মন চায় পড়াশোনা করতে, অথচ শরীর বার বার বাধা হয়ে দাড়ায়। তবুও ইচ্ছে থাকলেই যে উপায় মেলে, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন কাশ্মীরি মহিলা রেণু হংস। বাক ও শ্রবণ সমস্যায় জর্জরিত বিশেষ ভাবে সক্ষম রেণু ৪৫ বছর বয়সে উত্তীর্ণ হয়েছেন দশম শ্রেণির পরীক্ষায়।
সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন-এর দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৮২ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। বিয়ের আগে বহু বছর আগে একবার দশম শ্রেণির পরীক্ষায় বসেছিলেন রেণু, কিন্তু সে বার তিনি সফল হতে পারেননি। এর পর জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর চলতি বছরের এপ্রিলে ফের পরীক্ষায় বসেন তিনি। সেই পরীক্ষারই ফল ঘোষণা হয়েছে সম্প্রতি। আর সেখান থেকেই রেণু জানতে পারেন, কোনওমতে নয়, একেবারে ৮২ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, রেণুর এ হেন সাফল্যের পিছনে রয়েছে তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং পরিবারের সমর্থন। তাঁর ১৮ বছর বয়সি ছেলে রয়েছে। যার নাম নমন কৌল। যিনি নিজে বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। নমন নিজেই ভরসা দেয় মাকে। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাকে পড়ানো, পড়া বুঝিয়ে দেওয়া এবং রাতে পড়া যাচাই করার দায়িত্ব সামলেছে সে।
নমন জানায়, সে চায়নি তাঁর মা শুধু ঘরের চারদেওয়ালে বন্দি থাকুন। রেণু সব সময় পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ও চাকরি করার স্বপ্ন দেখতেন বলে জানিয়েছে নমন। তাই নমনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে মায়ের লালন করা সেই স্বপ্নের প্রথম পদক্ষেপ ছিল মায়ের দশম শ্রেণির গণ্ডি পার করা।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কাশ্মীরের কুলগাম জেলার পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে জম্মুর লোয়ার রূপ নগরের এক সরকারি আবাসনে স্থানান্তরিত হয় রেণুর পরিবার। স্বামী বাবলু কৌলও বিশেষ ভাবে সক্ষম। তাঁরও বাক ও শ্রবণ সমস্যা রয়েছে। তবুও বাবলু দর্জির কাজ করে উপার্জন করেন। পরিবারে শত আর্থিক ও শারীরিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা ছেলের পড়াশোনায় ঘাটতি হতে দেননি।
এ বার নমন তাঁর মায়ের পড়াশোনা আবার শুরু করার জন্য জম্মু ও কাশ্মীর বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন-এর দফতরে যোগাযোগ করে। প্রথমে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিজের থেকে অনেক ছোট পরীক্ষার্থীদের দেখে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন রেণু। তবে, মনোবল হারিয়ে ফেলেননি। দশম শ্রেণিতে সাফল্যের পর রেণু তাঁর উচ্চশিক্ষা ও আগামী দিনের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।