পড়াশোনার ধরন বদলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। কোনও বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে ব্যাখ্যা খোঁজা, পরীক্ষার আগে প্রস্তুতির পরিকল্পনা, প্রস্তুতিপরীক্ষা (মক টেস্ট) দেওয়া কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার তৈরির মতো নানা কাজে এআই ব্যবহার করছেন পড়ুয়ারা। তবে এআইয়ের সাহায্য নেওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারলে এই প্রযুক্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিকে সুপরিকল্পিত করে তোলা সম্ভব। কিন্তু পুরোপুরি এআইয়ের উপর নির্ভর করলে নিজের শেখার অভ্যাস ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
১। পড়ার রুটিন তৈরিতে সাহায্য নেওয়া
পরীক্ষার আগে কোন বিষয়ে কতটা সময় দেবেন, তা ঠিক করতে সমস্যা হলে এআইয়ের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। কোন কোন বিষয়ে প্রস্তুতি বাকি, দিনে কত ঘণ্টা পড়ার সুযোগ রয়েছে এবং পরীক্ষার আর কত দিন বাকি— এই তথ্যগুলি দিয়ে একটি পড়ার রুটিন তৈরি করা যেতে পারে। তবে সেই রুটিন নিজের সুবিধা অনুযায়ী বদলে নেওয়া জরুরি। যে বিষয়ে দুর্বলতা বেশি, সেখানে বেশি সময় দিতে হবে।
২। কঠিন বিষয় সহজ করে বোঝা
পাঠ্যবইয়ের কোনও বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে এআইকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে বলা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে বা একই বিষয় অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা যায়। গণিত, বিজ্ঞান কিংবা ইতিহাসের মতো বিষয়ে ধারণা স্পষ্ট করতেও এই পদ্ধতি কাজে আসতে পারে। তবে পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পাঠ্যবই ও শিক্ষকের ব্যাখ্যাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এআইয়ের দেওয়া তথ্য পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
৩। নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে এআইকে নির্দিষ্ট অধ্যায় থেকে বহু বিকল্পমূলক প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বা অনুশীলনের জন্য মক টেস্ট তৈরি করতে বলা যেতে পারে। উত্তর দেওয়ার পরে ভুলগুলি চিহ্নিত করে সেগুলির ব্যাখ্যাও চাওয়া যায়। এতে কোন বিষয়ে আরও অনুশীলন প্রয়োজন, তা বোঝা সহজ হয়। তবে এআইয়ের তৈরি প্রশ্নকে আসল পরীক্ষার প্রশ্ন বা নিশ্চিত সম্ভাব্য প্রশ্ন বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
৪। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও নোট তৈরি করা
বড় অধ্যায় পড়ার পরে তার মূল ধারণাগুলি সংক্ষেপে সাজাতে এআইয়ের সাহায্য নেওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, সূত্র, তারিখ কিংবা বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের তালিকাও তৈরি করা যায়। তবে শুধু সংক্ষিপ্ত নোট মুখস্থ না করে মূল অধ্যায় পড়া দরকার। সংক্ষিপ্তসারে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়েছে কি না, সেটাও যাচাই করতে হবে।
৫। ভুল বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি উন্নত করা
মক টেস্টে যে প্রশ্নগুলির উত্তর ভুল হচ্ছে, সেগুলি আলাদা করে রেখে এআইকে ভুলের কারণ বুঝিয়ে দিতে বলা যেতে পারে। একই ধরনের আরও প্রশ্ন তৈরি করতে বললে সেই বিষয়ে অনুশীলন করা যায়। তবে নিজের উত্তর নিজে যাচাই করার অভ্যাসও গড়ে তোল বেশি ভাল। শুধু সঠিক উত্তর জেনে নিলেই শেখা সম্পূর্ণ হয় না, কেন উত্তরটি সঠিক তা বোঝাও জরুরি।
এআই সব সময় নির্ভুল তথ্য দেয় না। কখনও ভুল তথ্য, ভুল সূত্র বা বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যাও দিতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি, পাঠ্যবই এবং নির্ভরযোগ্য শিক্ষামূলক সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত তথ্য, পরীক্ষার লগ-ইন সংক্রান্ত তথ্য বা গোপন নথি এআই-কে জানানো উচিত নয়। এআই দিয়ে তৈরি উত্তর হুবহু মুখস্থ না করে নিজের ভাষায় বোঝার চেষ্টা করাই ভাল।
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এআইকে শিক্ষকের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়মিত পড়াশোনা, নিজে লিখে অনুশীলন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সময় মতো পুনরাবৃত্তির সঙ্গে এআইয়ের সাহায্য মিলিয়ে নিতে পারলে প্রস্তুতি আরও কার্যকর হতে পারে।