দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো আর পরিবারের সঙ্গে উৎসবের মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও অনেক পড়ুয়ার মনে ঘুরতে থাকে পরীক্ষা, অসমাপ্ত পাঠ্যক্রম, নম্বরের চিন্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষ করে যাঁদের সামনে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজের পরীক্ষা কিংবা বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা রয়েছে, তাঁদের কাছে ছুটির সময়টাও মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিকল্পনা করে চললে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি পড়াশোনার প্রস্তুতিও বজায় রাখা সম্ভব।
ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করে পড়াশোনা
একসঙ্গে অনেকটা পড়া শেষ করার চিন্তা মাথায় থাকলে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তার পরিবর্তে পড়ুয়াদের প্রতিদিনের জন্য ছোট ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তৈরি করা জরুরি। কোন বিষয়টি পড়তে হবে, কতটা পুনরাবৃত্তি করতে হবে এবং কোন অধ্যায়টি অসমাপ্ত রয়েছে, তা লিখে রাখা যেতে পারে। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করে বাকি সময় উৎসবের আনন্দে কাটানো সম্ভব। তবে প্রত্যেকের পড়ার প্রয়োজন আলাদা, তাই অন্যের রুটিন অনুসরণ না করে নিজের সুবিধামতো সময় ভাগ করে পড়া উচিত।
ঘুম ও বিশ্রামেও নজর জরুরি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুজোর সময়ে রাত জেগে পড়া কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের অভ্যাস এড়িয়ে চলা দরকার পড়ুয়াদের। পড়ার মাঝে বিরতি নেওয়া, পছন্দের কাজে সময় দেওয়া এবং বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে।
উদ্বেগ বাড়লে মনের কথা জানানো প্রয়োজন
ইউনিসেফের পরামর্শ অনুযায়ী, পড়ুয়ার পরীক্ষার ভয় বা উদ্বেগ মনে চেপে না রেখে পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। এ ক্ষেত্রে, পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে অভিভাবকদেরও পড়ুয়াদের কথা মন দিয়ে শোনা প্রয়োজন।
সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে সাহায্য নিতে হবে
উদ্বেগের কারণে ঘুম, খাওয়াদাওয়া, মনোযোগ কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, পরীক্ষায় ভালো ফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব কোনও অংশে কম নয়। পুজোর ছুটিতে তাই পড়াশোনা ও আনন্দের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই পড়ুয়াদের কাছে সবচেয়ে জরুরি।