আইআইটিতে ভর্তির পরীক্ষায় দু’বার ব্যর্থ হলে আর তৃতীয়বার পরীক্ষায় বসার সুযোগ পান না পরীক্ষার্থীরা। সেই নিয়মে বদল চেয়ে বিশেষ আবেদন জমা পড়ল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের কাছে।
আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের আর্জি ওই পরীক্ষায় বসার সুযোগসীমা দু’বার থেকে বাড়িয়ে অন্তত তিন বার করা হোক। শুধু শিক্ষামন্ত্রক নয়, ওই একই আবেদন ছাত্রছাত্রীরা পাঠিয়েছেন আইআইটি কাউন্সিল এবং জয়েন্ট অ্যাডমিশন বোর্ডের কাছেও।
আবেদন পত্রে সই করেছেন ১২ হাজার ৭০০ স্কুল পড়ুয়া। এঁরা প্রত্যেকেই হয় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নয়তো দ্বাদশোত্তীর্ণ হয়েছেন সদ্য। আবেদনপত্রে তাঁরা জানিয়েছেন, জয়েন্ট এন্ট্রান্স অ্যাডভান্সড পরীক্ষা দিয়ে দেশের আইআইটিতে পড়াশোনা করার যে স্বপ্ন তাঁরা দেখেছেন, তা অপূর্ণই থেকে যাবে স্কুল বোর্ডের নিয়মের কড়াকড়ির আর জেইই অ্যাডভান্সডের নিয়মের পাকেচক্রে।
মূলত সিবিএসই-র পড়ুয়ারাই এনেছেন ওই অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য সিবিএসই-তে ক্লাসে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম যদি মানতে হয়, তবে তাঁরা জেইই অ্যাডভান্সডের জন্য বাড়তি পড়াশোনার সুযোগ পান না। কারণ, আইআইটিতে ভর্তির প্রথম পরীক্ষাটি দিতে হয় দ্বাদশ উত্তীর্ণ হওয়ার বছরেই। তাতে ব্যর্থ হলে পরের বছর আবার ওই পরীক্ষায় বসা যায়। তার পরে আর সুযোগ থাকে না।
স্কুলের উপস্থিতি বজায় রেখে আইআইটির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে আইআইটিতে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উপর। সেই চাপ হালকা করার জন্যই একটি বাড়তি সুযোগ চেয়ে ওই আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
আবেদনকারীরা বলেছেন, স্কুলের ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির নিয়ম যদি মানতে হয় তবে অন্তত আইআইটিতে ভর্তির পরীক্ষায় দু’বার ব্যর্থ হলে তৃতীয় বার বসার সুযোগ দেওয়া হোক।
আপাতত ছাত্রছাত্রীদের আবেদনে সরকারি ভাবে সাড়া না মিললেও আশার আলো দেখা গিয়েছে আইআইটি কানপুরের অধিকর্তা মণীন্দ্র অগ্রবালের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য। তিনি জানিয়েছেন, জেইই অ্যাডভান্সডের প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টার গুলির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন ছাত্রছাত্রীরা। সেই প্রবণতা কমাতে জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় কিছু বদল আনার কথা ভাবা হচ্ছে। তৃতীয় বার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও ভেবে দেখা হচ্ছে।