E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

পড়ুয়াদের দায়িত্বে শিক্ষক, প্রাথমিকে পঠন-পদ্ধতি বদলানোর ইঙ্গিত

গত শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে চালু হয়েছে সিমেস্টার পদ্ধতিতে মূল্যায়ন। তবে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের একাংশের মতে, তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টারের মধ্যে পড়ার সময় তারা কম পাচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৮

—প্রতীকী চিত্র।

প্রাথমিকে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের পদ্ধতি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাল্টানোর ইঙ্গিত দিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বিদ্যাসাগর ভবনে নবনিযুক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে দীপক জানান, প্রাথমিকের ক্লাসগুলিতে এক জন শিক্ষককে একটি ক্লাসের বা ক্লাসের কয়েক জন পড়ুয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। ওই পড়ুয়ারা কতটা শিখল, তার দায়ভার ওই শিক্ষকের। ওই পড়ুয়ার শিক্ষায় খামতি থাকলে জবাবদিহি করতে হবে সেই শিক্ষককে।

দীপক বলেন, ‘‘প্রাথমিকের পড়ুয়াদের কি আদৌ আলাদা করে বাংলা, ইংরেজি, ভূগোল, অঙ্কের শিক্ষকের প্রয়োজন আছে? প্রাথমিকে শিক্ষকদের যা মেধা, তাতে তাঁরা যে কোনও শ্রেণিতেই সব বিষয় পড়ানোর দক্ষতা রাখেন। তাই আমরা একটি ক্লাসের এক জন শিক্ষককেই সব বিষয় পড়ানোর দায়িত্ব দিতে চাই। ধরা যাক, এক জন শিক্ষক একটি শ্রেণির ২০ জন পড়ুয়াকে সব বিষয় পড়ানোর দায়িত্ব নিলেন। ওই পড়ুয়ারা যদি পিছিয়ে যায়, তা হলে জবাবদিহি করতে হবে ওই শিক্ষককে।’’ সেই সঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের তাঁদের অধীনে থাকা বেসরকারি স্কুলগুলিরও খোঁজখবর নিতে বলেছেন মন্ত্রী। দীপক আরও বলেন, ‘‘বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুল আবেদন করছে, বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম চালু করতে। কিন্তু সমস্ত প্রাথমিক স্কুলে ইংরেজি মাধ্যম চালু করা আদৌ দরকার কিনা, তা ভেবে দেখতে হবে।’’

এ দিনের অনুষ্ঠানের শেষে উচ্চ মাধ্যমিকের সিমেস্টার পদ্ধতিতে মূল্যায়নে পড়ুয়ার যথাযথ উপকার হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন দীপক। তিনি বলেন, ‘‘অনেক শিক্ষক বলছেন, সিমেস্টার পদ্ধতিতে ছাত্রেরা যথাযথ উপকৃত হচ্ছে না। সিমেস্টার পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করে দেখছি।’’ ফলে প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি উচ্চ মাধ্যমিকে সিমেস্টার পদ্ধতির বদল হয়ে ফের আগের পদ্ধতি ফিরতে চলেছে?

গত শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে চালু হয়েছে সিমেস্টার পদ্ধতিতে মূল্যায়ন। তবে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের একাংশের মতে, তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টারের মধ্যে পড়ার সময় তারা কম পাচ্ছে। কিছু পড়ুয়ার মতে, কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ালে ভাল হত। তবে সিমেস্টার পদ্ধতিতে মূল্যায়নের কথা জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা আছে। রাজ্যের বর্তমান সরকারও সেই জাতীয় শিক্ষানীতিকেই অনুসরণ করার কথা জানিয়েছে। তাই এখনই এই পদ্ধতি বদলানোর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন শিক্ষক মহলের একাংশ।

এ দিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি লালু দাস, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি অসিতকুমার মণ্ডল, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রবিরঞ্জন সেন, রাজ্য সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। জগন্নাথ নবনিযুক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানদের বলেন, ‘‘আপনারা যখন দফতরে ঢুকবেন, দেখবেন, সেগুলি এক-একটি ঘুঘুর বাসা। আগের সরকারের ১৫ বছর ও তার আগের বাম আমলের এই ঘুঘুর বাসা আপনাদের ভাঙতে হবে।’’ তাঁর মতে, ‘‘ঘুষমুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। পরীক্ষা হতে হবে টুকলিমুক্ত। সেটা তখনই হবে, যখন পড়ুয়ারা নিজেরা কিছু শিখে লেখার মতো পরিস্থিতিতে যাবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Teachers Students

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy