ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রাথমিক বিভাগের ছাত্র দৃপ্ত পালকে সাপের কামড়ের অভিযোগ উঠতেই তৎপর হল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। মঙ্গলবার পরিস্থিতির সশরীরে খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্কুলে গিয়ে পরিদর্শন চালিয়েছে। তবে খবর, প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের সময় স্কুল চত্বরে কোনও সাপের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা দফতরের পাশাপাশি বন দফতরের প্রতিনিধিরাও এ দিন স্কুলে পৌঁছোন এবং পুরো চত্বরে সাপের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখেন। তবে বন দফতরের তল্লাশিতেও সাপের কোনও খোঁজ মেলেনি।
এই ঘটনার পরপরই পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা দফতর—
১। শ্রেণিকক্ষ ও শৌচাগার পরীক্ষা: প্রতিদিন স্কুল খোলার আগেই সব শ্রেণিকক্ষ এবং শৌচাগার ভাল ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
২। গর্ত ও ফাঁকফোকর মেরামত: স্কুল চত্বরে এমন কোনও গর্ত, ফাঁক বা নির্জন জায়গা রয়েছে কি না— যেখানে সাপ বা বিষাক্ত প্রাণী আশ্রয় নিতে পারে—তা অবিলম্বে পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
৩। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: স্কুলের চারপাশ সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪। ছোটদের শৌচাগার ব্যবহারে নজরদারি: কম বয়সি পড়ুয়াদের শৌচাগার ব্যবহারের সময় বিশেষ নজরদারির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অভিভাবক কিংবা স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী তাদের সাহায্য করতে পারবেন কি না, তা ভেবে দেখতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ছাত্র দৃপ্ত পালের শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। সমগ্র বিষয়টির উপর শিক্ষা দফতর নজর রাখছে এবং ওই ছাত্রের শারীরিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোমবার জানা যায়, ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রাথমিক বিভাগে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রকে সাপে কামড়েছে। দৃপ্ত পাল নামে ওই পড়ুয়ার বাড়ি টালিগঞ্জে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ টিফিন বিরতি চলার সময় ওই পড়ুয়া আক্রান্ত হয় বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর স্কুল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তার পর দ্রুত ওই ছাত্রকে এসএসকেএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, স্কুলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলেই ক্লাস হয় প্রাথমিক পড়ুয়াদের। কিন্তু টিফিন বিরতিতে ছোটরা একতলায় নেমে খেলাধুলা করছিল। সে সময়ই দৃপ্তের ডান হাতে সাপ কামড়ায় বলে মনে করা হচ্ছে। সাপটি তার পা বেয়ে উঠে থাকতে পারে। প্রাথমিক ভাবে শিক্ষকদের অনুমান, একতলার ১৩, ১৪ বা ১৫ নম্বর ঘরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাঁরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছেন।