একাদশ-দ্বাদশ স্তরে যে শূন্যপদের তালিকার ভিত্তিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেটা ছিল ত্রুটিপূর্ণ— স্কুলশিক্ষা দফতরে এমনই অভিযোগ জানিয়েছিলেন শিক্ষকেরা। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে দফতরের কাছেও একাধিক বার ওই তালিকা সংশোধনের আবেদন করা হয়। নির্বাচনের ঠিক আগে, গত মার্চে এই ঘটনায় শোরগোল পড়েছিল। আবার যাতে সেই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য সব স্কুলের থেকে শূন্যপদের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও সংখ্যা জানতে চাইলেন জেলা স্কুল পরিদর্শকেরা। সূত্রের খবর, আগামী দিনে স্কুল সার্ভিস কমিশন ওই তালিকার ভিত্তিতে যাতে সুপারিশপত্র দিতে পারে, সেই কারণেই এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যদিও জেলা স্কুল পরিদর্শকদের দাবি, এটা নিতান্তই ‘রুটিন’ কাজ।
গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে একাদশ-দ্বাদশ স্তরে ১০টি বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাউন্সেলিং শুরু করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। প্রায় ৩৩০০ পদে দফায় দফায় এই কাউন্সেলিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে শূন্যপদের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে গরমিল ছিল বলে অভিযোগ করেছিল শিক্ষক সংগঠন ‘অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। এর পরেই নড়ে বসে দফতর। জেলা স্কুল পরিদর্শকদের ওই তালিকা ফের যাচাই করে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী স্কুলগুলির সাহায্যে এই শূন্যপদের তালিকা তৈরি করেন জেলা স্কুল পরিদর্শক। পরে সেগুলি স্কুলশিক্ষা কমিশনারকে পাঠানো হয়। তার পরে সেটি পর্ষদ হয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনে আসে। ফলে ‘গোড়ায় গলদ’ থেকে গেলে সেই প্রভাব পড়ে সর্বত্র।
আরও পড়ুন:
ওই সময়ে দেখা গিয়েছিল, ২০১৬ সালে কোনও প্রার্থী একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তিনি আপস-বদলির মাধ্যমে অন্য স্কুলে চলে গিয়েছেন। অর্থাৎ তাঁর জায়গায় ওই স্কুলে ইতিমধ্যেই অন্য শিক্ষক রয়েছেন। অথচ যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে এই পদটি ছিল শূন্য। আবার কোনও স্কুলে কোনও একটি বিষয়ে হয়তো একটি শূন্যপদ রয়েছে। কিন্তু তালিকায় সেই শূন্যপদ ছিল দু’টি। এই নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন শিক্ষক পদপ্রার্থীরা।
এই প্রক্রিয়া চলার পরে বিধানসভা নির্বাচন হয়। তার পরে রাজ্যে পালাবদল। বিজেপির সরকার ক্ষমতায় এসে জানিয়ে দেয় যে, বিগত সরকারের মনোনীতেরা কেউ কোনও পদে থাকতে পারবেন না। এর পরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন তৎকালীন চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। তার পর থেকে এই প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এখনও নবম-দশম স্তরের ইন্টারভিউও শুরু হয়নি। সম্প্রতি ওই পদে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়। বুধবার পর্যন্ত তিনি দফতরে আসেননি বলে খবর। কিন্তু থমকে থাকা প্রক্রিয়া ফের শুরু হবে বলেও শোনা যাচ্ছে। তাই তার আগে এই শূন্যপদের সর্বশেষ পরিসংখ্যান সহযোগে তালিকা তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘তালিকা ত্রুটিমুক্ত করেই সুপারিশ ও নিয়োগ করা উচিত। না হলে শিক্ষক পদপ্রার্থীদের ভোগান্তি তো হবেই, পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।’’ অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, ‘‘শূন্যপদ যাচাইয়ের জন্য সেন্ট্রাল পোর্টালের দাবি আমরা শিক্ষামন্ত্রী ও স্কুলশিক্ষা কমিশনারকে জানিয়েছিলাম। সেটা না করে বারবার স্কুল ও ডিআই -দের মাধ্যমে শূন্যপদ ও পদ যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।’’