ক্রমেই কি মান পড়ছে ভারতের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির? এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকার স্থানাঙ্ক অন্তত তেমনই বার্তা দিচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ক্রমান্বয়ে ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একটু একটু করে পিছিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির স্থান।
মঙ্গলবারই এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির র্যাঙ্কিং তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা কিউএস বা কোয়াককারেরি সিমন্ডস। যার নাম— ‘দ্য কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং: এশিয়া ২০২৭’। এশিয়া মহাদেশ জুড়ে যে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় বা সমমানের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, সেই সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের ধরণ, গবেষণা, শিক্ষার মান, পরিবেশ, ইত্যাদি ১১টি শর্তের ভিত্তিতে ওই র্যাঙ্কিং তালিকা প্রকাশিত হয় প্রতি বছর। এ বছর সেই তালিকায় প্রথম ২০০-র মধ্যে ভারতের ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা আগের বারের থেকে সংখ্যায় একটু বেশি। তবে স্থানাঙ্কের ভিত্তিতে ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির প্রত্যেকটিরই সামান্য অবনতি হয়েছে।
তালিকায় থাকা ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে আইআইটি দিল্লি। র্যাঙ্কিংয়ে তারা এ বছর ৬৬তম। ২০২৫ সালে আইআইটি দিল্লির স্থান ছিল ৫৯-এ। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে আইআইটি দিল্লি ৪৪তম স্থানে ছিল।
একই ভাবে মানের অবনতি হয়েছে আইআইএসসি বেঙ্গালোর, আইআইটি বম্বে, আইআইটি মাদ্রাজ, আইআইটি খড়্গপুর, আইআইটি কানপুর, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়েরও।
আইআইএসসি বেঙ্গালোর যেমন ২০২৪ সালে ছিল ৬২তম স্থানে। ২০২৫-এ তা কিছুটা পিছিয়ে ৬৪ হয়। ২০২৬-এ তা আরও পিছিয়ে থেমেছে ৭৯তম স্থানে।
আইআইটি বম্বে ২০২৪ সালে ছিল ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে শীর্ষে। তার স্থান ছিল ৪০তম। ২০২৫-এ সেই স্থান অনেকটাই নেমে হয় ৭১। ২০২৬ সালের তালিকায় আইআইটি বম্বে রয়েছে ৮৩তম স্থানে।
২০২৪ সালে ৫৬তম স্থানে থাকা আইআইটি মাদ্রাজ ৭০-এ নেমে এসেছিল ২০২৫-এ। শেষ প্রকাশিত তালিকায় তার স্থান ৮৫-তে এসে ঠেকেছে।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়্গপুর ৬০তম স্থান থেকে ৭৭তম স্থান হয়ে ৯০-এ এসে পৌঁছেছে। কানপুরের আইআইটি ৬৭ থেকে ৭৭ (যুগ্ম ভাবে) হয়ে ২০২৬ সালে হয়েছে ৯৭তম।
প্রথম ১০০-র মধ্যে ওই ছ’টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানই স্থান পেয়েছে ভারতের। যে সংখ্যা আগে আরও বেশি ছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৪ সালে ৮১তম স্থান থেকে ২০২৫ সালে ৭৫তম স্থানে পৌঁছোলেও ২০২৬ সালে পিছিয়ে এসেছে ১০৬তম স্থানে।
এ ছাড়া ১০৪তম স্থানে রয়েছে চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়, ১২০তে আইআইটি গুয়াহাটি এবং ১২৪-এ আইআইটি রুরকী রয়েছে। তবে ২০২৪ সালে এশিয়ার প্রথম পঞ্চাশে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— আইআইটি বম্বে এবং আইআইটি দিল্লি থাকলেও ২০২৫ সাল থেকেই ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছে।
অন্য দিকে, এশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান দখল করেছে দ্য ইউনিভার্সিটি অফ হংকং। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিনের বেজিংয়ের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থানে বেজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়।