Advertisement
E-Paper

রাতভর বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকেরা, চাকরির সুনিশ্চিতকরণের দাবিতে অনড়

চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকদের দাবি স্পষ্ট। সরকারের তরফ থেকে তাঁদের চাকরির সুনিশ্চিতের সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন। না হলে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চালিয়ে যাবেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৭
রাতভর অবস্থানে শিক্ষকেরা।

রাতভর অবস্থানে শিক্ষকেরা। — সংগৃহীত।

সারা রাত বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে বসে দাবিতে অনড় থাকলেন সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলের চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকেরা। প্রথম থেকে পঞ্চম দফায় নিযুক্ত শিক্ষকদের মতো ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি নিয়মিত করার দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন শিক্ষকেরা।

জানা গিয়েছে, চুক্তি পুনর্নবীকরণের বদলে কাজের মেয়াদ শেষের চিঠি পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ৩ হাজারের বেশি চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষককে। জানা গিয়েছে, পাঁচ বছরের চুক্তিতে একাধিক বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে রাজ্যে তিন হাজারের বেশি কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল ২০২২ সালের আগে-পরে। সেই অনুযায়ী কারও চাকরির মেয়াদ উত্তীর্ণ হচ্ছে চলতি বছর, কারও ২০২৭-এর শুরুতে। কিন্তু সম্প্রতি ওই বেসরকারি সংস্থাগুলির তরফে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে যাবতীয় নথি দায়বদ্ধ সংস্থার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হিসাব বলছে, বাম আমল থেকেই চুক্তির ভিত্তিতে কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ করা শুরু হয় সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে। পরবর্তী কালে তৃণমূল সরকার কয়েকটি পর্যায়ে চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষকদের ৬০ বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ করে দেয়। অর্থাৎ প্রথম থেকে পঞ্চম দফায় নিযুক্তদের চাকরি নিয়মিত থাকলেও সমস্যায় পড়েছেন ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ে নিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকেরা। শিক্ষকদের দাবি, ২০২২ ও তার আগে-পরে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তাঁদের আর নিয়মিত করেনি সরকার।

শিক্ষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মে পরিবর্তন হওয়ার ফলে হয়েছে বেতনহ্রাস। এ বার বরখাস্তের চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এতে তাঁদের পরিবার যেমন সমস্যায় পড়বে, তেমনই সমস্যায় পড়বেন স্কুল কর্তৃপক্ষও। কারণ, এখন বেশির ভাগ প্রকল্পের কাজই হয় ডিজিটাল মাধ্যমে। আর সেখানে স্কুলগুলির ভরসা চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকেরা। কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্তির পর থেকে স্কুল স্তরে ডিজিটাল কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক প্রকল্পে প্রধান ভরসা এই সব শিক্ষক। ফলে হঠাৎ তাঁদের কাজের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে সমস্যায় পড়বেন কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সকালে মথুরাপুর কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের আইসিটি শিক্ষক অভিষেক মণ্ডল জানান, শান্তিপূর্ণ অবস্থানে তাঁরা রয়েছেন। দাবি খুব স্পষ্ট। সরকারের তরফ থেকে তাঁদের চাকরি সুনিশ্চিতের সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন। সোমবার তাঁরা করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে মিছিল করে বিকাশ ভবন অভি‌যান করেন। পথে পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করলেও ব্যারিকেড ফেলে তাঁরা এগিয়ে যান। এরপরে বিকাশ ভবনের মূল প্রবেশ দ্বারের কাছে পুলিশ আটকে দিলে তাঁরা সেখানেই অবস্থানে বসেন। সারা রাত তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যান। শিক্ষকদের দাবি, স্কুলশিক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা তাঁদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কয়েক জন প্রতিনিধিকে ভিতরে ঢোকার অনুরোধ জানান। কিন্তু শিক্ষকদের সাফ উত্তর, আধিকারিকদের বাইরে বেরিয়ে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। সেটা না হওয়ায় অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

west bengal school education department Agitation Bikash Bhavan

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy