প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে তথ্যপ্রযুক্তি বা বিজ্ঞানের শাখাগুলিতে এআই-এর বহুল ব্যবহার থাকলেও সাহিত্য ও ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োগভিত্তিক পাঠ্যক্রমের সুযোগে সীমিতই। এই খামতি মেটাতে এ বার বিশেষ পদক্ষেপ করছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ চালু করছে একটি নতুন ভ্যালু অ্যাডেড কোর্স— ‘ফ্রম ল্যাঙ্গুয়েজ টু ইন্টেলিজেন্স: কম্পিউটেশনাল থিংকিং অ্যান্ড এআই ইন বেঙ্গলি স্টাডিজ়’।
এই পাঠ্যক্রমটি শুধু এআই ব্যবহারের তাত্ত্বিক বা প্রাথমিক ধারণাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং বাংলা সাহিত্য ও ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার বাস্তব সমস্যাগুলি কী ভাবে প্রযুক্তির সাহায্যে সমাধান করা যায়, প্রার্থীরা তা হাতে-কলমে শিখতে পারবেন। সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রমটি প্রকল্পভিত্তিক। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়তে পড়তেই বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
পাইথন ও মেশিন লার্নিং, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, ওপেন সোর্স এআই টুলসের ব্যবহার শেখা যাবে এই কোর্সের মাধ্যমে। বাংলা সাহিত্য ও ভাষা নিয়ে কাজ করা শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রশিক্ষণ একটি বড় সম্ভাবনা উন্মোচন করবে বলেই মনে করছে বাংলা বিভাগ (কোর্সটির আয়োজক বিভাগ)। বাংলা ভাষার তথ্যভান্ডার, এআই-নির্ভর টেক্সট ও সাহিত্য বিশ্লেষণ থেকে ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ় পড়ানো হবে। পাশাপাশি, কম্পিউটারের সাহায্যে ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যের গভীর বিশ্লেষণ করা হবে।
ভাষা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে গবেষণার আধুনিক ধারা তৈরি করবে বলে মন করছেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক দেবারতি জানা। তিনি জানিয়েছেন, এই পাঠ্যক্রমের অধীনে শিক্ষার্থীরা যে প্রকল্প তৈরি করবেন, তা সাধারণ মূল্যায়নের বাইরে নয়া দিশা দেখাতে পারে। ভবিষ্যতে এগুলি উচ্চতর গবেষণা, নতুন স্টার্ট-আপ তৈরি, এমনকি উদ্ভাবনী কাজের মেধাস্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
যে কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে যে কোনও বিভাগের দ্বাদশ উত্তীর্ণ পড়ুয়ারা আবেদন করতে পারবেন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে আবেদনপ্রক্রিয়া। এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে ও আবেদন করতে আগ্রহীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে https://presiuniv.ac.in/web/vacbengali300720261.php যেতে বলা হয়েছে।