পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে উঠে এসেছিল একের পর এক বিজেপি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নাম। এ বার সরকারপোষিত কলেজগুলিতে সরকারের প্রতিনিধির নাম প্রকাশ করল উচ্চশিক্ষা দফতর। অভিযোগ, এ ক্ষেত্রেও শাসকদলের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার কলকাতা বাঁকুড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, উত্তর দিনাজপুর, হুগলি, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রায় ৭০টি কলেজে দু’জন করে মোট ১৪০ জনকে রাজ্যপাল মনোনীত করেছেন। এর আগে গত ২২ অগস্ট উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে রাজ্যের ২৪৭টি সরকারপোষিত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে মনোনীত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছিল বিজেপি-র জনপ্রতিনিধিরা সে পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। এমনকি খোদ উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও একাধিক কলেজের সভাপতি পদের বসানো হয়। এ ছাড়াও বিজেপি বিধায়ক, মন্ত্রী এবং সাংসদদের ওই পদে মনোনীত করা হয়। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দুই ভাইকেও বিভিন্ন কলেজে সভাপতি করা হয়। যা নিয়ে বিতর্কও হয়। পরে ফের ১৭১টি কলেজের তালিকা প্রকাশিত হয়, সেখানে শাসকদলের মণ্ডল সভাপতিদের মনোনীত করা হয়।
শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী সরকার দাবি করেছিল, শিক্ষার রাজনীতিকরণ হবে না। কিন্তু কলেজগুলির পরিচালন সমিতিতে প্রথমে মন্ত্রী পরে দলীয় পদাধিকারীদের বসানোয় প্রশ্ন উঠে, কী ভাবে শিক্ষাঙ্গন রাজনীতি মুক্ত হবে?
এ বার সরকারি প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের নাম। মেটিয়াব্রুজ কলেজের পরিচালন সমিতিতে মনোনীত করা হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মী তথা সংঘ ভাবধারার পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের রাজ্য সম্পাদক পলাশ মাজিকে। খিদিরপুর কলেজে বিটি রোড হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য, হরিমোহন ঘোষ কলেজে সুভাষচন্দ্র মণ্ডল ও ঠাকুরপুকুর বিবেকানন্দ কলেজের পরিচালন সমিতিতে রয়েছেন উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচুর কলেজে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ভাবধারার শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (উচ্চশিক্ষা)-এর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পাদক ভাস্কর সর্দারের নাম। কলকাতার দেশবন্ধু কলেজ ফর গার্লসে মনোনীত হয়েছেন বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র ওফেলিয়া সিংহ।
এ বিষয়ে ভাস্কর সর্দার বলেন, ‘‘আমাদের বিশেষ কোনও রাজনৈতিক ভাবধারা থাকলেও শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠেই কাজ করি। বাম এবং তৃণমূল জমানাতেও এই সব পদে শাসকঘনিষ্ঠেরাই থাকতেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ রাজনীতির সীমানা পার না করতে পারলেও এমন অনেকে শিক্ষাকেই প্রাধান্য দিতেন। আমরা রাজনীতি সরিয়ে রেখে শিক্ষাকেই প্রাধান্য দেব।’’
এ দিকে সংঘের কার্যকর্তা পলাশের দাবি, তাঁর বিশেষ কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাঁর গোটা পরিবার শিক্ষা জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি নিজেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মী। তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজনীতির প্রবেশের কোনও ইচ্ছা নেই। তবে তাঁর সাফ কথা, ‘‘ভারতবর্ষে সর্বত্রই রাষ্ট্রবাদী ভাবধারার প্রতিষ্ঠা হবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।’’