জনগণনার কাজ করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
সেনসাস কর্মী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘ জনগণনার সময়ে শিক্ষকদের অন ডিউটি দিতেই হবে। শিক্ষকস্বার্থ বিরোধী হিসেবে দফতর যে অবস্থান নিচ্ছে তার তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। সারাদিন ক্লাস করার পরে কী ভাবে শিক্ষকেরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করবেন? স্পষ্ট করে বলছি, সরকার এই অবস্থানে থাকলে সেনসাস কর্মীরা সেনসাসের কাজ বয়কট করবেন।’’
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই শিক্ষকদের শিক্ষা বহির্ভূত কাজে নিযুক্ত করার বিরুদ্ধে। কিন্তু জোর করে এই ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। যে দিনগুলো জনগণনার কাজে শিক্ষকেরা যুক্ত থাকবেন, সেই দিনগুলো অন ডিউটি দিতেই হবে। এছাড়া কোনও ভাবে এই কাজ করা সম্ভব নয়।’’
তবে বিজেপি শিক্ষক সেলের সহ আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘‘ এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ভাবে সমর্থন করি। জনগণনার কাজে যুক্ত থাকলে সেটাকে অন ডিউটি হিসেবে যেন কোনও ভাবেই গণ্য না করা হয়। শিক্ষকেরা না থাকলে ক্লাস হবে কী ভাবে?’’ তিনি জানান, সরকারকে তাঁরা জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে মর্নিং স্কুল করা হোক। কারণ, পঠনপাঠনকে কোনও ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘‘আশা করি, সব শিক্ষকই ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে এই পদক্ষেপ সমর্থন করবেন।’’