Advertisement
E-Paper

আত্মবিশ্বাসে ছাত্রদের থেকে পিছিয়ে ছাত্রীরা! হতাশা, মানসিক অশান্তিও বেশি! তবুও স্কুলে বেশি সুখী তারাই

আইসিথ্রি ইনস্টিটিউট ওই সমীক্ষা চালিয়েছে দেশের এক স্বনিয়ন্ত্রিত স্কুল বোর্ড সিআইএসসিই-র সঙ্গে মিলিত ভাবে। গোটা দেশে সাড়ে আট হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে ওই সমীক্ষা চালানো হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:২৪
ছাত্ররা কিসে টেক্কা দিচ্ছে ছাত্রীদের!

ছাত্ররা কিসে টেক্কা দিচ্ছে ছাত্রীদের! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

‘‘আমার মতো সুখী কে আছে, আয় সখী আয় আমার কাছে’’— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গানটির মতো করে বলতেই পারে ভারতের স্কুলের ছাত্রীকুল। কারণ, একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, স্কুলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরাই বেশি সুখী। কিন্তু অন্য নানা বিষয়, যেমন আত্মবিশ্বাসের ব্যাপারে ছাত্রদের থেকে বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এমনই তথ্য জানা গিয়েছে এক সমীক্ষায়।

সমীক্ষাটি প্রকাশ করেছে অলাভজনক সংস্থা আইসিথ্রি ইনস্টিটিউট। আর তারা ওই সমীক্ষা চালিয়েছে এ দেশের এক স্বনিয়ন্ত্রিত স্কুল বোর্ড কাউন্সিল ফর দি ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এগজ়ামিনেশন বা সিআইএসসিই-র সঙ্গে মিলিত ভাবে। গোটা দেশের বিভিন্ন স্কুলের সাড়ে আট হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে ওই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষাটি সর্বতো ভাবে ধ্রুব না হলেও, তার ফলাফলে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ভাবে ভাল বা মন্দ থাকার ব্যাপারে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।

সমীক্ষার ওই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ৬২ শতাংশ ছাত্রীই জানিয়েছে, তারা স্কুলের পরিবেশে নিজেকে সুখী বলেই অনুভব করে। ছাত্রদের মধ্যে সেই সুখীভাব কিছুটা কম। সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, কেবল ৫৮ শতাংশ ছাত্র মনে করে, তারা স্কুলে থাকাকালীন সুখী থাকে।

অবশ্য ওই একটি ক্ষেত্রেই যা একটু পিছিয়ে রয়েছে তারা। মানসিক স্বাস্থ্যের আরও নানা শর্তে ছাত্রীদের পিছনে ফেলে দিয়েছে ছাত্রেরা।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে সুখী না হলেও ছাত্রেরা ছাত্রীদের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। ৬৪ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া ছাত্র জানিয়েছে, তারা অধিকাংশ সময়েই আত্মবিশ্বাস অনুভব করে। তুলনায় ছাত্রীদের মধ্যে এই হার বেশ কিছুটা কম— কেবল ৫২ শতাংশ ছাত্রীই দাবি করতে পেরেছে যে, তারা সবসময়েই আত্মবিশ্বাস বোধ করে। অর্থাৎ বাকি ৫৮ শতাংশ সবসময় আত্মবিশ্বাস অনুভব করে না। ২২ শতাংশ ছাত্রী এমনও বলেছে, তাঁরা কখনওই আত্মবিশ্বাস বোধ করে না। ওই সমস্যা ছাত্রদের মধ্যে নেই, তা নয়। তবে সংখ্যাটা কেবল ১৪ শতাংশ।

আরও একটি ক্ষেত্রে ছাত্রদের সঙ্গে লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে ছাত্রীরা। মানসিক শান্তিতে থাকা, নিশ্চিন্ত থাকা এবং উদ্বেগমুক্ত থাকার ব্যাপারে। ৪২ শতাংশ ছাত্রী জানিয়েছে, তারা বেশির ভাগ সময়েই নিশ্চিন্ত বোধ করে, কোনওরকম উদ্বেগ তাদের মানসিক শান্তি নষ্ট করে না। তুলনায় ছাত্রদের মধ্যে নিশ্চিন্ত থাকার প্রবণতা খানিকটা বেশি। ৫৩ শতাংশ ছাত্র জানিয়েছে, তারা অধিকাংশ সময়েই নিশ্চিন্তে থাকে। ২৮ শতাংশ ছাত্রী জানিয়েছে, তারা কখনওই নিশ্চিন্ত বোধ করে না। ছাত্ররা এ দিক থেকেও অনেক বেশি ইতিবাচক। সর্বক্ষণ উদ্বেগে থাকা ছাত্রদের সংখ্যা অনেকটা কম— ২২ শতাংশ।

ভাল পড়াশোনা, ভাল পারফরম্যান্স, ভাল রেজ়াল্ট— এই সবের জন্য অনুপ্রেরণার দরকার হয়। ৫৫ শতাংশ ছাত্রী জানিয়েছে, তারা ভাল কাজ করার সেই প্রেরণা পায়ও। যদিও ছাত্রদের ক্ষেত্রে সেই প্রেরণা তুলনায় বেশি। হার ৬১ শতাংশ।

নেতিবাচক আবেগের ব্যাপারেও পার্থক্য লক্ষ্যণীয়। ওই সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য বলছে, ৩৩ শতাংশ ছাত্রীই উদ্বিগ্ন বোধ করে, হতাশ বোধ করে ৩৬ শতাংশ ছাত্রী। দুঃখ, দুর্বলতা বোধ করে অনেকেই। তুলনায় উদ্বিগ্ন ছাত্রের সংখ্যা ২৩ শতাংশ। হতাশ বোধ করে ২৮ শতাংশ ছাত্র।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, আপাত ভাবে সুখে থেকেও ছাত্রীরা আত্মবিশ্বাস, নিশ্চিন্তবোধ, প্রেরণার অভাব বোধ করছে। ভুগছে নানা রকম উদ্বেগ ও মানসিক সমস্যায়। তবে এই সমীক্ষা থেকে ছাত্রছাত্রীর মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ ছবি আঁকা সম্ভব নয়। কারণ, পড়ুয়াদের ভাল-মন্দ থাকার অনেকটা নির্ভর করে পারিবারিক পরিস্থিতির উপরেও। অবশ্য সেই বিষয়ে আলোকপাত করা হয়নি ওই সমীক্ষায়।

Mental Wellbeing students mental health

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy