Advertisement
E-Paper

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে, স্নাতকে উপস্থিতির জন্য বরাদ্দ হল ৫ নম্বর, ফিরছে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন

এ বার থেকে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নতুন ভাবে স্বশাসনের অনুমতি পেতে হলে দিতে হবে ‘অটোনমাস ফি’।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০০
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে উদ্যোগী হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিলেছে বলে খবর।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস জানান, নিয়োগের সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছিল। মঙ্গলবারের বৈঠকে তা অনুমোদিত হয়। পাশাপাশি, স্নাতক স্তরে উপস্থিতির জন্য পড়ুয়াদের জন্য ৫ নম্বর বরাদ্দ করা এবং নতুন করে স্বশাসিত কলেজের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘অটোনমাস ফি’ গ্রহণের সিদ্ধান্তও হয়েছে সিন্ডিকেটে। উল্লেখ্য, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরে এই প্রথম সিন্ডিকেট বৈঠক বসল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি কুটা-র তরফ থেকে বহুদিন ধরেই এই দাবি তোলা হচ্ছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগেও এই দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল তারা। সূত্রের খবর, নির্বাচনের পরেই যেন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা যায়, তা নিশ্চিত করতে একটি তালিকাও প্রস্তুত করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরে রাজ্যের সব পদে বিগত তৃণমূল সরকারের মনোনীত সদস্যদের সরে যেতে বলে বিজেপি সরকার। তাই সিন্ডিকেট থেকেও পূর্বতন সরকারের মনোনীত সদস্যেরা পদত্যাগ করেন। সম্প্রতি আচার্য, উচ্চশিক্ষা সংসদ এবং উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে সদস্যেরা মনোনীত হওয়ায় বিজেপি সরকারের আমলে প্রথম সিন্ডিকেট বৈঠক হয়। এই বৈঠকেই নিয়োগের বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যায়।

কুটা-র তরফে জানানো হয়, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের অভাবে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পঞ্চাশ শতাংশের বেশি পদে কোনও শিক্ষক নেই। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ বুধবার বলেন, ‘‘আমাদের দাবি, যত বেশি সংখ্যায় নিয়োগ সম্ভব কর্তৃপক্ষ যেন সেটাই করেন। স্বচ্ছ ও দ্রুত এই নিয়োগ হোক, এটাই আমাদের দাবি।’’

জানা গিয়েছে, সাংবাদিকতা, মলিকিউলার বায়োলজি, পদার্থবিদ্যা, বায়োটেকনোলজি, রসায়নের মতো বিষয়েও কোথাও এক, চার বা ছ’জন শিক্ষক রয়েছেন। দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন শিক্ষকেরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, শূন্যপদের তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। সম্প্রতি ওবিসি সংরক্ষণের আইনে পরিবর্তন হয়েছে। ফলে সেই নিয়ম মেনেই রস্টার ঠিক করে নিয়োগের কাজ শুরু হবে।

স্নাতকের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি নিয়মের পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এক সিন্ডিকেট সদস্য জানান, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ফের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, স্নাতকে অসাফল্যের হার বাড়তে থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। পুরো ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ৮ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। তাঁদের সুপারিশ মেনে এ বারে প্রতিটি সেমেস্টারে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বা ‘ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট’ ব্যবস্থা শুরু হতে চলেছে। পাশাপাশি, উপস্থিতির জন্য ৫ নম্বর বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০ শতাংশ উপস্থিতি থাকলে পড়ুয়ারা পাবেন ৫ নম্বর, ৭০ শতাংশ উপস্থিতি থাকলে সেই নম্বর হবে ৩। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই উপস্থিতির এই নম্বর দেওয়া হবে বলে জানান এক সদস্য। এক কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘চার বছর আগে উপস্থিতির জন্য নম্বর দেওয়ার এই নিয়ম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও উপস্থিতির নম্বর, দু’টি ক্ষেত্রেই সার্বিক ভাবে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে।’’

কলেজের ক্ষেত্রেও এ দিন বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। লরেটো কলেজকে স্বশাসনের অনুমোদন ছাড়াও এ বার থেকে নতুন ভাবে ‘অটোনমাস ফি’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বার থেকে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বশাসনের অনুমোদন পেতে হলে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা। বেসরকারি কলেজে কোনও বিষয় পড়ানোর অনুমোদন প্রতিবছর পুনর্নবীকরণ করাতে হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর জন্য দিতে হবে নির্দিষ্ট ‘ফি’। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিক দিক থেকে কিছুটা লাভবান হবে।

CU

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy