যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগের ঘটনার তদন্ত ভার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে (আইসিসি) দিলেন কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সোমবার অভিযোগপত্র ওই কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে যাদবপুর ক্যাম্পাসে প্রযুক্তি ভবনের সাততলায় সিঁড়িতে বসেছিলেন ওই অভিযোগকারিণী। সেই সময় পাঁচতলা থেকে এক ব্যক্তি তাঁদের নীচে নেমে আসার জন্য ডাকেন। জানা গিয়েছে, ওই জায়গাটি তখন অন্ধকার ছিল। সে সময় সঙ্গীরা নেমে গেলেও ছাত্রীটি সেখানেই বসে ছিলেন। এর পরে ওই কর্মী সাততলায় ছাত্রীটির কাছে যান এবং তাঁকে নিয়ে ৬ তলায় নেমে আসেন। সেখানেই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি হয় বলে অভিযোগ।
নীচে নেমে ছাত্রী বিষয়টি বন্ধুদের জানান। তার কিছুক্ষণ পরে বিজ্ঞান বিভাগের ওই অভিযুক্ত কর্মী নীচে নামলে তাঁর সঙ্গে ওই পড়ুয়াদের তর্কাতর্কি হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই উপাচার্যের কাছে প্রায় ১৫-১৬ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, প্রযুক্তি ভবনের সাত তলায় কোনও ক্লাস ছিল না। সন্ধ্যার সময় ওই এলাকায় অন্ধকার ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানা গিয়েছে, ওই কর্মী কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, ওই সন্ধ্যায় তিনি সেখানে উপস্থিত পড়ুয়াদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তাঁরা কলা বিভাগের পড়ুয়া হয়ে অন্ধকারে প্রযুক্তি ভবনের উপরে কী করছেন? তাঁদের নীচে নেমে যেতে বলেন ওই কর্মী। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।
অভিযুক্ত কর্মীর দাবি, তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার আর্জিও জানিয়েছেন ওই কর্মী। সেই মতোই আইসিসি-র কাছে ঘটনার তদন্ত করে দেখার জন্য পাঠানো হয়েছ। এক কর্তা জানান, আপাতত ওই কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।