প্যাকেটজাত দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্যাকেটজাত দুধের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন একদল গবেষক। তবে শুধু প্যাকেটজাত দুধই নয়, কিছু গবেষণায় গরুর দুধেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি। নয় গবেষকের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে প্যাকেটজাত দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। ওই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের রক্তের সঙ্গে মিশে হৃদ্যন্ত্র এবং কিডনির স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করে। কিন্তু শুধু প্যাকেটজাত দুধই নয়। প্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে গরুর দুধেও।
ওই গবেষকদলের নেতৃত্বে রয়েছেন রসায়নের অধ্যাপক তথা রাজ্যের নবগঠিত ‘সিলেবাস কাম কারিকুলাম কমিটির’ চেয়ারম্যান অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ প্যাকেটজাত দুধেই এই ক্ষতিকারক কণার হদিশ পাওয়া গিয়েছে। তবে চিম্তা বাড়াচ্ছে গরুর কাঁচা দুধ। সেখানেও এই মাইক্রোপ্লাস্টিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
গবেষকদলের দাবি, সাধারণত মানুষ গরুর দুধকে বিশুদ্ধ বলে মনে করে। কিন্তু সেখানেও দূষিত পদার্থ পাওয়া যাচ্ছে। এই ভয়ঙ্কর পরিবর্তনের জন্য দায়ী মানুষের অসচেতনতা। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শহর থেকে গ্রাম— যত্রতত্র সেই প্লাস্টিক ফেলে রাখে মানুষ। গরু অন্য খাাবার খেতে গিয়ে প্লাস্টিকও চিবিয়ে ফেলে। পাশাপাশি জলের মাধ্যমেও প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রকণা গরুর শরীরে ঢুকতে পারে। তার পর তা রক্তে মিশে যায়। সেই প্লাস্টিক থেকেই মাইক্রোপ্লাস্টিক গরুর দুধে চলে আসে।
এ বিষয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এই প্রবণতা অন্তত আটকানোর একমাত্র উপায় সচেতনতা বৃদ্ধি। প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মত তাঁর।