শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তামাক ও মাদকের ব্যবহার রুখতে বিশেষ উদ্যোগী হল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা শিক্ষা দফতর। জেলার প্রতিটি স্কুলের মূল প্রবেশদ্বারে ‘ড্রাগ ফ্রি স্কুল’ (মাদকমুক্ত বিদ্যালয়) লেখা সাইনবোর্ড দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ‘থ্রি ইয়ার নেশা মুক্ত বিদ্যালয় অ্যাকশন প্ল্যান (২০২৬-২০২৯)’-এর আওতায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিকে নির্দিষ্ট নকশা মেনে সাইনবোর্ড তৈরি করে তা স্পষ্ট ভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
সমগ্র শিক্ষা মিশনের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রকল্প অফিসের তরফে এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন জেলা শিক্ষা আধিকারিক। জেলার সব সার্কেল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরকে নির্দেশটি কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলের প্রবেশের জায়গায় এবং স্কুল প্রাঙ্গণের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘নেশামুক্ত বিদ্যালয় পোর্টাল’-এ স্কুলগুলিকে স্ব-ঘোষণা জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় মাদকমুক্ত পরিবেশ সংক্রান্ত শর্তগুলি মেনে চলার কথা ঘোষণা করতে পারবে।
সাইনবোর্ড তৈরির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত নকশা বা টেমপ্লেট অনুসারে বোর্ড তৈরি করতে হবে। সেটি স্কুলের মূল প্রবেশদ্বারে অথবা প্রাঙ্গণের বাইরে এমন জায়গায় লাগাতে হবে, যাতে সহজেই নজরে পড়ে। এই কাজের জন্য স্কুলগুলি তাদের কম্পোজ়িট স্কুল গ্রান্টের তহবিল ব্যবহার করতে পারবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
-
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সেলিং বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ, বৃদ্ধি হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়ার মেয়াদ
-
নামেরি ব্যাঘ্র প্রকল্পে ‘ওয়াইল্ড ক্লাসরুম’, জঙ্গলে থেকেই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণবিদ্যা শেখার সুযোগ পড়ুয়াদের
-
উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার বৃদ্ধির দাবি মন্ত্রীর, ২০২৫-এর তুলনায় ৭৫.৪ শতাংশ বেশি পড়ুয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মাসিতে
পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের ‘তামাকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। জেলার সব সার্কেল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরকে তাঁদের আওতাধীন বিদ্যালয়গুলিতে দ্রুত নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মধ্যে তামাক ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয় চত্বরে মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। আগামী ২০২৯ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনার আওতায় স্কুলগুলিতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের মতে এই প্রকল্পকে সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত করা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে গেলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই সচেতনতা অবশ্যই দরকার।