তরুণ প্রজন্মের মন বোঝা এবং তাদের বোঝানোর চেষ্টা আগেই করেছেন প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতাতেও দেখা গেল বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্মের সমস্যা। লালকেল্লা থেকে শনিবার তরুণ-তরুণীদের জন্য একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মোদী।
এ দেশের তরুণ-তরুণী বা ছাত্রছাত্রীরা যে সব সমস্যার সম্মুখীন হন সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে একটি অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং ক্লাসের টিউশন ফি হিসাবে মোটা টাকা খরচ। সন্তান বড় হয়ে আইএএস, আইপিএস অফিসার হবে বা সরকারি কোনও চাকরি করবে কিংবা চিকিৎসক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে ভেবে বাবা-মায়েরা লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করেন টিউশন ফি হিসাবে।ছেলেমেয়ের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনে নিঃস্ব হয়েও খরচ করেন লাখ লাখ টাকা। কেউ ঋণ নিয়ে সেই টাকা দেন। কেউ বাড়ি বন্ধক রাখেন। বছরের পর বছর বাড়ি থেকে দূরে থেকে বাবা-মায়ের পরিশ্রমের উপযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে সন্তানেরাও। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এই যে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ প্রক্রিয়া, তাতেই ইতি টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে মোদী জানিয়েছেন, সরকারের তরফে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং-এর ব্যবস্থা করা হবে। মোদী বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে একটা অনেক বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচিং ক্লাসগুলির টিউশন ফি। সব বাবা-মায়েরই মনে হয়, কোচিং ক্লাসে যদি সন্তানকে না পাঠানো যায়, তবে সম্মান থাকবে না। ওই গরিব আর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির কথা মাথায় রেখেই, তাদের লক্ষ লক্ষ টাকার খরচের বোঝা বাঁচাতে নতুন পদক্ষেপ করছে সরকার। দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং করানো হবে। ’’
দেশ জুড়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থীকে কোন উপায়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার, স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় তার সম্ভাব্য পরিকল্পনাও বলেছেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে। আমাদের কাছে মেধা রয়েছে, ভাল শিক্ষক রয়েছে। সেই সমস্ত সুবিধার একটার সঙ্গে আর একটাকে জুড়ে আমরা দেশের তরুণ প্রজন্মকে ফ্রি কোচিং দেওয়ার একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করব।’’
পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রশিক্ষণের জন্য তরুণদের ঘরছাড়া হওয়া, বাবা-মা-পরিজনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার বিষয়টিকেও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন মোদী। তিনি বলেছেন, ‘‘সন্তানেরা বাবা-মায়ের কাছে থেকে, তাদের যত্ন পেয়েই ভবিষ্যতের পথ সুগম করতে পারবে।’’
তবে শুধু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনলাইন কোচিং নয়, তরুণ প্রজন্মকে এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার জন্য বিশেষ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্কিলিং কোর্সও চালু করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১ কোটি তরুণকে সরকারের তরফে ওই কোর্স করানো হবে।