একের পর এক ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এরই মধ্যে জাতীয়তাবাদী সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে একটি অসরকারি সংস্থা। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী-সহ বিজেপির তাবড় নেতা। আর এতেই আপত্তি তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের দাবি, এ ভাবে এত নেতাকে ক্যাম্পাসে আসার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আইনি সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
বুধবার জানা যায়, ‘হরিপদ ভারতী স্মৃতি রক্ষা সমিতি’ নামে এক সংগঠনের তরফে ৩ সেপ্টেম্বর ত্রিগুণা সেন মঞ্চে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। মঞ্চেই হবে বেদমন্ত্রপাঠ ও বন্দে মাতরম্ সঙ্গীত। ‘জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক ভারত’ শীর্ষক ওই আলোচনাসভার উদ্বোধক শমীক ভট্টাচার্য, প্রধান অতিথি রাহুল সিংহ, বিশেষ অতিথি স্বপন দাশগুপ্ত। এ ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসু, রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। এই তালিকাতেই আপত্তি আরএসএফ-এর।
বুধবার আরএসএফ-এর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সম্পাদক ইন্দ্রানুজ রায় অভিযোগ করেন, এ ভাবে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে কোনও অনুষ্ঠান করতে পারে একমাত্র কোনও শিক্ষাসংগঠন বা শিক্ষাক্ষেত্রে যুক্ত কোনও ব্যক্তি। এ ক্ষেত্রে তা ঘটছে না। ইন্দ্রানুজ বলেন, “২০২৫-এর মার্চে কলকাতা হাই কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছিল, যাঁরা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন রাজনৈতিক নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কোনও অনুষ্ঠান করতে পারবেন না। কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে নজর রাখতে হবে। এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে যে সংগঠন, তা কোনও ভাবেই শিক্ষাসংগঠন নয়। তাই এটা আদালত অবমাননা। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেব।” বুধবার দুপুরে আরএসএফ-এর তরফে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় উপাচার্যের কার্যালয়ে।
যদিও ত্রিগুণা সেন মঞ্চের দায়িত্ব যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সংসদের হাতে। তাদের কাছ থেকেই এই মঞ্চে কোনও অনুষ্ঠান করার অনুমতি চাইতে হয়। তবে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতরে ওই মঞ্চে কী অনুষ্ঠান হচ্ছে, তা দেখার দায়িত্বও কর্তৃপক্ষের।
সে কথা স্বীকারও করেছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। সাংবাদিকদের তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই ত্রিগুণা সেন মঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। চিরঞ্জীব বলেন, “এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও যোগ নেই। আমাদের অনুষ্ঠান নয়। ত্রিগুণা সেন মঞ্চ বাণিজ্যিক ভাবে ভাড়া দেওয়া হয়। ফলে সেখানে আমাদের কিছু বলা থাকতে পারে না। তবে আমি স্পষ্ট জানিয়েছি, যেহেতু ওই মঞ্চ ক্যাম্পাসের ভিতরে, তাই খেয়াল রাখতে হবে আপত্তিকর কোনও ঘটনা যেন না ঘটে।”