দুর্গাপুজোর ছুটিতে পড়াশোনার চাপ কিছুটা কম থাকলেও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের কাছে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। উচ্চমাধ্যমিকের পরে কোন বিষয়ে পড়বেন, কোন প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসবেন বা ভবিষ্যতে কোন পেশায় যেতে চান, সে বিষয়ে গভীর ভাবনাচিন্তা করার ক্ষেত্রে এই সময়টি কাজে লাগানো যেতে পারে। শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ছুটির কয়েক দিন পরিকল্পনা করে এগোলে পরবর্তী পড়াশোনার প্রস্তুতিও অনেকটা সহজ হতে পারে।
প্রথমেই নিজের পছন্দ এবং দক্ষতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা দরকার। কোন বিষয় পড়তে ভাল লাগে, কোন বিষয়ে তুলনামূলক ভাল ফল হতে পারে এবং কোন ধরনের কাজে আগ্রহ রয়েছে, সেই বিষয়গুলির একটি তালিকা তৈরি করে ফেলা যায়। শুধু বন্ধু বা পরিচিতদের পছন্দ দেখে বিষয় নির্বাচন না করে নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
এর পর বিভিন্ন কেরিয়ার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন, ম্যানেজমেন্ট, ডিজ়াইন, বিজ্ঞান গবেষণা, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, সরকারি চাকরি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই পড়াশোনার পথ আলাদা। সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা, কোর্সের মেয়াদ এবং পরবর্তী চাকরির সুযোগ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা ভাল।
প্রবেশিকা পরীক্ষার তালিকা তৈরি করা যায়
দ্বাদশের পরে কোন কোন প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হবে, সেই তালিকাও এই সময় তৈরি করা যায়। নিজের পছন্দের কোর্স অনুযায়ী জাতীয় এবং রাজ্য স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলির নাম লিখে রাখতে হবে। আবেদন শুরু এবং শেষের তারিখ, পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়, পাঠ্যক্রম এবং পরীক্ষার ধরনও দেখে নেওয়া প্রয়োজন। এতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের সময়সীমা চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
কলেজ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া
কোন কলেজ বা প্রতিষ্ঠানে পছন্দের বিষয় পড়ানো হয়, সেই তালিকাও তৈরি করা যেতে পারে। শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম বা জনপ্রিয়তার দিকে না তাকিয়ে পাঠ্যক্রম, আসনসংখ্যা, ভর্তি প্রক্রিয়া, ফি, হস্টেলের সুবিধা এবং পড়াশোনা শেষ করার পরে সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা দরকার। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই ভাবে তথ্য যাচাই করা যেতে পারে।
বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার খোঁজ
পছন্দের কোর্সের খরচ বেশি হলে পড়াশোনা শুরু করার আগেই বৃত্তি এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জেনে রাখা ভাল। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বৃত্তি ছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার তরফে মেধা এবং আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া হয়। কোন বৃত্তির জন্য কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং আবেদন কখন করতে হয়, তা আগে থেকে লিখে রাখলে সুবিধা হবে।
নির্দিষ্ট লক্ষ্য তৈরি করা
কেরিয়ার পরিকল্পনা মানেই একসঙ্গে অনেক কিছু স্থির করে ফেলা নয়। পুজোর ছুটিতে প্রতিদিন কিছুটা সময় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য রাখা যেতে পারে। এক দিন প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, অন্য দিন কলেজের তালিকা তৈরি বা পছন্দের পেশা সম্পর্কে পড়াশোনা— এই ভাবে ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করা যায়।