ভারতীয় ভাষায় প্রশ্ন করেই যদি অষ্টম শ্রেণির কোনও শিক্ষার্থী এআই-শিক্ষকের সাহায্য নিতে পারে, তা হলে ইংরেজিতে প্রশ্ন অনুবাদ করার প্রয়োজন হবে না। এই লক্ষ্যেই ভারতীয় ভাষাভিত্তিক একগুচ্ছ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করল ‘বোধন’ এআই।
আইআইটি মাদ্রাজে গড়ে ওঠা এআই-কেন্দ্রিক এই প্রকল্প ‘এআই-৪ ভারত’-এর সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করছে। ‘বোধন’ এআই-এর এই উদ্যোগ বৃহত্তর ভারতে ‘এডুএআই স্ট্যাক’-এর অঙ্গ। ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সার্বভৌম একটি ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় ভাষার জন্য চারটি এআই মডেল
বোধন এআই ইতিমধ্যে চারটি মৌলিক এআই মডেল প্রকাশ করেছে। এগুলি ভাষা শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে, লেখ্য থেকে ভাষ্য তৈরি, ভাষান্তর এবং চিত্র থেকে লেখ্য শনাক্ত করার কাজেও ব্যবহার করা যাবে। ভাষ্য শনাক্তকরণ মডেলটি ২৭টি ভাষা চিহ্নিত করতে পারে। অন্য দিকে, লেখ্য থেকে ভাষ্য তৈরি এবং চিত্র থেকে লেখ্য শনাক্তকরণ মডেল দুটি ২৩টি ভাষা ও ভাষান্তর মডেলটি ২২টি ভাষা চিহ্নিত করতে পারে।
মডেলগুলিকে ওপেন-ওয়েট ডিজিটাল পাবলিক গুডস হিসেবে এবং সার্বভৌম পরিকাঠামোয় যাতে ব্যবহৃত হয় তা চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে যে কোন শিক্ষামূলক অ্যাপ শিক্ষার্থীর হাতের লেখা পড়তে পারবে, এক ভারতীয় ভাষা থেকে অন্য ভাষায় পড়ার উপকরণ অনুবাদ করে দিতে পারবে, এমনকি টাইপ না করেও পড়ুয়ারা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য এআই টিউটর
‘বোধন’ এআই-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হল স্টুডেন্ট টিউটর বট। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি এই এআই টিউটর এনসিইআরটি এবং এসসিইআরটি-র পাঠ্যক্রমকে ভিত্তি করে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা ২২টি ভারতীয় ভাষায় লেখা বা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।
আরও পড়ুন:
এর মাধ্যমে পড়াশোনার বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা, উদাহরণ ও মূল্যায়ন করা যাবে। এমনকি কোনও সমস্যা সমাধানের সময় ধাপে ধাপে পথ দেখানো, চিত্র তৈরি এবং হিসাবের মতো কাজেও সহায়তা করবে। ফলে মাতৃভাষায় শেখার সুযোগ আরও সহজলভ্য হবে পড়ুয়াদের কাছে।
শিক্ষকদের জন্য এআই
শিক্ষকদের জন্যও চালু করা হয়েছে টিচার অ্যাসিস্ট্যান্ট বট। শ্রেণি, বিষয়, পাঠের নির্দিষ্ট অংশ এবং কাঠিন্যের মাত্রা অনুযায়ী এই বট পাঠপরিকল্পনা, ওয়ার্কশিট, কুইজ, বাড়ির কাজ এবং পুনরাবৃত্তির উপকরণ তৈরি করে দেবে।
তবে এআই তৈরি করা বিষয়বস্তুর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ শিক্ষকদের হাতেই থাকবে বলে জানিয়েছে বোধন এআই। তাঁরা নিজেদের লেখালিখি পর্যালোচনা, সম্পাদনা, নতুন করে তৈরি অথবা বাতিল করতে পারবেন।