Advertisement
E-Paper

দশমীতেও এসআরএফটিআইয়ে পড়ুয়াদের মিছিল, উপাচার্যের পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

গত ২৭ সেপ্টেম্বরের গোলমাল এবং ৪ অক্টোবর ফের হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৫৫
দশমীতে ক্যাম্পাসে এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়াদের  মিছিল ও জমায়েত।

দশমীতে ক্যাম্পাসে এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়াদের মিছিল ও জমায়েত। — সংগৃহীত।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি, পড়ুয়াদের বহিষ্কার করার নির্দেশ প্রত্যাহার সহ একাধিক দাবিতে বুধবার দশমীর দিনে ক্যাম্পাসে মিছিল করলেন সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর পড়ুয়ারা।

গত ২৭ সেপ্টেম্বরের গোলমাল এবং ৪ অক্টোবর ফের হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে। একদিকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পড়ুয়ারা, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের তরফে উপাচার্যকে হেনস্থা এবং তাঁর ঘরে ভাঙচুরের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ছয় পড়ুয়াকে পরপর দু’টি সেমেস্টারের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে।

পুজোর ছুটির পরে বুধবার, ২১ অক্টোবর ইনস্টিটিউট খোলার কথা থাকলেও, কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সমস্ত ক্লাস স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেছে। এর আগে গত শুক্রবার পড়ুয়াদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশের পরেও ক্যাম্পাস ছাড়েননি আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের একাংশ। এর মধ্যে হস্টেল এবং মেস বন্ধ করে দেওয়ায় আবাসন ও খাবারের সমস্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি তাঁদের।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পড়ুয়ারা নিজেরাই ক্যাম্পাসের মধ্যে কমিউনিটি কিচেন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিক্ষিপ্ত ভাবে একদিন নিজেদের মধ্যে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থাও করেন তাঁরা। তবে তাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলেই দাবি পড়ুয়াদের। দ্রুত হস্টেল ও মেস চালু করার দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা পড়ুয়াদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে বাইরে থেকে থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পড়ুয়াদের অভিভাবকদের কাছেও ইমেল পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কত দিন পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ থাকবে, সেই তথ্য জানানোর পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও অচলাবস্থা কাটেনি।

আন্দোলনে পড়ুয়ারা।

আন্দোলনে পড়ুয়ারা। - সংগৃহীত।

এই পরিস্থিতিতে দশমীর দিন, বুধবারও ক্যাম্পাসের ভিতরে মিছিল করেন পড়ুয়ারা। তাঁদের প্রধান দাবি, উপাচার্য সন্তোষ আজমেরাকে পদত্যাগ করতে হবে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবরের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, ছয় পড়ুয়াকে আগামী দু’টি সেমেস্টারের জন্য বহিষ্কারের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। এক পড়ুয়া সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ আমাদের যে দাবিগুলি ছিল এখনও সেগুলিই রয়েছে। দ্রুত এই সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।’’

সব মিলিয়ে ক্লাস স্থগিত, হস্টেল ও মেস বন্ধ এবং বহিষ্কারের নির্দেশকে ঘিরে এসআরএফটিআইয়ের অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, তাঁদের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। যদিও কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিলেন, নবান্নের তরফ থেকে বিশেষ তদন্তকারী দল সিট তদন্ত করে নবান্নে সেই রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে কর্তৃপক্ষের পৃথক ভাবে তদন্ত করার কিছু নেই।

Students

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy