পঠনপাঠনের সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রের সংযোগ সুদৃঢ় করতে এবং ছাত্রছাত্রীদের আরও কর্মোপযোগী করে তুলতে এই প্রথম ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন প্রতিনিধি যোগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া, ইংল্যান্ড-সহ বিভিন্ন দেশের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৩০টি কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই প্রতিনিধিরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রথম ওই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে। পঠনপাঠনের সঙ্গে শিল্পক্ষেত্র এবং পেশার সাযুজ্য রাখতেই ওই বৈঠক। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ মেনে ইতিমধ্যেই পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতার পাঠ দিতে শুরু করেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এক কর্তা জানান, বাস্তবিক ভাবে সেই দক্ষতার প্রয়োগ এবং ‘অ্যাকাডেমিয়া টু ইন্ডাস্ট্রি’ প্রকল্পকে যথার্থ করে তুলতে গোটা বিশ্বের এবং দেশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিল্পসংস্থার মনোভাব বুঝতে পারা খুব প্রয়োজন। ওই বৈঠকে তাঁরা জানার চেষ্টা করবেন, কোন কোন ক্ষেত্রে কী রকম দক্ষ প্রার্থীর প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই পাঠ্যক্রম তৈরির ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পঠনপাঠনের পাশাপাশি পেশাগত দিকে পড়ুয়াদের সাবলম্বী করতে বিশেষ ভাবে সচেষ্ট হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ওই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লেসমেন্ট বিভাগের আধিকারিকেরাও। পেশাগত দিক থেকে ছাত্রছাত্রীরা যেন সুবিধা পায় সেই দিকটিও দেখা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
গত কয়েক বছরে কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বার বার। এক কর্তার দাবি, “এই নেই-চাকরির বাজারে এই উদ্যোগ যদি পড়ুয়াদের পেশার দিকটি সুরক্ষিত করতে পারে, তা হলে সব দিক থেকেই মঙ্গল।” বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, ‘‘ওই বৈঠকে অনেক নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। ইতিমধ্যে জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ওই সম্মেলন থেকে আরও যে সব তথ্য পাওয়া যাবে সেই দিকগুলিও বাস্তবায়িত করা হবে। আমার চাইছি ছাত্রছাত্রীরা যেন সব দিক থেকে লাভবান হয়।’’