Advertisement
E-Paper

গোখরো বা শঙ্খচূড়ের বিষ থেকে বাঁচাবে বিশেষ অ্যান্টিভেনম! ডেনমার্কের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় সাফল্য আইআইএসসি-র

আইআইএসসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক। সাপের বিষে বিভিন্ন ধরনের টক্সিন থাকে, যা স্নায়ু, রক্ত বা কলাকোষে আক্রমণ করে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কার্যকর চিকিৎসা তৈরি করা খুব কঠিন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৩৯
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

গোখরো বা শঙ্খচূ়ড়ের মতো সাপের বিষের প্রতিষেধক আবিষ্কারে সাফল্য পেল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (আইআইএসসি), বেঙ্গালুরু। প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন গবেষক, ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি-র (ডিটিইউ) সঙ্গে যৌথ ভাবে তৈরি করেছে একটি রিকম্বিন্যান্ট, ন্যানোবডি-ভিত্তিক অ্যান্টিভেনম। এটি ভারতীয় একাধিক প্রজাতির বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইআইএসসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক। সাপের বিষে বিভিন্ন ধরনের টক্সিন থাকে, যা স্নায়ু, রক্ত বা কলাকোষে আক্রমণ করে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কার্যকর চিকিৎসা তৈরি করা খুব কঠিন।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে সব অ্যান্টিভেনম প্রচলিত, সেগুলির কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সব ধরনের সাপের বিষে একই ধরনে অ্যান্টিভেনম কাজে আসে না, আবার তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এক একজন রোগীর ক্ষেত্রে এক রকম। তা ছাড়া, পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে অনেক প্রাণহানি (মনুষ্যেতর) ঘটে থাকে। গোটা পদ্ধতিটি যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ।

এই সমস্যার সমাধানেই আইআইএসসি-র সেন্টার ফর ইকোলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর সহযোগী অধ্যাপক কার্তিক সুনাগর এবং ডিটিইউ-র অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস লাউস্টসেন বিভিন্ন ভারতীয় গোখরো প্রজাতির বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর একটি অ্যান্টিবডি তৈরি করেন। ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণায় জানা যায়, বিভিন্ন ভারতীয় গোখরোর বিষের সাহায্যে উটজাতীয় প্রাণীর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়। এর আগে লাউস্টসেন ও তাঁর সহকর্মীরা বিভিন্ন আলপাকা ও লামার রক্ত থেকে অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে তা মাইক্রোবিয়াল কোষের সাহায্যে পরীক্ষাগারে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করেছিলেন।

সাধারণ অ্যান্টিভেনমের ক্ষেত্রে ঘোড়ার মতো প্রাণীকে বারবার বিষ দিয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে হয়। কিন্তু এই রিকম্বিন্যান্ট অ্যান্টিবডি মাইক্রোবিয়াল এবং মানব-উপযোগী এক্সপ্রেশন সিস্টেমেও তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে গবেষকেরা। আইআইএসসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ইঁদুরের উপর করা এক পরীক্ষায় এই ন্যানোবডি ককটেলটি স্পেকট্যাকলড কোবরা, মনোকলড কোবরা এবং ভারতের দুই প্রজাতির কিং কোবরার বিষের বিরুদ্ধে কাজ করে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। ন্যানোবডি ককটেলটি বিষের কার্যকলাপ নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি বিষকে তার নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হতেও বাধা দেয়।

গবেষকেরা জানান, বিষ প্রয়োগের ৩০ মিনিট পরেও অ্যান্টিভেনমটি কার্যকর ছিল এবং পক্ষাঘাত বা স্নায়ুবিষক্রিয়ার উপসর্গ থাকা ইঁদুরগুলিকেও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে আরও চিকিৎসাগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাপের প্রজাতিকে সুরক্ষার আওতায় আনতে অতিরিক্ত অ্যান্টিবডি উপাদান যোগ করা যেতে পারে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চল বা নির্দিষ্ট সাপের প্রজাতি অনুযায়ী রিকম্বিন্যান্ট অ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

Sanke Bite Research Antibody Test

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy