ইসকনের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজনের সঙ্গেই এ বার পাওয়া যাবে ডিম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা মতো সপ্তাহে দু’দিন সিদ্ধ ডিম দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। শনিবার থেকেই কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে শুরু হচ্ছে ডিম পরিবেশন।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে। হরিণঘাটা ফার্মের ডিম দেওয়া হবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে। আপাতত তারাই ডিম সিদ্ধ করে স্কুলে স্কুলে পাঠাবে। পরে স্কুলের পরিকাঠামো ঠিক করে সিদ্ধ করার দায়িত্ব দেওয়া হবে স্কুলগুলিকেই। সে ক্ষেত্রে হরিণঘাটা থেকে সরাসরি স্কুলেই আসবে ডিম। স্কুলের রাঁধুনি ও সহযোগীরা ওই ডিম সিদ্ধ করে পরিবেশন করবেন।
কলকাতা পুর এলাকার এক স্কুলশিক্ষক জানান, শনিবার ডিম বিতর্কের কার্যত অবসান হতে চলেছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রথম বাজেটে বিজেপি সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন, কলকাতা পুর এলাকার স্কুলের মিড-ডে মিল পাঠাবে ইসকন। তার পরই শুরু হয় বিতর্ক। কেন কলকাতা এলাকার পড়ুয়ারা নিরামিষ খাবে, কেন তারা নির্দিষ্ট ডিম পাবে না, তা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।
গত ১ অগস্ট থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতায় এই প্রকল্প শুরু হয়। তার আগেই অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ইসকনের খাবারের পাশাপাশি সপ্তাহে দু’দিন পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে। কিন্তু তখনও স্পষ্ট হয়নি কী ভাবে সেই ডিম দেওয়া হবে, কারা ডিম সিদ্ধ করবেন ইত্যাদি। গত শনিবার, ১ অগস্ট ইসকনের অন্নামৃত প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৭ অগস্ট, শুক্রবার পর্যন্ত পড়ুয়াদের পাতে ডিম বা অন্য আমিষ পদ পড়েনি। বরং কোনও কোনও স্কুলে খাবার পৌঁছয়নি বা পর্যাপ্ত খাবার পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্কুলের সঙ্গে বৈঠক হয় স্কুলশিক্ষা দফতরের। সেখানে জানানো হয়, আপাতত স্কুলগুলিকেই ডিম সিদ্ধ করার দায়িত্ব নিতে হবে। শুক্রবার দফতরের এক কর্তা জানান, সিদ্ধাম্ত হয়েছে হরিণঘাটা ফার্মের থেকে ডিম কিনবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। আপাতত সিদ্ধ করবে তারাই। ডিমের দাম, সিদ্ধ করা এবং স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার খরচ ইসকনের বরাদ্দ থেকে কেটে নেওয়া হবে।
তবে, সব স্কুলে গ্যাসের সংযোগ, ইনডাকশন হিটার রয়েছে কি না তা দেখে নেবেন দফতরের কর্তারা। প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি হলেই ডিম সিদ্ধ করার ভার দেওয়া হবে স্কুলগুলিকে। সেখানে রাঁধুনি এবং সহায়িকারা ডিম সিদ্ধ করবেন। যতদিন না পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা কার্যকর হয় ততদিন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিই ডিম সিদ্ধ দেবে।
গত এক সপ্তাহে ইসকনের দেওয়া খাবার নিয়ে খানিক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে কোনও কোনও স্কুলে। কলকাতার এক স্কুলশিক্ষক বলেন, “গত শনিবার ভাল খাবার পাওয়ার আশায় বসেও থেকে হতাশ হয়েছিল পড়ুয়ারা। আগামী শনিবার কী হয় দেখা যাক।”
দফতরের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে ডিম তো থাকছেই, অন্য পদেও পরিবর্তন হতে পারে। এ দিকে প্রশ্ন উঠছে ডিমের হিসাব নিয়ে। প্রতি সপ্তাহে দু’দিন করে ডিম পরিবেশন করার কথা। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শেষ দিনে ডিম পাবে পড়ুয়ারা। সে ক্ষেত্রে হিসাবে একটি কম হবে। সূত্রের খবর, ডিমের হিসাব ঠিক রাখতে কোনও সপ্তাহে তিন দিন ডিম পরিবেশন করা হতে পারে।