কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি এবং সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সোমবার প্রতীকী অনশনে বসলেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার এই অনশনে বার বার দাবি ওঠে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার।
দর্শনের প্রথম বর্ষের ছাত্র শুভ্রদেব ঘোষ বলেন, “একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে পারতেন। বদলে সোনম ওয়াংচুকের মতো এক বিজ্ঞানীকে দেশদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের বিরোধী। আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি দাবি করছি।”
ডাক্তারি প্রবেশিকার পরীক্ষা নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁসের পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানে যোগ দেন সোনম ওয়াচুক। প্রায় ২১দিন পর দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে তাঁকে পুলিশ জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তিনি অনশন ভাঙেননি।
সোমবার হাসপাতাল থেকে বন্ধু ও সমর্থকদের উদ্দেশে সোনম লিখেছেন, ‘‘আপনারা অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন, আমি অনশন কবে ভাঙব। আগেই বলেছিলাম, আমি ২০ জুলাই অনশন ভাঙতে পারি যদি—
সরকার শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলির (প্রশ্নফাঁস ইত্যাদি) দায় নেয়।
আরও পড়ুন:
অথবা, যদি আমি এবং সিজেপি নেতৃত্ব সংসদ ভবনে যেতে পারি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-সাংসদেরা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হবে বলে আমাদের আশ্বাস দেন।
অথবা, শারীরিক এবং অন্য পরিস্থিতির কারণে আমি সংসদে যেতে না-পারলে যদি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-সাংসদেরা এই হাসপাতালে এসে আমার সঙ্গে দেখা করেন এবং উপরোক্ত আশ্বাস দেন।’’
পূর্ব ঘোষিত সূচি মেনে ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযান করে সিজেপি। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন।
এই অবস্থায় এ দিন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা জানান, এই লড়াই শুধু সোনম ওয়াংচুকের বা ছাত্রছাত্রীদের নয়, এই লড়াই দেশবাসীর। পারফর্মিং আর্টসের এক ছাত্রী বলেন, ‘‘এই লড়াইয়ে আমার পাশে আছি। এই বার্তা দিতেই এই অনশন। প্রশ্ন করা আমাদের অধিকার।’’
সোমবার যাদবপুর বিশ্বদ্যালয়েও প্রতিবাদ মিছিল করেন পড়ুয়াদের একাংশ।