Advertisement
E-Paper

ঘরে শয্যাশায়ী ছেলে, মা পড়তে যেতেন কোচিংয়ে! গুঞ্জার লেখা নোট পড়েই আইআইটি দিল্লিতে গুঞ্জন

ফুসফুস ফেটে হাওয়া জমে গিয়েছিল বুকের দেওয়াল এবং ফুসফুসের মাঝে। শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন গুঞ্জন। পরীক্ষা দেওয়া প্রায় অসম্ভব বুঝেও হাল ছাড়তে চাননি তিনি। আর ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে সেই হাল ধরেছিলেন গুঞ্জা নিজে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ১৫:৫২

ছবি: সংগৃহীত।

এ দেশের মহাকাব্যে গাঁথা পৃথা আর পার্থের কাহিনি। মহাভারতের মা-ছেলে যেমন আলোচিত, গত কয়েক দিনে প্রায় তেমনই আলোচনা চলছে গুঞ্জা-গুঞ্জনকে নিয়েও। বিহারের সীতামঢ়ীর মাতা-পুত্র। মেধাবী ছেলের অসুস্থতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মা পড়াশোনা করেছেন প্রাণপণ। ছেলেও লড়েছেন একই ভাবে। আপাতত গুঞ্জন প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বপ্নপূরণের, আইআইটি দিল্লিতে ভর্তি হবেন তিনি।

এ কাহিনি শুরু অনেক আগে। সীতামঢ়ীর বাসিন্দা গুঞ্জন কুমারের চোখের সমস্যা ছোটবেলার। ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি নিয়েই পড়াশোনা করেছেন। ধীরে ধীরে কমছে চোখের জোর। পরিস্থিতি এমনই, খালি চোখে দেখতে পান না কিছুই। মোটা কাচের চশমা সর্বক্ষণের সঙ্গী। দ্বাদশের পর রাজস্থানের কোটা থেকে জেইই অ্যাডভান্সড-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সঙ্গে থাকতেন তাঁর মা-ও। কিন্তু বাদ সাধল শরীর।

৫ অক্টোবর, ২০২৫-এ জয়েন্ট এন্ট্রান্সের আগেই ধরা পড়ে নিউমোথোরাক্সও। ফুসফুস ফেটে হাওয়া জমে গিয়েছিল বুকের দেওয়াল এবং ফুসফুসের মাঝে। শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন গুঞ্জন। পরীক্ষা দেওয়া প্রায় অসম্ভব বুঝেও হাল ছাড়তে চাননি তিনি, আর ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে সেই হাল ধরেছিলেন গুঞ্জা নিজে।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলের কোচিং ক্লাসে বিশেষ অনুমতি নিয়ে উপস্থিত হতেন গুঞ্জা। পড়া শুনতেন, লিখে নিতেন সব খুঁটিনাটি। তার পর বাড়ি ফিরে বসতেন শয্যাশায়ী ছেলের পাশে। মুখে মুখেই মা পড়িয়ে দিতেন ছেলেকে, যেমন দিতেন সেই ছোটবেলায় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার আগে। গুঞ্জা নিজেই লিখে রাখতেন নোট। সে সবই মাঝে মাঝে পড়ে নিতেন গুঞ্জন, অসুস্থ শরীরে।

এ বার জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্‌জ়ামিনেশনে ৯১.৮ পার্সেন্টাইল পেয়েছেন গুঞ্জন। স্নাতক স্তরে আইআইটি, দিল্লিতে ভর্তি হবেন। এই সাফল্যের সব কৃতিত্বই মায়ের, সংবাদমাধ্যমকে এমনই জানিয়েছেন গুঞ্জন। তিনি বলেন, “আমার মা যা করেছেন, তাকে অত্যাশ্চার্য বলতে হয়। যে কোনও সময়েই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। পরীক্ষায় বসার জন্য শুধু জ্ঞান থাকাই যথেষ্ট নয়। সাহসেরও প্রয়োজন। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মা আমার পাশে ছিলেন।”

বিহারের গৃহবধূ গুঞ্জা নিজে শিক্ষকতার পেশা গ্রহণ না করলেও বিএড উত্তীর্ণ। ফলে পড়ানোর বিষয়ে তাঁর যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। তিনি বলেন, “ছেলের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। আমার লেখা নোট পড়ে ও ভাল নম্বর পেয়েছে, এতেই আমি খুব খুশি।”

আইআইটি দিল্লি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়বেন গুঞ্জন। তবে, ভবিষ্যতে কী হতে চান, তা এখনও স্থির করে উঠতে পারেননি ওই কৃতী। জানা গিয়েছে, তাঁর ছোট ভাইও কোটা থেকেই জেইই অ্যাডভান্সড-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

IIT Delhi Kota

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy