বেসরকারি স্কুলে কোনও সমস্যা হলেও হস্তক্ষেপ করতে পারবেন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানেরা। বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে প্রশাসনিক, পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠন সংক্রান্ত এক বৈঠকে চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে এ কথা জানান স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। প্রতিশ্রুতি পূরণ করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
সম্প্রতি কলকাতায় এক নামী বেসরকারি স্কুলে এক ছাত্রকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার ঘটনা ঘটে। তার পরই বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা এবং সরকারি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গও ওঠে। অভিভাবকদের একাংশও সরকারি হস্তক্ষেপ ও পরিদর্শনের পক্ষেই মত দিয়েছিলেন। সে সময় স্কুলশিক্ষামন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, তিনি স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী— সরকরি ও বেসরকারি স্কুলেরও। এ দিন সেই সূত্রেই সংসদের চেয়ারম্যানদের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমি বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী। মানে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের দেখভাল করবার দায়িত্ব, তাদের খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব আমার উপরে। একই ভাবে ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যান হিসেবেও আপনাদের দায়িত্ব থাকবে।” তিনি জানান, চেয়ারম্যানের জেলার কোনও বেসরকারি স্কুলে কোনও গোলমাল হলে, পড়ুয়াদের পড়ানো হচ্ছে না অথচ ফি বেশি নেওয়া হচ্ছে বা পরিকাঠামো যথাযথ নেই সেখানেও চেয়ারম্যানেরা দেখতে পারেন।
পাশাপাশি দীপক বর্মন জানান, সব স্কুলে পড়ুয়া কম সেগুলিকেই ইংরেজি মাধ্যম করার জন্য আবেদন করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল চালাতে সরকারের কোনও বাড়তি খরচ হবে না। আপনারা সকলে মিলে বললে, রাজ্যের ৮১ হাজার স্কুলই না হয় ইংরেজি মাধ্যম করে দেব। কিন্তু ইংরেজি পড়লেই কি বুদ্ধি বাড়ে?” তাঁর দাবি, যে সব অসুবিধা রয়েছে তা দূর করে নির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্যেই সমাধান খুঁজে নিতে হবে। সকলকে সমন্বয় রেখে কাজ করার পরামর্শও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, “কাজের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন শিক্ষামহলের অন্দরের কিছু মানুষই। বিরোধীরা বাধা হবে অনেক পরে। আপনারা বাস্তু ঘুঘুর আড্ডায় ঢুকে পড়েছেন। সতর্ক করে বলছি।” উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, যে সকল প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষকে দেওয়া হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই সেগুলি পূরণ করতে হবে। সরকার গঠনের পর ছ’মাস কেটে গিয়েছে, এ বার সরকারকে কাজ করে দেখাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরবকে পুনরুদ্ধার করতে চাই তা হলে সবার আগে শিক্ষাঙ্গনকে আবর্জনা মুক্ত করতে হবে।”