পদার্থবিদ্যার জগতে সর্বোচ্চ সম্মানগুলির অন্যতম হল ডির্যাক মেডেল। বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা সেই সম্মান পেয়েছেন। আর এ বার সেই সম্মান পেলেন এক ভারতীয় অধ্যাপক। দীপক ধর।
তাঁর নাম আমজনতা নাম না জানতে পারেন, তবে বিজ্ঞানের দুনিয়া তাঁকে চেনে মেকানিক্যাল ফিজ়িক্সে অবদানের জন্য! অধ্যাপক ধর-এর বার্নিং অ্যালগরিদম তত্ত্বটি থিওরিটিক্যাল ও স্ট্যাটিসটিকাল ফিজ়িক্স এবং কম্পিউটার সায়েন্সের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়াও পদার্থ বিজ্ঞানের বহু জটিল সমস্যার সমাধানে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন তিনি। সেই কাজকেই সম্মান জানাতে ওই সম্মান।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল ফিজ়িক্স গত ৪১ বছর ধরে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার দুনিয়ায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করছে ডির্যাক পদক। বহু বিশ্বখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানীকে ওই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে যে চার জন বিজ্ঞানীকে ডির্যাক সম্মান জ্ঞাপনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যেই একজন হলেন দীপক।
ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমির অধ্যাপক দীপককে ২০২৩ সালে তাঁর কাজের জন্য পদ্মভূষণ সম্মান দিয়েছিল ভারত সরকার। তার আগের বছর ২০২২ সালে প্রথম ভারতীয় বিজ্ঞানী হিসাবে ফলিত পদার্থবিদ্যার সম্মান বোল্টজ়ম্যান মেডেলও পেয়েছিলেন দীপক। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় ভারতের যত বিজ্ঞানী রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম তিনি। গত কয়েক দশক ধরে পদার্থবিদ্যার বহু জটিল সমস্যার সমাধানে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। আর এ হেন বিজ্ঞানীর বিজ্ঞানে আগ্রহ জন্মায় একটি পত্রিকার বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিবেদন পড়তে গিয়ে।
১৯৫১ সালে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে জন্ম দীপকের। মায়ের ইচ্ছে ছিল তিনি আইএএস অফিসার হবেন। তবে বাবা দীপকের জন্য নিয়মিত বাড়িতে আনতেন বিজ্ঞানের নানা পত্র-পত্রিকা। তেমনই এক পত্রিকায় এক প্রতিবেদন পড়ে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েন দীপক। সেখান থেকেই শুরু। তার পরে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, কানপুর আইআইটি হয়ে বিজ্ঞানের আগ্রহ মেটাতে রিচার্ড ফেনম্যান ফেলোশিপ নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে পড়াশোনা করতে যান। ১৯৭৮ সালে পিএইচ়ডি সম্পূর্ণ করে দেশে ফিরে যোগ দেন মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ এবং আইআইএসইআর পুণেতে। আপাতত তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরটিক্যাল সায়েন্সেস-এর সঙ্গে যুক্ত।