রাজ্যের সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজগুলির মানোন্নয়নে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে, আগেই জানিয়েছিল সরকার। রাজ্যের কলেজগুলিকে সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৪ সদস্যের ‘স্টেট লেভেল অ্যাডভাইসারি অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি ফর এনআইআরএফ’ গঠন করল উচ্চশিক্ষা দফতর। সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় ক্রম তালিকায় ভাল নম্বর পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং সেগুলির বাস্তবায়নের দিকে নজর রাখার উপরে জোর দেওয়ার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, ২০২৪ সালে সর্বভারতীয় ক্রম তালিকায় (এনআইআরএফ) রাজ্যের ৩৭২টি কলেজের মধ্যে ৮টি কলেজ প্রথম একশোয় ঠাঁই পেয়েছিল। পরের বছর সেই সংখ্যা নেমে আসে ৬-এ। ২০২৬ সালের ফলাফল প্রকাশ হতে পারে অগস্টেই। তাই ২০২৭ সালের তালিকাতেই রাজ্যের কলেজগুলিকে উপরের দিকে তুলে আনতে চাইছে সরকার।
দফতর সূত্রের খবর, ‘মিশন-২০’ লক্ষ্যমাত্রা ধরে এগোতে চাইছে উচ্চশিক্ষা দফতর। অর্থাৎ, প্রথম ১০০-য় থাকবে এ রাজ্যের অন্তত ২০টি কলেজ। কমিটির উপদেষ্টা করা হয়েছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দকে। এর পর বহরমপুর গার্লস কলেজ, স্কটিশচার্চ কলেজ, বেথুন কলেজ, লেডিব্রেবোর্ন কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজ, রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির, বাঁকুড়া ক্রিশ্চিয়ান কলেজ, মেদিনীপুর কলেজ, বোলপুর কলেজ, কোচবিহারের এবিএন সিল কলেজের শিক্ষকদের রাখা হয়েছে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে। ওই কমিটিতে থাকছেন উচ্চশিক্ষা দফতরের দু’জন আধিকারিকও।
জানা গিয়েছে, সর্বভারতীয় তালিকার প্রথম ১০০-য় আনতে গেলে ওই কলেজগুলির ক্ষেত্রে কোন কোন ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তা সুপারিশ করবে এই কমিটি। ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে পড়ুয়াভর্তির তালিকা, সবই খুঁটিয়ে দেখা হবে। প্রতিটি কলেজে হবে পরিদর্শন। আগামী নভেম্বরের মধ্যে তাঁদের সুপারিশগুলি বাস্তবায়িত করা হবে দাবি দফতরের, যাতে জানুয়ারি ২০২৭-এ র্যাঙ্কিংয়ে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করা যায়।
জানা গিয়েছে, এই রাজ্যের কলেজের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা রয়েছে ‘পারসেপশন’-এ। এই খাতে ১০০ নম্বর রয়েছে। সর্ব মোট নম্বরের ক্ষেত্রে ওয়েটেজ রয়েছে ১০। দক্ষিণ ভারতের কলেজগুলি যেখানে এই ক্ষেত্রে ১০-এ ১০ পায়, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের গড় প্রাপ্ত নম্বর ১.৪, খুব বেশি হলে ২। এখানেই পিছিয়ে পড়ছে কলেজগুলি। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক খবর প্রকাশ, ভর্তিতে দুর্নীতি, বহু সংখ্যক আসন ফাঁকা পড়ে থাকা, সঠিক সময়ে ফলপ্রকাশ না হওয়া, অভিজ্ঞ শিক্ষকের সংখ্যা, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের বৈষম্য, কলেজছুটের সংখ্যা বৃদ্ধি, পঠনপাঠনের মান খারাপ হয়ে যাওয়া এবং ছাত্রছাত্রীদের গড় ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণে এই পারসেপশনে নম্বর কমে যায়। তাই সব দিক থেকে রাজ্যের কলেজগুলির হাল ফেরাতে উদ্যোগী হচ্ছে দফতর।