চিকিৎসার কোন ক্ষেত্রটিতে বেশি দক্ষ হতে চাইছেন ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়ুয়ারা। চিকিৎসার প্রাথমিক পাঠ শেষ করার পরে স্নাতকোত্তরে তাঁরা কোন বিষয়টিকে বেছে নিচ্ছেন বেশি? নিট পিজি পরীক্ষার কাউন্সেলিংয়ের ধারাবাহিক রেকর্ড দেখে সেই প্রবণতার একটি বিশেষ ধরণ লক্ষ্য করেছে দেশের মেডিক্যাল কাউন্সেলিং কমিটি।
চিকিৎসক হওয়ার প্রাথমিক পাঠক্রম এমবিবিএস শেষ করার পরে চিকিৎসার কোনও একটি বিষয়ে দক্ষ হতে চাইলে তা নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করতে হয়। যার প্রবেশিকা পরীক্ষা হল নিট পিজি। সম্প্রতি সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। শেষ হয়েছে প্রথম রাউন্ডের কাউন্সেলিং। সেই নিট পিজি-রই প্রথম ১০০টি কাউন্সেলিংয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মেডিক্যাল কাউন্সেলিং কমিটি (এমসিসি)। সেই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, চিকিৎসার একটি বিশেষ ক্ষেত্র নিয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসক। শুধু এ বছর নয়, বিগত দু’টি বছর ধরেই অর্থাৎ ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও ওই বিভাগেই পড়াশোনার আগ্রহ ছিল নিট পিজি পরীক্ষায় শীর্ষস্থানাধিকারী চিকিৎসকদের মধ্যে।
কোন পাঠক্রমের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে চিকিৎসকেদের। এমসিসি জানাচ্ছে ১০০ জনের মধ্যে ৫১ জনই বেছে নিয়েছেন ‘এমডি ইন জেনারেল মেডিসিন’। অথচ দেশে ক্যানসারের রোগী বাড়লেও ক্যানসারের চিকিৎসায় আগ্রহী চিকিৎসকের সংখ্যা কমছে। ১০০ জনের মধ্যে কেবল ৩১ জন বেছে নিয়েছেন ক্যানসারের চিকিৎসা রেডিয়োলজি বা রেডিও ডায়াগোনোসিস। চিকিৎসার স্নাতকোত্তরে পড়াশোনার জন্য বেছে নেওয়া বিষয় রয়েছে অনেকরকম কেউ অস্থিরোগ নিয়ে পড়েন, কেউ স্ত্রীরোগ। এছাড়া হার্টের রোগ, স্নায়ুরোগ নিয়েও স্নাতকোত্তরে পড়াশোনা করেন বহু চিকিৎসক। এই প্রতিটি চিকিৎসার সঙ্গে অস্ত্রোপচারও শিখতে হয়। এ ছাড়া সাধারণ অস্ত্রোপচার বা এমএস ইন জেনারেল সার্জারি পাঠ্যক্রমও রয়েছে। তবে গত কয়েক বছর ধরেই সেই বিষয় বাছার প্রবণতায় কিছু বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
যেমন এ বছর প্রথম রাউন্ডের কাউন্সেলিংয়ের শেষে অস্থিরোগ, স্ত্রীরোগ এবং সাধারণ অস্ত্রোপচার বেছে নিয়েছেন ৬ শতাংশ চিকিৎসক। শিশুরোগ, ত্বকের চিকিৎসা, নিউক্লিয়ার মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করতে চেয়েছেন ১০০ জনের মধ্যে সব মিলিয়ে ১১ জন। বাকি ৮২ জনের মধ্যে ৩১ জন ক্যানসারের চিকিৎসা বেছে নিয়েছেন পড়াশোনার জন্য। বিগত দু’বছরে এই ক্যানসারের চিকিৎসায় আগ্রহী চিকিৎসকের সংখ্যাও কমেছে লক্ষ্যনীয় ভাবে।
২০২৪ সালের হিসাব বলছে নিট পিজি-তে শীর্ষস্থানাধিকারীদের মধ্যে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন ৪৫ জন। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১০০ জন শীর্ষস্থানাধিকারীর মধ্যে ৪০ জনে। তুলনায় এ বছর প্রথম ১০০টি কাউন্সেলিং এন্ট্রিতে সেই সংখ্যা কমেছে অনেকটাই। অন্য দিকে জেনারেল মেডিসিনে আগ্রহীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
২০২৪ সালে ৪৮ জন নিট পিজি-র শীর্ষ স্থানাধিকারী জেনারেল মেডিসিন-এ এমডি করেছিলেন। ২০২৫ সালে প্রথম দশ শীর্ষস্থানাধিকারীর মধ্যে ৯ জনই বেছে নিয়েছিলেন জেনারেল মেডিসিন। সব মিলিয়ে প্রথম ১০০-এ থাকা ৪৬ জন ওই বিষয় বেছে নিয়েছিলেন। এ বছর প্রথম ১০০ জনের কাউন্সেলিংয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।
কেন হঠাৎ জেনারেল মেডিসিনের প্রতি এই আগ্রহ চিকিৎসকদের? ওই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরে সমাজ মাধ্যমে অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন। অনেকেরই বক্তব্য, জেনারেলস মেডিসিনে কম পরিশ্রমে উপার্জন বেশি বলেই কি ওই বিষয় নিয়ে পড়ার আগ্রহ বেশি চিকিৎসকদের। তা না হলে অন্য ক্ষেত্র গুলিতে বিশেষ করে ক্যানসারের চিকিৎসায় চাহিদা বাড়লেও চিকিৎসকেরা তা নিয়ে পড়াশোনা করতে চাইছেন না কেন?
এমসিসি অবশ্য জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের নিট পিজি-র শীর্ষ স্থানাধিকারীদের সঙ্গে এখনই এ বছরের ১০০জনের তালিকা মেলানো উচিত নয়। কারণ, এ ক্ষেত্রে কেবল প্রথম দফার কাউন্সেলিং হয়েছে। ৬ নভেম্বরের পরে দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিং হলে বাকি পরিস্থিতি কেমন, তা স্পষ্ট হবে।