কম খরচে পড়াশোনা, উন্নত জীবনযাপন, পড়াশোনাশেষে চাকরির সুযোগ এবং ভাল মানের শিক্ষার কারণে ভারতীয় পড়ুয়াদের কাছে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বহুদিন ধরেই। কিউএস র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা পড়ুয়ার শহরগুলির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে জার্মানির তিনটি বড় শহর—মিউনিখ, বার্লিন এবং স্টুটগার্ট।
পড়াশোনার পাশাপাশি ইউরোপের শেনগেন এলাকাভুক্ত বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ মেলায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষাসংস্থা ‘কিউএস’ (কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস) জার্মানিতে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার নিয়মাবলি ও নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
জার্মান স্টুডেন্ট ভিসার ধরন
১। স্ট্যান্ডার্ড স্টুডেন্ট ভিসা: ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের শিক্ষার্থীরা ব্যাচেলর, মাস্টার্স বা গবেষণা সংক্রান্ত কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেলে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।
২। ইউনিভার্সিটি প্লেসমেন্ট ভিসা: যে সব শিক্ষার্থীর জার্মানিতে পড়ার ইচ্ছে, কিন্তু এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চূড়ান্ত সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য এই ভিসা।
৩। ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডি প্রোগ্রাম ভিসা: মূলত জার্মানির ভাষাশিক্ষা কোর্সে নথিভুক্ত পড়ুয়াদের জন্য এই ভিসা প্রযোজ্য।
৪। পোস্ট-স্টাডি জব-সিকিং রেসিডেন্স পারমিট: পড়াশোনাশেষে চাকরি খোঁজার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১৮ মাসের এই রেসিডেন্স পারমিট দেওয়া হয়।
ভিসা আবেদনের জন্য বৈধ পাসপোর্ট, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির চিঠি, স্বাস্থ্যের বিমা, বাসস্থানের প্রমাণ এবং বায়োমেট্রিক ছবি প্রয়োজন হয়। আবেদনের ফি হিসাবে প্রায় ৯,৫৮১ টাকা (৭৫ পাউন্ড) ধার্য করা হয়ে থাকে।
শিক্ষার্থীদের নিজস্ব খরচ চালানোর প্রমাণস্বরূপ বছরে অন্তত ১৫,২০,৭১৫ টাকা (১১,৯০৪ পাউন্ড) ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রাখতে হবে, যা স্কলারশিপ বা স্পনসরের মাধ্যমে দেখালেও হয়। এ ছাড়া বাসস্থানের ভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও পড়ালেখার আনুষঙ্গিক খরচের জন্য মাসে গড়ে প্রায় ১,১৪,৯৫৪ টাকা থেকে ১,৫৩,২৮৪ টাকা প্রয়োজন হয়। অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে সুযোগ পেলে টিউশন ফি অনেক সময়ই দিতে হয় না। জার্মানিতে সেমেস্টার চলাকালীন শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত ‘পার্টটাইম’ কাজ করার সুযোগ পান। তবে ছুটির সময়ে ফুলটাইম কাজ করার সুযোগ থাকে।
কিউএস তালিকায় থাকা জার্মানির সেরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি হল:
১। টেকনিশে উনিভার্সিটেট মিউনিখ।
২। লুডভিগ-মাক্সিমিলিয়ান্স উনিভার্সিটেট মিউনিখ।
৩। হাইডেলবার্গ উনিভার্সিটেট।
৪। ফ্রাইয়ে উনিভার্সিটেট বার্লিন।
৫। আরডব্লিউটিএইচ আখেন উনিভার্সিটেট।
৬। কেআইটি, কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি।
৭। হুমবোল্ট উনিভার্সিটেট বার্লিন।
৮। টেকনিশে উনিভার্সিটেট বার্লিন।
৯। টেকনিশে উনিভার্সিটেট ড্রেসডেন।
১০। রাইনিশে ফ্রিডরিশ-ভিলহেলম্স উনিভার্সিটেট বন।
কী ভাবে আবেদন করবেন?
প্রথমে পছন্দসই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে ভর্তির চিঠি নিশ্চিত করতে হয়। এর পর আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণপত্র ও অন্যান্য নথিপত্র সংগ্রহ করে ‘কনসুলার সার্ভিস পোর্টাল’ বা নিকটস্থ জার্মান দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন জানাতে হয়। ভিসার সাক্ষাৎকার সফল হলে জার্মানি পৌঁছে নতুন ঠিকানার রেজিস্ট্রেশন, হেলথ ইনসুরেন্স অ্যাক্টিভেশন এবং লোকাল ফরেনার্স অফিসে রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেও তাদের ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
তবে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানেই সব ক্ষেত্রে একেবারে বিনামূল্যে পড়াশোনা হয়, তা নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা কিছু রাজ্যে টিউশন ফি থাকতে পারে। যেমন বাডেন-ভুর্টেমবেয়ার্গ রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ‘নন-ইইউ’ (ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিক) শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ফি রয়েছে। আবার টেকনিশে উনিভার্সিটেট (টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি) মিউনিখেও নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ধার্য করা হয়।