যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের দেওয়াললিখন। এ বার আসরে দক্ষিণপন্থী ছাত্রসংগঠন এনএসএফ। শুক্রবার বামপন্থীদের বিঁধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘স্ফুলিঙ্গ’ কাব্যগ্রন্থের ১৬৪তম কবিতার প্যারোডি দেওয়ালে লিখে দিলেন সংগঠনের সদস্যেরা।
এর আগে, বুধবার গভীর রাতে হিটলার, মুসোলিনি এবং আরএসএস- কে নিশানা করে দেওয়াললিখন হয়েছিল যাদবপুরের বাম মনোভাবাপন্ন ছাত্র সংগঠনের তরফে। শুক্রবার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালেও ফ্যাসি-বিরোধী স্লোগান লেখা দেখা যায়।
এ রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকে যাদবপুরের ছাত্রদের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। ক্যাম্পাসে ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপ’ চালানো হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি-র বেশ কিছু নেতানেত্রী। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, যাদবপুরের দেওয়ালে লেখা থাকে দেশবিরোধী স্লোগান, টাঙানো থাকে পোস্টার। তার পর থেকেই দেওয়ালে দেওয়ালে শুরু হয়েছে স্লোগানের দ্বন্দ্ব। গত বুধবার জানা যায়, গভীর রাতে পুরসভার কর্মী এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পাসের বেশ কিছু স্লোগান লেখা দেওয়ালে চুনকাম করা হয়েছে। তার আগেই উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত ভাবে তিনি ক্যাম্পাসের যত্র তত্র এমন দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্লোগান লেখার পক্ষপাতী নন। তিনি আবেদন জানান পড়ুয়ারা যেন নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ালে স্লোগান লেখেন।
সংগৃহীত।
বুধবার পুরসভার তরফে দেওয়ালে চুমকাম করা হলেও বৃহস্পতিবার ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে রাজনৈতিক বক্তব্য ও স্লোগান লেখা হয়। দায় স্বীকার না করলেও অনুমান করা যায়, ওই সব দেওয়ার লিখন বামেদের তরফেই হয়েছে।
এ দিকে বৃহস্পতিবারই যাদবপুর এলাকার বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন যাদবপুরের দেওয়ালে-দেওয়ালে থাকবে না নন্দলাল বসুর আঁকা রামায়ণের চিত্র, যা ভারতীয় সংবিধানের পাতায়-পাতায় আঁকা রয়েছে? কেন সেখানে বিদেশি রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা লেখা থাকবে? কেন ভারতীয় মনীষীদের বাণী লেখা থাকবে না?
এর পরই শুক্রবার আসরে নেমেছে এনএসএফ। দক্ষিণপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের নিশানায় বামেদের ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান। এনএসএফের দাবি, বামেরা গাজ়া বা ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক নিয়ে যত ভাবিত, ঘরের পাশে বাংলাদেশের হিন্দুহত্যা নিয়ে ততখানি নয়। এ ক্ষেত্রেই তাঁরা ব্যবহার করেছেন রবীন্দ্রনাথের ‘স্ফুলিঙ্গ’ কাব্যগ্রন্থের কবিতা, ‘বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে’-এর পংক্তিগুলি।
এনএসএফ-এর তরফে সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দেওয়াল কারও একার নয়, দেওয়াল সবার। জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে যাঁরা স্লোগান লেখে তাঁদের বলে দিতে চাই, আমরা জাতীয়তাবাদের পক্ষেই স্লোগান লিখব। জাতীয়তাবাদ বিরোধীদের এই ক্যাম্পাসে কোনও ঠাঁই নেই।”