Advertisement
E-Paper

‘ধর্মে-ধর্মে বিভেদ করে দেশ টুকরো করছে বিজেপি’! ‘দেশবিরোধী’ নিশানার বিপক্ষে মুখ খুললেন যাদবপুরের পড়ুয়ারা

রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, যাদবপুরে দেশবিরোধী গতিবিধি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পরিবর্তন চাইছেন তাঁরা। ফলে যা ঘটছে, তা পরিবর্তনের সময় ঘটেই থাকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০২৬ ১৫:০৯
অরবিন্দ ভবনের গাড়ি-বারান্দায় পড়ুয়াদের জমায়েত।

অরবিন্দ ভবনের গাড়ি-বারান্দায় পড়ুয়াদের জমায়েত। নিজস্ব চিত্র।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তুলছে শাসকশিবির। এ নিয়ে সরব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। শুক্রবারই সাংবাদিকদের তাঁরা জানিয়েছিলেন বার বার এ ভাবে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দেওয়া তাঁরা মেনে নেবেন না। সে রাতেই পড়ুয়াদের তরফে একটি অভিযোগ দায়ের হয় যাদবপুর থানায়। বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল দাস-সহ বেশ কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এ দিকে, শুক্রবার রাতেই সুর নরম করেছেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তিনি একটি ভিডিয়োবার্তায় দাবি করেন, কে বা কারা মুখে গেরুয়া আবির মেখে বিজেপি সাজার চেষ্টা করছেন। শনিবার সকালে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, যাদবপুরে দেশবিরোধী গতিবিধি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পরিবর্তন চাইছেন তাঁরা। ফলে যা ঘটছে, তা পরিবর্তনের সময় ঘটেই থাকে।

মন্ত্রী বলেন, “যাদবপুর সব সময়ই ব্যতিক্রমী। যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ওখানে যারা আন্দোলন করে তারা ভাবে, এটা ভারতের বাইরে একটা জায়গা। এখানে ভারতের সংবিধান চলবে না, রীতিনীতি, স্লোগান কিছুই ওখানে চলবে না। ওখানে বিদেশি স্লোগান চলবে— এটা তো বেশিদিন চলতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, ঘেরাও আন্দোলনের সংস্কৃতি রক্তে মিশে গিয়েছে। এ দিকে দুনিয়া পাল্টে গিয়েছে। দিলীপের কথায় উঠে আসে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “সব পাল্টে গেল, এখানে শেষ লড়াইটা চলছে। দেশবিরোধী গতিবিধি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এখানে। তার পরিবর্তন চাই।”

একই সুরে মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনও। শুক্রবার তিনি বলেন, “যাদবপুরের ভাবমূর্তি কী, তা গোটা দেশ বা পৃথিবী জুড়ে সকলেই জানেন। ভারতবর্ষকে টুকরো করার কথা বলবে, আর কেউ কিছু বলবেন না সেটা হতে পারে না। যা রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে বোঝা গিয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রতীক এক বিশেষ পক্ষের তরফে ভাঙা হয়েছে। যাঁরা ভেঙেছেন তাঁরাই আজ বড় কথা বলছেন। এটা হওয়া উচিত নয়।”

শুক্রবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও দাবি করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশে নেতিবাচক ভাবে শিরোনামে আসে। সমাজমাধ্যমের বার্তায় তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও ক্ষতি হতে দেবেন না।”

এ সব মন্তব্যের প্রতিবাদে সুর চড়িয়েছেন পড়ুয়ারা। শনিবার আনন্দবাজার ডট কম-কে আরএসএফ-এর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পাদক ইন্দ্রানুজ রায় বলেন, “টুকরে টুকরে গ্যাং আসলে আরএসএস-বিজেপি। ওরাই হিন্দু-মুসলমান বিভাজন করে দেশটাকে টুকরো করে ফেলতে চাইছে।” তিনি দাবি করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চায়, দেশে যেন সবাই সমান ভাবে থাকতে পারে। সেই চেষ্টা করে যেতে হবে। এটাই দেশপ্রেম। যাদবপুর এই নীতিতে বিশ্বাসী।

ডিএসও-র যাদবপুর ইউনিটের সভাপতি শুভাশিস জানা বলেন, “বিজেপি-আরএসএস চায় না প্রকৃত গণতন্ত্র বজায় থাকুক। কারণ, সুস্থ গণতন্ত্রে শাসক-বিরোধিতা থাকবেই। যাদবপুরের ইতিহাস বরাবর গণতন্ত্রের পক্ষে, অগণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। শাসক কখনওই বিরোধী স্বর সহ্য করতে পারে না। তাই বার বার যাদবপুরের উপরই আক্রমণ আসে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই— ব্রিটিশ বিরোধিতা যাদবপুর করেছিল, আপনারা নয়।”

এসএফআই-এর তরফে যাদবপুরের স্নাতকোত্তর ছাত্র অঞ্জিল দাস বলেন, “যারা আমাদের দেশবিরোধী বলে, আসলে তারাই দেশবিরোধী। তারা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটই জানেন না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের কৃতিত্বে ভারতে চন্দ্রযান অভিযান হবে। তাতে হাততালি পাবেন প্রধানমন্ত্রী, আমরা হব দেশবিরোধী? আসলে আপনারাই দেশদ্রোহী। মনে রাখবেন, আপনাদের আছে নাথুরাম, আমাদের ক্ষুদিরাম।”

আইসা-র তরফে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সৌমিলি দাস বলেন, “বিজেপি মনে করে তারাই দেশ, তাই তাদের বিরোধিতা মানেই দেশের বিরোধিতা। শিক্ষার উপরে হামলার বিরোধিতা করলে যদি দেশের বিরোধিতা করা হয়, তা হলে আমরা তা-ই। বিজেপি সরকারের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেই যদি রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়, তবে আমরা রাষ্ট্রদ্রোহী।’’

শুক্রবার বাম ছাত্রেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, সারা বিশ্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী পড়ুয়ারা ছড়িয়ে রয়েছেন। প্রশাসন থেকে গবেষণা, দেশের নানা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরা। পড়ুয়ারা প্রশ্ন তোলেন, চন্দ্রযান অভিযানের সময় ইসরো-তে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রাক্তনী কর্মরত ছিলেন। সেই প্রাক্তনীরাও কি দেশবিরোধী?

JU Students

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy